ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হালিশহরের অসহায় মুনতাহার আজীবনের দায়িত্ব নিলেন এমপি সাঈদ আল নোমান

  • আপডেট সময় : ০৮:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 22

নিজস্ব প্রতিবেদক

‎জন্ম থেকেই চার দেয়ালের বন্দি জীবন হালিশহরের ২১ বছরের তরুণী মুনতাহার। বয়স বাড়লেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে বাড়েনি হাত-পা। অন্যের সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও নেই তার। সম্প্রতি পিতৃহারা হয়ে চরম আর্থিক অনটনে পড়া এই অসহায় মেয়েটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি মুনতাহার চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তার আজীবনের যাবতীয় ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মুনতাহা জন্মের পর থেকেই বিছানায় শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে দীর্ঘ দিন ধরে তার সঠিক চিকিৎসাও করানো সম্ভব হচ্ছিল না। সম্প্রতি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবাকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে। মুনতাহার এই অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান কালবিলম্ব না করে সরাসরি ওই পরিবারটির খোঁজ নেন। তিনি মুনতাহার উন্নত চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য নগদ অর্থ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এবং প্রতি মাসের খাদ্য, পুষ্টিকর খাবারসহ জীবনযাত্রার সব খরচ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিয়মিত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

‎সংসদ সদস্যের এমন মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মুনতাহার মা। তিনি বলেন, “স্বামীকে হারিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছিলাম। প্রতিদিনের ওষুধের খরচ চালানোই আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এমপি সাহেব যেভাবে নিজে এসে আমার মেয়ের চিরদিনের দায়িত্ব নিলেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলব না। ভগবান ওনার মঙ্গল করুক।”

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, “জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা প্রত্যেকেই একজন মানুষ। মুনতাহা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই বোন। পিতৃহারা এই মেয়েটির কষ্ট জানার পর একজন মানুষ হিসেবে ঘরে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। রাষ্ট্র ও সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি কেবল আমার সেই দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করেছি।”

‎রাজনীতির প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে তৃণমূলের একজন অসহায় প্রতিবন্ধী তরুণীর পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনাটি এখন পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখায়।

মেধাবী তরুণদের হাত ধরেই বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে: চট্টগ্রামে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় সাঈদ আল নোমান

হালিশহরের অসহায় মুনতাহার আজীবনের দায়িত্ব নিলেন এমপি সাঈদ আল নোমান

আপডেট সময় : ০৮:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

‎জন্ম থেকেই চার দেয়ালের বন্দি জীবন হালিশহরের ২১ বছরের তরুণী মুনতাহার। বয়স বাড়লেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে বাড়েনি হাত-পা। অন্যের সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও নেই তার। সম্প্রতি পিতৃহারা হয়ে চরম আর্থিক অনটনে পড়া এই অসহায় মেয়েটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি মুনতাহার চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তার আজীবনের যাবতীয় ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মুনতাহা জন্মের পর থেকেই বিছানায় শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে দীর্ঘ দিন ধরে তার সঠিক চিকিৎসাও করানো সম্ভব হচ্ছিল না। সম্প্রতি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবাকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে। মুনতাহার এই অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান কালবিলম্ব না করে সরাসরি ওই পরিবারটির খোঁজ নেন। তিনি মুনতাহার উন্নত চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য নগদ অর্থ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এবং প্রতি মাসের খাদ্য, পুষ্টিকর খাবারসহ জীবনযাত্রার সব খরচ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিয়মিত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

‎সংসদ সদস্যের এমন মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মুনতাহার মা। তিনি বলেন, “স্বামীকে হারিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছিলাম। প্রতিদিনের ওষুধের খরচ চালানোই আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এমপি সাহেব যেভাবে নিজে এসে আমার মেয়ের চিরদিনের দায়িত্ব নিলেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলব না। ভগবান ওনার মঙ্গল করুক।”

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, “জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা প্রত্যেকেই একজন মানুষ। মুনতাহা আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই বোন। পিতৃহারা এই মেয়েটির কষ্ট জানার পর একজন মানুষ হিসেবে ঘরে বসে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। রাষ্ট্র ও সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি কেবল আমার সেই দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করেছি।”

‎রাজনীতির প্রথাগত গণ্ডি পেরিয়ে তৃণমূলের একজন অসহায় প্রতিবন্ধী তরুণীর পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনাটি এখন পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখায়।