ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐশী আলোয় ভাসলো ময়মনসিংহ: জশনে জুলুসে আশেকানের ঢল, মাইজভান্ডারী মাহফিলে বিশ্বশান্তির আকুল প্রার্থনা

  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 57

‎রাসেল চৌধুরী

‎নূরে মোহাম্মদী (সাঃ) এর শাশ্বত আলোয় মানবহৃদয় আলোকিত করার মহিমান্বিত মাসকে স্বাগত জানিয়ে এবং আউলিয়ায়ে কেরামের আধ্যাত্মিক সুধায় আত্মশুদ্ধির আহ্বানে ময়মনসিংহে সম্পন্ন হলো জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) ও মহান মাইজভান্ডারী মাহফিল। ২৬শে আগস্ট (বুধবার) মাইজভান্ডারী পরিষদ ও মাইজভান্ডারী যুব পরিষদের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ময়মনসিংহ মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজম প্রাঙ্গণে এই বিশাল আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড জুলুস, দরুদে মোস্তফা ও শ্লোগানের জোয়ারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ময়মনসিংহ নগরী।

‎মাহফিলের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এক ঐতিহাসিক ও সুশৃঙ্খল জশনে জুলুসের (র‍্যালি) মধ্য দিয়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার আশেক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান দুপুরের আগেই মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজম ময়দানে সমবেত হন। সেখান থেকে তরীকার ঐতিহ্যবাহী শ্লোগান, লোগো সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুনসহ একটি বিশাল ও শান্তিপূর্ণ বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ‘নারায়ে তাকবীর, নারায়ে রেসালাত’ এবং ‘গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে, যা সাধারণ পথচারীদের মাঝেও এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি করে।


‎‎জুলুস শেষে মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজম ময়দানের সুবিশাল প্যান্ডেলে মূল আলোচনা সভা ও আধ্যাত্মিক মাহফিল শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও মাইজভান্ডারী ভাবাদর্শের একনিষ্ঠ সাধক মো. খুররম খান যুবরাজ। মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজমের প্রধান শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম খলিল আল কাদেরী মাইজভান্ডারীর সুশৃঙ্খল, প্রাঞ্জল ও দরদমাখা সঞ্চালনা মাহফিলকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

‎এবারের মাহফিলে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর বংশধর, আওলাদে রাসূল (সাঃ), শাহ্ সুফি মাওলানা ছৈয়দ ইকবাল ফজল আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ)। হুজুর কেবলা যখন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন, তখন উপস্থিত লাখো ভক্তের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় মোর্শেদের নূরানী চেহারা একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল আশেকানদের চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।

‎এছাড়াও মাহফিলে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল ইসলাম ছৈয়দ আবুল ফজল আল হাসানী আল মাইজভান্ডারীর (রহঃ) আওলাদে পাক পীরজাদা ছৈয়দ আলমগীর ফজল আল মাইজভান্ডারী ও পীরজাদা ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল আল মাইজভান্ডারী।



‎মাহফিলে প্রধান অতিথির জ্ঞানগর্ভ ও তাত্ত্বিক বক্তব্যে পীরজাদা ছৈয়দ আলমগীর ফজল আল মাইজভান্ডারী বলেন, “হযরত রাসূলে খোদা (সাঃ) এর মিলাদ ও সীরাত মোবারকের পরিপূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল অন্তরের কলুষতা দূর করা সম্ভব। রাসূলের (সাঃ) প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা বা ঐশী প্রেম (এশ্‌ক) ছাড়া ঈমান কখনোই পূর্ণতা পায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) বিশ্বমানবতার কল্যাণে যে তাওহীদে আদিয়ানের (সব ধর্মের মূল ঐক্য ও মানবপ্রেম) বাণী প্রচার করে গেছেন, তা আজ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা ও লোভ পরিহার করে সুফিবাদের এই সুমহান শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধারণ করতে হবে।”

‎অপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীরজাদা ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল আল মাইজভান্ডারী যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে সুফিবাদের আলোয় আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বর্তমান অস্থির পৃথিবীতে শান্তির একমাত্র পথ হলো রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর আদর্শ ও আউলিয়ায়ে কেরামের প্রদর্শিত পথ। আমাদেরকে শুধু মুখে আশেক দাবি করলেই চলবে না, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর দেওয়া ‘সপ্তপদ্ধতি’ (উসূলে সাবআ) জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে অন্যায়, জুলুম এবং আধ্যাত্মিক অন্ধকার দূর হবে।”

‎সভাপতির বক্তব্যে মো. খুররম খান যুবরাজ বলেন, “মাইজভান্ডারী তরীকা হলো মানবপ্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় সমাজ গড়তে মাইজভান্ডারী দর্শনের কোনো বিকল্প নেই।” মাহফিলে দেশবরেণ্য সুন্নি ওলামায়ে কেরামগণ পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর গুরুত্ব এবং আউলিয়ায়ে কেরামের শান-মান নিয়ে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী তকরীর পেশ করেন।



‎ শেষ প্রহরে যখন গাউছিয়া শাহি তরতীবে পবিত্র হালকায়ে জিকির শুরু হয়, তখন পুরো ময়দান যেন এক ঐশ্বরিক আলোয় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ‘আল্লাহু আল্লাহু’ এবং ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ধ্বনিতে ময়মনসিংহের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। জিকিরের সেই পিনপতন নীরবতার মাঝে অনেকের মাঝেই এক অলৌকিক ভাবাবেগ (হাল বা জেজবা) প্রকাশ পেতে দেখা যায়। দুনিয়াবী সমস্ত মোহ ভুলে মুরিদান ও আশেকানরা আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে পড়েন।

‎জিকির শেষে সমবেত কণ্ঠে সালাতু-সালাম পাঠের সময় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিশেষে, প্রধান আকর্ষণ শাহ্ সুফি মাওলানা ছৈয়দ ইকবাল ফজল আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ) বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, দেশের সমৃদ্ধি এবং মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। হুজুর কেবলা যখন মোনাজাতে দুই হাত তোলেন, তখন হাজারো মুসল্লির ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। উপস্থিত সর্বস্তরের আশেকানের মাঝে ঐতিহ্যবাহী তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই মহিমান্বিত মহাসমাবেশের সফল সমাপ্তি ঘটে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

ঐশী আলোয় ভাসলো ময়মনসিংহ: জশনে জুলুসে আশেকানের ঢল, মাইজভান্ডারী মাহফিলে বিশ্বশান্তির আকুল প্রার্থনা

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

‎রাসেল চৌধুরী

‎নূরে মোহাম্মদী (সাঃ) এর শাশ্বত আলোয় মানবহৃদয় আলোকিত করার মহিমান্বিত মাসকে স্বাগত জানিয়ে এবং আউলিয়ায়ে কেরামের আধ্যাত্মিক সুধায় আত্মশুদ্ধির আহ্বানে ময়মনসিংহে সম্পন্ন হলো জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) ও মহান মাইজভান্ডারী মাহফিল। ২৬শে আগস্ট (বুধবার) মাইজভান্ডারী পরিষদ ও মাইজভান্ডারী যুব পরিষদের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ময়মনসিংহ মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজম প্রাঙ্গণে এই বিশাল আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড জুলুস, দরুদে মোস্তফা ও শ্লোগানের জোয়ারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ময়মনসিংহ নগরী।

‎মাহফিলের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এক ঐতিহাসিক ও সুশৃঙ্খল জশনে জুলুসের (র‍্যালি) মধ্য দিয়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার আশেক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান দুপুরের আগেই মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজম ময়দানে সমবেত হন। সেখান থেকে তরীকার ঐতিহ্যবাহী শ্লোগান, লোগো সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুনসহ একটি বিশাল ও শান্তিপূর্ণ বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ‘নারায়ে তাকবীর, নারায়ে রেসালাত’ এবং ‘গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে, যা সাধারণ পথচারীদের মাঝেও এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি করে।


‎‎জুলুস শেষে মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজম ময়দানের সুবিশাল প্যান্ডেলে মূল আলোচনা সভা ও আধ্যাত্মিক মাহফিল শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও মাইজভান্ডারী ভাবাদর্শের একনিষ্ঠ সাধক মো. খুররম খান যুবরাজ। মাদ্রাসা-এ-গাউছুল আজমের প্রধান শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম খলিল আল কাদেরী মাইজভান্ডারীর সুশৃঙ্খল, প্রাঞ্জল ও দরদমাখা সঞ্চালনা মাহফিলকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

‎এবারের মাহফিলে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর বংশধর, আওলাদে রাসূল (সাঃ), শাহ্ সুফি মাওলানা ছৈয়দ ইকবাল ফজল আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ)। হুজুর কেবলা যখন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন, তখন উপস্থিত লাখো ভক্তের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় মোর্শেদের নূরানী চেহারা একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল আশেকানদের চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।

‎এছাড়াও মাহফিলে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল ইসলাম ছৈয়দ আবুল ফজল আল হাসানী আল মাইজভান্ডারীর (রহঃ) আওলাদে পাক পীরজাদা ছৈয়দ আলমগীর ফজল আল মাইজভান্ডারী ও পীরজাদা ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল আল মাইজভান্ডারী।



‎মাহফিলে প্রধান অতিথির জ্ঞানগর্ভ ও তাত্ত্বিক বক্তব্যে পীরজাদা ছৈয়দ আলমগীর ফজল আল মাইজভান্ডারী বলেন, “হযরত রাসূলে খোদা (সাঃ) এর মিলাদ ও সীরাত মোবারকের পরিপূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল অন্তরের কলুষতা দূর করা সম্ভব। রাসূলের (সাঃ) প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা বা ঐশী প্রেম (এশ্‌ক) ছাড়া ঈমান কখনোই পূর্ণতা পায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (কঃ) বিশ্বমানবতার কল্যাণে যে তাওহীদে আদিয়ানের (সব ধর্মের মূল ঐক্য ও মানবপ্রেম) বাণী প্রচার করে গেছেন, তা আজ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা ও লোভ পরিহার করে সুফিবাদের এই সুমহান শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধারণ করতে হবে।”

‎অপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীরজাদা ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল আল মাইজভান্ডারী যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে সুফিবাদের আলোয় আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বর্তমান অস্থির পৃথিবীতে শান্তির একমাত্র পথ হলো রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর আদর্শ ও আউলিয়ায়ে কেরামের প্রদর্শিত পথ। আমাদেরকে শুধু মুখে আশেক দাবি করলেই চলবে না, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর দেওয়া ‘সপ্তপদ্ধতি’ (উসূলে সাবআ) জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে অন্যায়, জুলুম এবং আধ্যাত্মিক অন্ধকার দূর হবে।”

‎সভাপতির বক্তব্যে মো. খুররম খান যুবরাজ বলেন, “মাইজভান্ডারী তরীকা হলো মানবপ্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক। একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও শান্তিময় সমাজ গড়তে মাইজভান্ডারী দর্শনের কোনো বিকল্প নেই।” মাহফিলে দেশবরেণ্য সুন্নি ওলামায়ে কেরামগণ পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর গুরুত্ব এবং আউলিয়ায়ে কেরামের শান-মান নিয়ে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী তকরীর পেশ করেন।



‎ শেষ প্রহরে যখন গাউছিয়া শাহি তরতীবে পবিত্র হালকায়ে জিকির শুরু হয়, তখন পুরো ময়দান যেন এক ঐশ্বরিক আলোয় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ‘আল্লাহু আল্লাহু’ এবং ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ ধ্বনিতে ময়মনসিংহের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। জিকিরের সেই পিনপতন নীরবতার মাঝে অনেকের মাঝেই এক অলৌকিক ভাবাবেগ (হাল বা জেজবা) প্রকাশ পেতে দেখা যায়। দুনিয়াবী সমস্ত মোহ ভুলে মুরিদান ও আশেকানরা আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে পড়েন।

‎জিকির শেষে সমবেত কণ্ঠে সালাতু-সালাম পাঠের সময় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিশেষে, প্রধান আকর্ষণ শাহ্ সুফি মাওলানা ছৈয়দ ইকবাল ফজল আল হাসানী আল মাইজভান্ডারী (মাঃ জিঃ আঃ) বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, দেশের সমৃদ্ধি এবং মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। হুজুর কেবলা যখন মোনাজাতে দুই হাত তোলেন, তখন হাজারো মুসল্লির ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। উপস্থিত সর্বস্তরের আশেকানের মাঝে ঐতিহ্যবাহী তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে এই মহিমান্বিত মহাসমাবেশের সফল সমাপ্তি ঘটে।