বিনোদন প্রতিবেদক
ঢাকাই সিনেমার দুই দশক ধরে রাজত্ব করা অন্যতম শীর্ষ চিত্রনায়িকা ও ‘ঢালিউড কুইন’ অপু বিশ্বাসের জন্মদিন ছিল গতকাল, ১১ অক্টোবর।
প্রতিবছরের মতো এবারও ভক্ত-অনুরাগী ও শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি। তবে জমকালো কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এবারের জন্মদিনে অপুর জীবনের সবচেয়ে বড় এবং আবেগঘন উপহারটি এসেছে তার একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়ের কাছ থেকে। প্রথম প্রহরে মায়ের জন্য জয়ের লেখা একটি চিঠি আর একটি বিশেষ মানুষের অপ্রত্যাশিত এক খুদে বার্তা (এসএমএস) এবারের জন্মদিনকে অপুর কাছে স্মরণীয় করে তুলেছে।
জন্মদিনের প্রথম প্রহরে ঘড়ির কাঁটায় যখন রাত ১২টা, তখন চিরচেনা জমকালো আলোর রোশনাই ছিল না অপুর ড্রয়িংরুমে। ছিল মা আর ছেলের একান্তে কিছু ভালোবাসার মুহূর্ত। মায়ের জন্মদিনে কেক কাটার পাশাপাশি জয় নিজের হাতে লেখা একটি মিষ্টি চিঠি উপহার দেয়। যেখানে সে মাকে সম্বোধন করেছে তার ‘প্রিন্সেস’ বলে। জয়ের সেই চিঠিতে লেখা ছিল— “হ্যাপি বার্থডে, মাই প্রিন্সেস মমি। আই লাভ ইউ।
সন্তানের কাছ থেকে এমন নিঃশর্ত ভালোবাসার বার্তা পেয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি অপু; চোখের কোণে জমে ওঠে আনন্দের জল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে আপ্লুত অপু বিশ্বাস লিখেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ আমার ছেলে। ওর এই ভালোবাসাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার।” আগে জন্মদিনে জয় কোলে থাকত, আর এখন বড় হয়ে মায়ের পাশে বসে কেক কাটে—এই পরিবর্তনটি অপুর কাছে এক পরম পাওয়া।
এবারের জন্মদিনে আরও একটি বিশেষ চমকের কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন ঢালিউড কুইন। ২০০৯ সাল থেকে পরিচিত এক বিশেষ মানুষের কাছ থেকে ঠিক রাত ১২টায় আসা একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা বার্তা তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। অপু বলেন, “সেই মানুষের একটি মাত্র এসএমএস আমার এবারের জন্মদিনটাকে অনেক বেশি কালারফুল করে দিয়েছে, যা আমি একদমই আশা করিনি।” তবে ব্যক্তিটির নাম প্রকাশ না করে বিষয়টি রহস্যই রেখে দিয়েছেন তিনি।
জন্মদিন উপলক্ষে রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে সাদাকালো আবহের কিছু নজরকাড়া ও গ্ল্যামারাস ছবি শেয়ার করেন অপু বিশ্বাস। তার এই ‘বার্থডে গার্ল’ লুক মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভক্তরা তার এই রূপের প্রশংসা ও জন্মদিনের শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দিলেও, নেটিজেনদের কেউ কেউ ‘গার্ল’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে মজার ছলে আপত্তি তুলেছেন। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, “বার্থডে লেডি, নট গার্ল অ্যাকচুয়ালি।” তবে অধিকাংশ মানুষই ইতিবাচক মন্তব্যে তাকে আগামী দিনের শুভকামনা জানিয়েছেন।
১৯৮৯ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়া জেলার কাটনারপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন অবন্তী বিশ্বাস, যিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘অপু বিশ্বাস’ নামে পরিচিত। উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও শেফালী বিশ্বাসের চার সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল অপুর, আর সেই নাচের সূত্র ধরেই একসময় নাম লেখান রুপালি পর্দায়।
২০০৫ সালে প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’ চলচ্চিত্রে একটি ছোট চরিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০০৬ সালে, এফআই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার মাধ্যমে। মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে সেই ছবি ব্যবসাসফল হওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। শাকিব-অপু জুটি ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল রোমান্টিক জুটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ‘চাচ্চু’, ‘দাদীমা’, ‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ও ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’র মতো প্রায় শতাধিক বাণিজ্যিক ও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। ২০১৩ সালে ‘মাই নেম ইজ খান’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ঐতিহ্যবাহী বাচসাস পুরস্কারও লাভ করেন।
শুধু ক্যামেরার সামনেই নয়, ক্যামেরার পেছনেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন অপু। তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘অপু-জয় চলচ্চিত্র’ থেকে সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘লাল শাড়ি’ সিনেমাটির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। সম্প্রতি নেপালে একটি চলচ্চিত্রের রোমাঞ্চকর ও প্রতিকূল শুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন গল্প নির্বাচন ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা নিয়েই তার ব্যস্ততা।
৩৮তম বছরে পা দিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের কোটি মানুষের এই ভালোবাসাই তার পথচলার শক্তি। একজন মা হিসেবে সন্তানের ভেতর নিজের আদর্শ টিকিয়ে রাখাই এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
















