ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যের শিকড় অন্বেষার আলোকেই মিলবে আমাদের মুক্তির পথ: নাসিরুদ্দিন চৌধুরী

  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • 106

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাঙালির সংস্কৃতির জন্ম যেখানেই হোক না কেন, তার বিকাশ ও প্রসার ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। আর সেই ঐতিহ্যের শিকড় ও আমাদের অস্তিত্বের গৌরবকে মাটির নিচ থেকে খুঁড়ে তুলে এনেছিলেন মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। আজকের এই অবক্ষয়ের যুগে যদি আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাই, তবে তাঁর অন্বেষণ করা সেই শিকড়ের আলোকেই আমাদের মুক্তির পথ খুঁজতে হবে।

 

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আবেগঘন স্মরণসভায় এই আহ্বান জানান প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী আলোকবর্তিকা, কালজয়ী পুঁথি সংগ্রাহক ও গবেষক মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ-এর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আয়োজক কমিটি, চট্টগ্রাম’ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী সাহিত্যবিশারদের আজীবন কৃচ্ছ্রসাধন ও একনিষ্ঠ সাধনার কথা স্মরণ করে বলেন, “তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বড় ডিগ্রিধারী ছিলেন না, অথচ নিজ নিষ্ঠায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান। অবহেলিত, ধুলোবালিমাখা অজস্র প্রাচীন পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ ও প্রাচীন। আমাদের নতুন প্রজন্মের উচিত ঘরের কোণ থেকে বিশ্বদরবারে বাঙালিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এই মহিমান্বিত মানুষের জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও বেশি চর্চা করা।

 

কবি, প্রাবন্ধিক ও নাট্যজন অভীক ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর রীতা দত্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাহিত্যবিশারদ শুধু পুঁথি সংগ্রাহক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের আত্মপরিচয় সংকটের উদ্ধারকর্তা।

সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া এবং শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শিমুল। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মানুষটি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লেখনীরত অবস্থায় সাহিত্যের সেবা করে গেছেন, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর মূল্যায়ন আরও জোরালো হওয়া উচিত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সংগৃহীত পুঁথিগুলো যেভাবে সংরক্ষিত আছে, সেগুলোর ওপর নতুন করে গবেষণার দ্বার উন্মোচন করা আজকের সময়ের দাবি।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা তাঁর জন্মস্থান পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী গ্রামসহ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে সাহিত্যবিশারদের স্মৃতি রক্ষার্থে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ঐতিহ্যের শিকড় অন্বেষার আলোকেই মিলবে আমাদের মুক্তির পথ: নাসিরুদ্দিন চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাঙালির সংস্কৃতির জন্ম যেখানেই হোক না কেন, তার বিকাশ ও প্রসার ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। আর সেই ঐতিহ্যের শিকড় ও আমাদের অস্তিত্বের গৌরবকে মাটির নিচ থেকে খুঁড়ে তুলে এনেছিলেন মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। আজকের এই অবক্ষয়ের যুগে যদি আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাই, তবে তাঁর অন্বেষণ করা সেই শিকড়ের আলোকেই আমাদের মুক্তির পথ খুঁজতে হবে।

 

গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আবেগঘন স্মরণসভায় এই আহ্বান জানান প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী আলোকবর্তিকা, কালজয়ী পুঁথি সংগ্রাহক ও গবেষক মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ-এর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আয়োজক কমিটি, চট্টগ্রাম’ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

স্মরণসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী সাহিত্যবিশারদের আজীবন কৃচ্ছ্রসাধন ও একনিষ্ঠ সাধনার কথা স্মরণ করে বলেন, “তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বড় ডিগ্রিধারী ছিলেন না, অথচ নিজ নিষ্ঠায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান। অবহেলিত, ধুলোবালিমাখা অজস্র প্রাচীন পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ ও প্রাচীন। আমাদের নতুন প্রজন্মের উচিত ঘরের কোণ থেকে বিশ্বদরবারে বাঙালিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এই মহিমান্বিত মানুষের জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও বেশি চর্চা করা।

 

কবি, প্রাবন্ধিক ও নাট্যজন অভীক ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রফেসর রীতা দত্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাহিত্যবিশারদ শুধু পুঁথি সংগ্রাহক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের আত্মপরিচয় সংকটের উদ্ধারকর্তা।

সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক, নাট্যকার ও নির্দেশক অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া এবং শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শিমুল। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মানুষটি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লেখনীরত অবস্থায় সাহিত্যের সেবা করে গেছেন, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তাঁর মূল্যায়ন আরও জোরালো হওয়া উচিত ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সংগৃহীত পুঁথিগুলো যেভাবে সংরক্ষিত আছে, সেগুলোর ওপর নতুন করে গবেষণার দ্বার উন্মোচন করা আজকের সময়ের দাবি।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা তাঁর জন্মস্থান পটিয়ার সুচক্রদণ্ডী গ্রামসহ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে সাহিত্যবিশারদের স্মৃতি রক্ষার্থে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।