নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক দুর্গম আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের সাথে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। ঘরের ফলস সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় মোস্তফা কামাল ওরফে শুটার মোবারক নামের ওই সন্ত্রাসী। টানা ৫ মিনিটের এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কাজী মো. তারেক আজিজ। তবে সন্ত্রাসীর ছোড়া ছররা গুলি ও কাঁচের আঘাতে ডিবি পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে পিস্তল জ্যাম হয়ে গেলে কৌশলে মোবারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফটিকছড়ির একটি বাড়িতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল গভীর রাতে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার একটি দল যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশ সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে পুরো ঘর ফাঁকা দেখতে পান। তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরের ফলস সিলিংয়ের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি শুরু হয়। মোবারক তার কাছে থাকা পিস্তল থেকে একে একে ছয় রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। একটি গুলি অতিরিক্ত এসপি তারেক আজিজের কান ঘেঁষে চলে গেলে তিনি অলৌকিকভাবে রক্ষা পান।
টানা ছয় রাউন্ড গুলি করার পর মোবারক যখন সপ্তম রাউন্ড গুলি করতে যায়, ঠিক তখনই তার হাতের বিদেশি পিস্তলটি জ্যাম হয়ে লক হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক সাহসিকতার সাথে ফলস সিলিংয়ে উঠে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা মোবারককে টেনে নিচে নামিয়ে এনে হাতকড়া পরাতে সক্ষম হন।
অভিযান ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “মোবারক অত্যন্ত দুর্ধর্ষ এবং পেশাদার অপরাধী। আমাদের আস্তানা ঘেরাওয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরে সে ছাদের ফলস সিলিংয়ের ভেতর অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে ছিল। পুলিশ ঘরে ঢোকা মাত্রই সে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর অন্ধের মতো গুলি চালাতে থাকে। খুব কাছ থেকে গুলি আসায় আমাদের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন। তবে পিস্তল জ্যাম হওয়ার সাথে সাথে আমরা আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে তাকে ফলস সিলিং থেকে টেনে নামিয়ে আনতে সক্ষম হই।”
তিনি আরও বলেন, “মোবারককে গ্রেপ্তারের পর আমরা জানতে পারি গত ৫ আগস্ট কোতোয়ালী থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রটি তার কাছেই রয়েছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যে রাতেই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেই পিস্তলসহ আরও তিনটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় শক্তি বা গডফাদার কাজ করছে কি না, তা বের করতে রিমান্ডে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
পুলিশ আক্রান্ত ও অস্ত্র আইনের পৃথক মামলায় আসামিকে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অস্ত্র লুটের নেপথ্য চক্রকে চিহ্নিত করতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে মোবারকের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানায়, মোবারক ওই অঞ্চলের একটি পেশাদার শুটার গ্যাংয়ের প্রধান এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।
ফটিকছড়িতে পুলিশের ওপর ফলস সিলিং থেকে গুলি, শীর্ষ শুটার মোবারক গ্রেপ্তার
জনপ্রিয় সংবাদ











