ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত করে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়া যাবে না: নাগরিক কনভেনশনে হুঁশিয়ারি

  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 20

৩১ আগস্ট বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রার ডাক, আগামীকাল থেকে পক্ষকালব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

‎চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) সহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতির মূল হৃদস্পন্দন এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এই জাতীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কোনো বহুজাতিক কোম্পানির হাতে ছেড়ে দিলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।

‎আজ ১৬ আগস্ট (রবিবার) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক কনভেনশনে এই দাবি ও আন্দোলনের পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কনভেনশনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


‎কনভেনশন থেকে বন্দর রক্ষায় চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা হিসেবে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামীকাল ১৭ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনমত গঠনে পক্ষকালব্যাপী ‘মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি’। এরপরও দাবি মানা না হলে, আগামী ৩১ আগস্ট নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে বিশাল ‘বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।


‎কনভেনশনে প্রধান অতিথি ও বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা গোষ্ঠীস্বার্থের সম্পদ নয়, এটি দেশের ষোল কোটি মানুষের সম্পদ। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত এনসিটি এবং সিসিটি আজ দেশীয় দক্ষ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়ছে। যেখানে আমাদের নিজেদের লোকবল এই বন্দর চালাতে সক্ষম, সেখানে কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে?” তিনি অবিলম্বে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান।

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান প্রবেশদ্বার বা বন্দর অন্য কোনো দেশের বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়। পতেঙ্গা, পানগাঁও বা লালদিয়া চরসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট অতীতে ও বর্তমানে কী ধরনের চুক্তি করা হয়েছে, তা দেশের মানুষের জানার অধিকার আছে। আমরা দাবি করছি, বন্দর নিয়ে হওয়া সমস্ত চুক্তি অবিলম্বে শ্বেতপত্র আকারে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক।”


‎কনভেনশনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। বন্দর রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জীবন দিয়ে হলেও চট্টগ্রামের আপামর জনতা বন্দরের একক নিয়ন্ত্রণ দেশীয় কর্তৃপক্ষের হাতেই বজায় রাখবে। যদি ৩১ আগস্টের পদযাত্রার পরও দাবি আদায় না হয়, তবে বন্দর অচল করার মতো আরও কঠোর ও টানা অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে বলে কনভেনশন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত করে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়া যাবে না: নাগরিক কনভেনশনে হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৪:১৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

৩১ আগস্ট বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রার ডাক, আগামীকাল থেকে পক্ষকালব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

‎চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) সহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতির মূল হৃদস্পন্দন এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এই জাতীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কোনো বহুজাতিক কোম্পানির হাতে ছেড়ে দিলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।

‎আজ ১৬ আগস্ট (রবিবার) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক কনভেনশনে এই দাবি ও আন্দোলনের পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কনভেনশনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


‎কনভেনশন থেকে বন্দর রক্ষায় চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা হিসেবে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামীকাল ১৭ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনমত গঠনে পক্ষকালব্যাপী ‘মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি’। এরপরও দাবি মানা না হলে, আগামী ৩১ আগস্ট নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে বিশাল ‘বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।


‎কনভেনশনে প্রধান অতিথি ও বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা গোষ্ঠীস্বার্থের সম্পদ নয়, এটি দেশের ষোল কোটি মানুষের সম্পদ। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত এনসিটি এবং সিসিটি আজ দেশীয় দক্ষ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়ছে। যেখানে আমাদের নিজেদের লোকবল এই বন্দর চালাতে সক্ষম, সেখানে কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে?” তিনি অবিলম্বে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান।

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান প্রবেশদ্বার বা বন্দর অন্য কোনো দেশের বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়। পতেঙ্গা, পানগাঁও বা লালদিয়া চরসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট অতীতে ও বর্তমানে কী ধরনের চুক্তি করা হয়েছে, তা দেশের মানুষের জানার অধিকার আছে। আমরা দাবি করছি, বন্দর নিয়ে হওয়া সমস্ত চুক্তি অবিলম্বে শ্বেতপত্র আকারে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক।”


‎কনভেনশনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। বন্দর রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জীবন দিয়ে হলেও চট্টগ্রামের আপামর জনতা বন্দরের একক নিয়ন্ত্রণ দেশীয় কর্তৃপক্ষের হাতেই বজায় রাখবে। যদি ৩১ আগস্টের পদযাত্রার পরও দাবি আদায় না হয়, তবে বন্দর অচল করার মতো আরও কঠোর ও টানা অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে বলে কনভেনশন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।