রাসেল চৌধুরী
সারাদেশে যখন তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ মাদক, অপরাধ আর নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের হালিশহরে একদল তরুণ দেখাচ্ছেন আশার আলো। কোনো চাকচিক্য বা বড় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই শুধু খেলার মাঠকে আঁকড়ে ধরে তারা গড়ে তুলেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই তরুণদের এই বিপ্লবের নাম ‘মৌসুমী ফুটবল ক্লাব’।
নগরীর হালিশহর এলাকায় একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এই ক্লাবটি। আনাস, সায়মন, সামিত, আরাফ, আলমিদের মতো প্রায় ২৫ জন তরুণের এই দল এখন শুধু মাঠেই ঝড় তুলছে না, আলো ছড়াচ্ছে সমাজেও। প্রতিদিন বিকেলে যখন অন্য চারপাশের অনেক তরুণ স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বা আড্ডার নামে বিপথে পা বাড়াচ্ছে, তখন মৌসুমী ক্লাবের তরুণরা বুঁদ হয়ে থাকেন ফুটবলের জাদুতে। তাদের এই ফুটবলীয় দ্রুতি এখন পুরো নগরীর ক্রীড়ামোদীদের নজর কেড়েছে।
তবে মৌসুমী ফুটবল ক্লাবের গল্পটা শুধু গোলপোস্ট আর ৯০ মিনিটের ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলার মাঠের এই শৃঙ্খলা ও একতাকে তারা ছড়িয়ে দিয়েছেন সামাজিক কল্যাণে। এলাকার যেকোনো মানবিক সংকট, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবার আগে ছুটে যান এই ক্লাবের সদস্যরা। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাঠমুখী করার পাশাপাশি একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তারা নীরব এক বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই তরুণরা আমাদের গর্ব। যেখানে চারদিকে তরুণদের নিয়ে নানা শঙ্কা, সেখানে মৌসুমী ক্লাবের ছেলেরা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। তাদের দেখে অন্য এলাকার ছেলেরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
নেশা আর অবক্ষয়ের এই অন্ধকার সময়ে হালিশহরের ‘মৌসুমী ফুটবল ক্লাব’ প্রমাণ করেছে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে তরুণরাই পারে সমাজের চাকা ঘুরিয়ে দিতে। চারদিকের প্রশংসা আর ভালোবাসায় সিক্ত এই ক্লাবটি এখন নগরীর অন্য তরুণদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।
নেশার আঁধারে ফুটবলের আলো: হালিশহরের ‘মৌসুমী ক্লাব’ দেখাচ্ছে নতুন পথ
জনপ্রিয় সংবাদ
















