তৈয়ব চৌধুরী, চট্টগ্রাম
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুতদারি ও চড়া দামে বিক্রির সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার অল-আউট অ্যাকশনে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক বাজারের সংকটের অজুহাতে কোনো অসাধু চক্র যেন সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করতে না পারে, সেজন্য সরবরাহ চেইনের একেবারে গোড়া—অর্থাৎ আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতি ধাপে বসানো হয়েছে কড়া নজরদারি।
আমদানিকারকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে গঠন করা হয়েছে বিশেষ ‘তদারকি কমিটি’। একই সাথে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নামানো হয়েছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষ যাতে সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে গ্যাস পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা বাড়তি দাম নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের এলপিজি আমদানির মূল প্রবেশদ্বার বা হাব হলো চট্টগ্রাম। দেশের মোট ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে ৭টিই রয়েছে চট্টগ্রামে (বাকি ১৪টি মোংলায়)। ফলে চট্টগ্রামের সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে পুরো দেশের বাজারেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জেলা প্রশাসন এখন এই প্ল্যান্টগুলোর ওপর সরাসরি তদারকি শুরু করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ এলপিজি আনছে এবং তা কোন কোন ডিস্ট্রিবিউটর বা পরিবেশকের কাছে যাচ্ছে, তার দৈনিক হিসাব রাখা হচ্ছে। নবগঠিত তদারকি কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আমদানির পর গ্যাস মাঝপথে গায়েব বা ‘হোল্ড’ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না।
সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম পুনঃনির্ধারণ করার আগে চট্টগ্রামের কিছু খুচরা ব্যবসায়ী ডিলারদের বিরুদ্ধে দাম কারসাজির লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। জেলা প্রশাসক জানান, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বড় অভিযোগ না এলেও প্রশাসন বসে নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম নিয়মিত বাজারগুলোতে ঝটিকা অভিযান চালাচ্ছে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কাতার ও ওমান থেকে এলপিজি আমদানিতে কিছুটা ধাক্কা লেগেছিল। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টনের বিশাল চাহিদার কোনো কমতি নেই। এই চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই পূরণ করে ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
আন্তর্জাতিক এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ভেতরের মজুতদাররা যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্যই চট্টগ্রামের প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে, বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নিলেই গুনতে হবে বড় জরিমানা, প্রয়োজনে সিলগালা করা হবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।










