ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফখরুলের পদত্যাগে বিএনপিতে নেতৃত্বের রদবদল:

  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 19

মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে একাধিক নাম নিয়ে গুঞ্জন, বাড়ছে ভিন্নমত

বিশেষ প্রতিবেদক  :

‎দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের কারণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে পরবর্তী মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কে হচ্ছেন—তা নিয়ে দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক মহলে এখনো কোনো একক সিদ্ধান্ত বা সর্বসম্মত মত তৈরি হয়নি; বরং বিভিন্ন সমীকরণ ও ভিন্নমত সামনে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলোর একাংশের মতে, নতুন মহাসচিব হিসেবে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং শূন্য হতে যাওয়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল-এর দায়িত্ব পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই নামগুলোর বাইরেও দলে শক্তিশালী বিকল্প মত রয়েছে।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তিনি দলের সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন। এর পরপরই দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ নতুন চারজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

‎দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কবির রিজভী স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় তার আগের পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজপথের লড়াকু নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম দলীয় ফোরামে আলোচনায় থাকলেও এই পদের জন্য সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও সমানভাবে আলোচিত হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের একাংশের মতে, রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে হাইকমান্ডকে সব পক্ষের মতামতের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

‎অন্য দিকে, দলের প্রধান সমন্বয়ক বা মহাসচিব পদের মতো শীর্ষ গুরুদায়িত্ব পালনে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হলেও দলের একটি বড় অংশ প্রটোকল ও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম বজায় রাখার পক্ষে মত দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, মির্জা ফখরুল যেভাবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় রুহুল কবির রিজভীই বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদের জন্য স্বাভাবিক উত্তরসূরি। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলানো আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদের দৌড়ে বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

‎বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, গণমাধ্যমে বিভিন্ন নাম সম্ভাব্য হিসেবে সামনে এলেও দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত বা চূড়ান্ত আলোচনা করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় প্রধান তারেক রহমান।

‎আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মহাসচিব ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, পদায়ন নিয়ে যে ভিন্নমতই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বই দলের হাল ধরবে।

মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে: চট্টগ্রামে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় সাঈদ আল নোমান

ফখরুলের পদত্যাগে বিএনপিতে নেতৃত্বের রদবদল:

আপডেট সময় : ০৪:২৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে একাধিক নাম নিয়ে গুঞ্জন, বাড়ছে ভিন্নমত

বিশেষ প্রতিবেদক  :

‎দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের কারণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে পরবর্তী মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কে হচ্ছেন—তা নিয়ে দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক মহলে এখনো কোনো একক সিদ্ধান্ত বা সর্বসম্মত মত তৈরি হয়নি; বরং বিভিন্ন সমীকরণ ও ভিন্নমত সামনে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলোর একাংশের মতে, নতুন মহাসচিব হিসেবে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং শূন্য হতে যাওয়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল-এর দায়িত্ব পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই নামগুলোর বাইরেও দলে শক্তিশালী বিকল্প মত রয়েছে।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই তিনি দলের সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন। এর পরপরই দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ নতুন চারজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

‎দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কবির রিজভী স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় তার আগের পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজপথের লড়াকু নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম দলীয় ফোরামে আলোচনায় থাকলেও এই পদের জন্য সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও সমানভাবে আলোচিত হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের একাংশের মতে, রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে হাইকমান্ডকে সব পক্ষের মতামতের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

‎অন্য দিকে, দলের প্রধান সমন্বয়ক বা মহাসচিব পদের মতো শীর্ষ গুরুদায়িত্ব পালনে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হলেও দলের একটি বড় অংশ প্রটোকল ও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম বজায় রাখার পক্ষে মত দিচ্ছে। তাদের যুক্তি, মির্জা ফখরুল যেভাবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় রুহুল কবির রিজভীই বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদের জন্য স্বাভাবিক উত্তরসূরি। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলানো আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদের দৌড়ে বিকল্প হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

‎বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, গণমাধ্যমে বিভিন্ন নাম সম্ভাব্য হিসেবে সামনে এলেও দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত বা চূড়ান্ত আলোচনা করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় প্রধান তারেক রহমান।

‎আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মহাসচিব ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। তবে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, পদায়ন নিয়ে যে ভিন্নমতই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বই দলের হাল ধরবে।