ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুর মরণকামড়ে কাঁপছে চট্টগ্রাম, ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ নিয়ে মাঠে এমপি সাঈদ আল নোমান

  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 88
  • ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮২, মৃত্যু আরও ১; চসিকের ৮ ওয়ার্ড এখন মহামারীর ‘রেড জোন’

  • ‘ঘরে বসে থাকার সময় নেই, জনগণের জীবন বাঁচাতে রাজপথেই শেষ রক্তবিন্দু দেব’— সুগন্ধা ও কাট্টলীতে মশা নিধনে নেমে সাঈদ আল নোমানের প্রত্যয়

  • জনপ্রতিনিধির এমন মানবতা ও নিবিড় সচেতনতা কার্যক্রমে মুগ্ধ নগরবাসী; সিভিল সার্জন ও মেয়রের ভূয়সী প্রশংসা

রাসেল চৌধুরী :

থেমে থেমে বৃষ্টি আর অনিয়মিত আবহাওয়ার সুযোগে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। হাসপাতালগুলোর প্রতিটি সাধারণ ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড এখন ডেঙ্গু রোগীতে ঠাসা। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৭ জনে এবং সরকারি ও বেসরকারি তথ্যমতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের ৭৩ শতাংশ এবং সিংহভাগ মৃত্যুই ঘটেছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাত্র ২৭ দিনে, যা নগরীতে এক নীরব মহামারীর সংকেত দিচ্ছে।

 

পরিস্থিতির এমন ভয়াবহতা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরের ৮টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে।

 

মহামারী ঠেকানোর এই অসম লড়াইয়ে এসি রুমের রাজনীতি ছেড়ে খোদ রাজপথ, অলিগলি আর নালা-নর্দমায় নেমে এসেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর নির্দেশনায় ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নগরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, দক্ষিণ কাট্টলী ও পাহাড়তলীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক মশা নিধন, লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড স্প্রে নিয়ে সাঈদ আল নোমানের এই সর্বাত্মক সচেতনতামূলক ও মাঠপর্যায়ের মানবিক কর্মকাণ্ড পুরো চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং সর্বমহলে এটি ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

 

নিজের নির্বাচনী এলাকায় এই ক্র্যাশ প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাঈদ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমাদের মা-বোনেরা, ছোট ছোট শিশুরা হাসপাতালের বেডে ডেঙ্গুর সাথে যুদ্ধ করছে। এই ক্রান্তিলগ্নে ঘরে বসে এসি বাতাসে রাজনীতি করার সময় আমাদের নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমরা এমপি হয়েছি, তাই জনগণের জীবন বাঁচাতে রাজপথেই আমার শেষ রক্তবিন্দু দেব। চসিক বা প্রশাসন কী করল, সেই দিকে তাকিয়ে না থেকে আসুন আমরা যার যার ঘরের আঙিনা পরিষ্কার রাখি। একটা মশার লার্ভাও যেন তৈরি হতে না পারে, সেই সচেতনতা আমাদের গড়তেই হবে।

 

নগরের সুগন্ধা ও দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার বাসিন্দারা এই উদ্যোগ নিয়ে তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “যখন সরকারি ফগার বা ওষুধ ছিটানোর লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন এমপি সাঈদ আল নোমান নিজে এসে আমাদের সচেতন করেছেন, ঘরের ছাদ ও নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। জনসেবার প্রকৃত অর্থ যে মানুষের আপদে-বিপদে পাশে থাকা, তিনি তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন তাঁর বক্তব্যে সাঈদ আল নোমানের এই সময়োপযোগী এবং কার্যকর জনসচেতনতামূলক সামাজিক আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতাল বা ফগার মেশিন যথেষ্ট নয়। মাননীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান যেভাবে প্রতিটি ঘরে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন এবং মাঠে নেমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছেন, তা মশার প্রজনন হার ও এডিসের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখছে। যদি চট্টগ্রামের সকল স্তরের মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনতে পারব।

 

এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ চলমান রয়েছে।

 

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন বহুতল ভবন এবং নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা লার্ভা চিহ্নিত করে জরিমানাও করছে। চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এবং জেনারেল হাসপাতালসহ সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার (NS1) পাশাপাশি বিশেষ ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ ও শিশু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সীতাকুণ্ড, কর্ণফুলী ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এডিস মশার লার্ভা পরীক্ষায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বিপজ্জনক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের কড়া হুঁশিয়ারি—একটানা দুই থেকে তিন দিন জ্বর থাকলেই কোনো প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুর মরণকামড়ে কাঁপছে চট্টগ্রাম, ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ নিয়ে মাঠে এমপি সাঈদ আল নোমান

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮২, মৃত্যু আরও ১; চসিকের ৮ ওয়ার্ড এখন মহামারীর ‘রেড জোন’

  • ‘ঘরে বসে থাকার সময় নেই, জনগণের জীবন বাঁচাতে রাজপথেই শেষ রক্তবিন্দু দেব’— সুগন্ধা ও কাট্টলীতে মশা নিধনে নেমে সাঈদ আল নোমানের প্রত্যয়

  • জনপ্রতিনিধির এমন মানবতা ও নিবিড় সচেতনতা কার্যক্রমে মুগ্ধ নগরবাসী; সিভিল সার্জন ও মেয়রের ভূয়সী প্রশংসা

রাসেল চৌধুরী :

থেমে থেমে বৃষ্টি আর অনিয়মিত আবহাওয়ার সুযোগে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। হাসপাতালগুলোর প্রতিটি সাধারণ ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড এখন ডেঙ্গু রোগীতে ঠাসা। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৭ জনে এবং সরকারি ও বেসরকারি তথ্যমতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের ৭৩ শতাংশ এবং সিংহভাগ মৃত্যুই ঘটেছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মাত্র ২৭ দিনে, যা নগরীতে এক নীরব মহামারীর সংকেত দিচ্ছে।

 

পরিস্থিতির এমন ভয়াবহতা বিবেচনা করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নগরের ৮টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করেছে।

 

মহামারী ঠেকানোর এই অসম লড়াইয়ে এসি রুমের রাজনীতি ছেড়ে খোদ রাজপথ, অলিগলি আর নালা-নর্দমায় নেমে এসেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর নির্দেশনায় ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নগরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, দক্ষিণ কাট্টলী ও পাহাড়তলীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক মশা নিধন, লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড স্প্রে নিয়ে সাঈদ আল নোমানের এই সর্বাত্মক সচেতনতামূলক ও মাঠপর্যায়ের মানবিক কর্মকাণ্ড পুরো চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে এক বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং সর্বমহলে এটি ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

 

নিজের নির্বাচনী এলাকায় এই ক্র্যাশ প্রোগ্রামের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাঈদ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমাদের মা-বোনেরা, ছোট ছোট শিশুরা হাসপাতালের বেডে ডেঙ্গুর সাথে যুদ্ধ করছে। এই ক্রান্তিলগ্নে ঘরে বসে এসি বাতাসে রাজনীতি করার সময় আমাদের নেই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমরা এমপি হয়েছি, তাই জনগণের জীবন বাঁচাতে রাজপথেই আমার শেষ রক্তবিন্দু দেব। চসিক বা প্রশাসন কী করল, সেই দিকে তাকিয়ে না থেকে আসুন আমরা যার যার ঘরের আঙিনা পরিষ্কার রাখি। একটা মশার লার্ভাও যেন তৈরি হতে না পারে, সেই সচেতনতা আমাদের গড়তেই হবে।

 

নগরের সুগন্ধা ও দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার বাসিন্দারা এই উদ্যোগ নিয়ে তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “যখন সরকারি ফগার বা ওষুধ ছিটানোর লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন এমপি সাঈদ আল নোমান নিজে এসে আমাদের সচেতন করেছেন, ঘরের ছাদ ও নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। জনসেবার প্রকৃত অর্থ যে মানুষের আপদে-বিপদে পাশে থাকা, তিনি তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন তাঁর বক্তব্যে সাঈদ আল নোমানের এই সময়োপযোগী এবং কার্যকর জনসচেতনতামূলক সামাজিক আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতাল বা ফগার মেশিন যথেষ্ট নয়। মাননীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান যেভাবে প্রতিটি ঘরে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন এবং মাঠে নেমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাচ্ছেন, তা মশার প্রজনন হার ও এডিসের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখছে। যদি চট্টগ্রামের সকল স্তরের মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনতে পারব।

 

এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ চলমান রয়েছে।

 

চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন বহুতল ভবন এবং নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা লার্ভা চিহ্নিত করে জরিমানাও করছে। চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) এবং জেনারেল হাসপাতালসহ সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার (NS1) পাশাপাশি বিশেষ ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ ও শিশু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সীতাকুণ্ড, কর্ণফুলী ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এডিস মশার লার্ভা পরীক্ষায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বিপজ্জনক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের কড়া হুঁশিয়ারি—একটানা দুই থেকে তিন দিন জ্বর থাকলেই কোনো প্রকার অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।