ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • 2

বিশেষ প্রতিনিধি :

‎
‎দেশের যুবসমাজকে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ সমাজকে নতুন এক অর্থনৈতিক বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন। দেশের সম্ভাবনাময় ও উদ্ভাবনী তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরাসরি ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের হাজারো মেধাবী তরুণের ব্যবসায়িক আইডিয়া শুধু মূলধনের অভাবে ভেস্তে যাবে না, বরং তা দেশের জিডিপিতে বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎
‎অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে যুবসমাজকে জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণেরা অত্যন্ত মেধাবী। তারা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, প্রযুক্তি তৈরিও করবে।” দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্টার্টআপ খাতের জন্য জাতীয় বাজেটে একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিভাবান তরুণদের উদ্ভাবনী প্রজেক্টের শুরুতেই অর্থের সংকট দূর করা এবং বৈশ্বিক বাজারের জন্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড তৈরি করা।
‎
‎
‎আইসিটি বিভাগ এবং উদ্যোক্তা ফোরামের নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে জানা গেছে, এই তহবিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রজেক্টের ধরন, উপযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান ও ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা ব্যাংক গ্যারান্টি বা জামানত; কিন্তু এই তহবিলের আওতায় যোগ্য প্রজেক্টের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন বা অত্যন্ত শিথিল শর্তে এই অর্থায়ন করা হবে।
‎
‎
‎অর্থের সন্ধানে তরুণদের যেন কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা তদবিরের পেছনে ঘুরতে না হয়, সেজন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল স্টার্টআপ অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ প্ল্যাটফর্ম’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালের উদ্বোধন করেন। দেশের যেকোনো প্রান্ত—এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণেরাও তাদের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিজেদের বিজনেস পিচ  ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরাসরি এই পোর্টালে জমা দিয়ে তহবিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
‎
‎
‎প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, এই প্রকল্প শুধু অর্থ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তহবিলের পাশাপাশি তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকার আশা করছে, এই ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে আগামী কয়েক বছরে দেশজুড়ে অন্তত কয়েক হাজার নতুন স্টার্টআপ দাঁড়াবে, যা লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
‎
‎বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই মেগা ফান্ড বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দেবে এবং দেশকে একটি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
‎
‎

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি :

‎
‎দেশের যুবসমাজকে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ সমাজকে নতুন এক অর্থনৈতিক বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন। দেশের সম্ভাবনাময় ও উদ্ভাবনী তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরাসরি ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের হাজারো মেধাবী তরুণের ব্যবসায়িক আইডিয়া শুধু মূলধনের অভাবে ভেস্তে যাবে না, বরং তা দেশের জিডিপিতে বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎
‎অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে যুবসমাজকে জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণেরা অত্যন্ত মেধাবী। তারা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, প্রযুক্তি তৈরিও করবে।” দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্টার্টআপ খাতের জন্য জাতীয় বাজেটে একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—প্রতিভাবান তরুণদের উদ্ভাবনী প্রজেক্টের শুরুতেই অর্থের সংকট দূর করা এবং বৈশ্বিক বাজারের জন্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড তৈরি করা।
‎
‎
‎আইসিটি বিভাগ এবং উদ্যোক্তা ফোরামের নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে জানা গেছে, এই তহবিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রজেক্টের ধরন, উপযোগিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান ও ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা ব্যাংক গ্যারান্টি বা জামানত; কিন্তু এই তহবিলের আওতায় যোগ্য প্রজেক্টের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন বা অত্যন্ত শিথিল শর্তে এই অর্থায়ন করা হবে।
‎
‎
‎অর্থের সন্ধানে তরুণদের যেন কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা তদবিরের পেছনে ঘুরতে না হয়, সেজন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনাল স্টার্টআপ অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ প্ল্যাটফর্ম’ নামক একটি অনলাইন পোর্টালের উদ্বোধন করেন। দেশের যেকোনো প্রান্ত—এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণেরাও তাদের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিজেদের বিজনেস পিচ  ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরাসরি এই পোর্টালে জমা দিয়ে তহবিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
‎
‎
‎প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, এই প্রকল্প শুধু অর্থ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তহবিলের পাশাপাশি তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকার আশা করছে, এই ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে আগামী কয়েক বছরে দেশজুড়ে অন্তত কয়েক হাজার নতুন স্টার্টআপ দাঁড়াবে, যা লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
‎
‎বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই মেগা ফান্ড বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দেবে এবং দেশকে একটি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
‎
‎