ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ সেলাই ও রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে: এক দুঃসহ স্বৈরাচারী নির্যাতনের গল্প এবং অপরাজেয় ‘বাঘিনী কন্যা’ শিরিন আক্তার

  • আপডেট সময় : ০১:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • 41

২০১৬ সালের সেই ২০শে রমজান, কোলে দুগ্ধপোষ্য সন্তান আর রক্তাক্ত স্বামীকে নিয়ে ঈদের আনন্দকে মাটি চাপা দিয়েও রাজপথ না ছাড়া এক মহীয়সী নেত্রীর উপাখ্যান।

রাসেল চৌধুরী :

‎বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসন আমল ছিল এক বিভীষিকার নাম। বিরোধী মতের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন হাজারো নেতা-কর্মী। কিন্তু সমস্ত ভয় ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, নিজের সর্বস্ব হারিয়েও যিনি আদর্শের প্রশ্নে এক চুলও আপস করেননি, তিনি চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের অন্যতম শীর্ষ কান্ডারি এবং রাজপথের পরীক্ষিত ‘বাঘিনী কন্যা’ শিরিন আক্তার। বিগত আওয়ামী দুঃশাসনে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা অমানুষিক নির্যাতনের লোমহর্ষক ইতিহাস আজ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি।

‎সময়টা ছিল ২০১৬ সালের পবিত্র মাহে রমজান। চারদিকে যখন ঈদের আনন্দ আর প্রস্তুতির আমেজ, ঠিক তখনই ২০শে রমজানের এক কালো রাতে শিরিন আক্তারের পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ার এক নৃশংস নীল নকশা বাস্তবায়ন করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। লক্ষ্যবস্তু করা হয় শিরিন আক্তারের স্বামী—যিনি নিজেও এক আজন্ম বিএনপি পরিবারের সন্তান এবং দলের জন্য চরম ত্যাগী এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী নাজিম উদ্দীন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তাঁর ওপর চালানো হয় বর্বরোচিত হামলা।

‎ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাজিম উদ্দীনের শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি যখন মৃত্যুর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে, তখন হাসপাতালে তাঁর শরীরে দিতে হয়েছিল দীর্ঘ ৩৫টি সেলাই! চিকিৎসকেরা যেখানে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেখান থেকে যেন অলৌকিকভাবে এক নতুন জীবন ফিরে পান নাজিম উদ্দীন। কিন্তু নির্মমতার এখানেই শেষ ছিল না। একদিকে স্বামীর নিথর রক্তাক্ত দেহ, অন্যদিকে কোলে এক দুগ্ধপোষ্য অবুঝ সন্তান—এমন এক চরম মানবিক ও মানসিক সংকটের মুহূর্তেও তৎকালীন প্রশাসন এই ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কোনো মামলা নেয়নি। উল্টো স্বৈরাচারের দোসরদের হুমকি-ধমকির মুখে সেই অবুঝ সন্তানকে কোলে নিয়ে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীকে এক হাতে আগলে রেখে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল শিরিন আক্তারকে। সেই বছর পরিবারটির কপালে জোটেনি কোনো ঈদ, আনন্দের বদলে চারপাশ জুড়ে ছিল শুধু বেঁচে থাকার আকুতি আর স্বৈরাচারের আতঙ্ক।

‎কিন্তু একজন সাধারণ নারী যেখানে এই পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়তেন, সেখানে রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী বুনেদী পরিবারের রক্তে গড়া শিরিন আক্তার হয়ে উঠেছিলেন আরও বেশি ইস্পাতকঠিন। তিনি দমে যাননি, বরং স্বামীর এই রক্ত আর নিজের চোখের জলকে শক্তির উৎস বানিয়ে রাজপথে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সংসার, ৪ সন্তান (২ ছেলে, ২ মেয়ে) ও পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি সফলভাবে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হিসেবে নিজের উপার্জিত সমস্ত অর্থ বিলিয়ে দিতে শুরু করেন দল ও অসহায় নেতা-কর্মীদের কল্যাণে।

‎শিরিন আক্তারের এই রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার শিকড় অনেক গভীরে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উত্তর পদুয়া ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আলহাজ খায়ের আহমদ তালুকদারের (যিনি এলাকায় ‘ইংলিশ খায়ের’ নামে সুপরিচিত ছিলেন) সুযোগ্য কন্যা। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন রাঙ্গুনিয়ার ‘গাগরা খাল’ উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, তখন নিজ হাতের ব্যবহৃত কোদালটি উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলেন শিরিন আক্তারের পিতার হাতে। মায়ের দিক থেকেও তিনি পেয়েছেন রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা; তাঁর মা জাহান আরা বেগম ছিলেন মহিলা দলের নেত্রী ও তিন মেয়াদের সফল কাউন্সিলর। এছাড়া চট্টগ্রামের প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী সাংবাদিক, একুশে পত্রিকার প্রয়াত দূরদর্শী সম্পাদক আজাদ তালুকদার তাঁরই আপন ছোট ভাই। ১৯৮৭ সালে মাত্র ১২-১৩ বছর বয়সে ছাত্রদল করা চাচাতো ভাইকে ছাত্রলীগের হাত থেকে লাঠি নিয়ে একা উদ্ধার করার পর থেকেই তাঁর নাম হয়ে যায় রাজপথের ‘বাঘিনী কন্যা’।

‎বিগত চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি চট্টগ্রামের রাজপথে বুলেটের তোয়াক্কা না করে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যে পরিবারটি নিজেদের রক্ত এবং যৌবন দলের জন্য বাজি রেখেছে, আদর্শিক জায়গায় শতভাগ অবিচল থাকার পরও সেই শিরিন আক্তারকে দমাতে মাঝেমধ্যে ‘আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক’ থাকার মতো নোংরা ও সস্তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু কাদা ছুড়ে যার গায়ে দাগ লাগানো যায় না, তিনি শিরিন আক্তার।

‎আজ সময় এসেছে রাজপথের এই পরীক্ষিত ও নির্যাতিত নেতৃত্বকে তাঁর যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ (সাধারণ ওয়ার্ড ৪, ৫ ও ৬ – চান্দগাঁও এলাকা) থেকে কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশী তিনি। একই সাথে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের মূল কমিটির শীর্ষ পদের অন্যতম প্রধান ও যৌক্তিক দাবিদার তিনি।

‎তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, ২০১৬ সালের সেই ২০শে রমজানের রক্তাক্ত স্মৃতি আর ৩৬টি সেলাইয়ের দাগ যারা ভুলে যাননি, তারা জানেন শিরিন আক্তার ও তাঁর পরিবারের ত্যাগ কতখানি। চসিক নির্বাচনে চান্দগাঁও এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলকে আরও সুসংগঠিত করতে শিরিন আক্তারের মতো একজন শিক্ষিত, ঐতিহ্যবাহী এবং সর্বোচ্চ ত্যাগী নারী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।

চিকিৎসাধীন যুবদল নেতার পাশে কেন্দ্রীয় সভাপতি মুন্নাসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

৩৬ সেলাই ও রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে: এক দুঃসহ স্বৈরাচারী নির্যাতনের গল্প এবং অপরাজেয় ‘বাঘিনী কন্যা’ শিরিন আক্তার

আপডেট সময় : ০১:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

২০১৬ সালের সেই ২০শে রমজান, কোলে দুগ্ধপোষ্য সন্তান আর রক্তাক্ত স্বামীকে নিয়ে ঈদের আনন্দকে মাটি চাপা দিয়েও রাজপথ না ছাড়া এক মহীয়সী নেত্রীর উপাখ্যান।

রাসেল চৌধুরী :

‎বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসন আমল ছিল এক বিভীষিকার নাম। বিরোধী মতের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন হাজারো নেতা-কর্মী। কিন্তু সমস্ত ভয় ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, নিজের সর্বস্ব হারিয়েও যিনি আদর্শের প্রশ্নে এক চুলও আপস করেননি, তিনি চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের অন্যতম শীর্ষ কান্ডারি এবং রাজপথের পরীক্ষিত ‘বাঘিনী কন্যা’ শিরিন আক্তার। বিগত আওয়ামী দুঃশাসনে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা অমানুষিক নির্যাতনের লোমহর্ষক ইতিহাস আজ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি।

‎সময়টা ছিল ২০১৬ সালের পবিত্র মাহে রমজান। চারদিকে যখন ঈদের আনন্দ আর প্রস্তুতির আমেজ, ঠিক তখনই ২০শে রমজানের এক কালো রাতে শিরিন আক্তারের পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ার এক নৃশংস নীল নকশা বাস্তবায়ন করে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। লক্ষ্যবস্তু করা হয় শিরিন আক্তারের স্বামী—যিনি নিজেও এক আজন্ম বিএনপি পরিবারের সন্তান এবং দলের জন্য চরম ত্যাগী এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী নাজিম উদ্দীন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তাঁর ওপর চালানো হয় বর্বরোচিত হামলা।

‎ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাজিম উদ্দীনের শরীর ক্ষতবিক্ষত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি যখন মৃত্যুর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে, তখন হাসপাতালে তাঁর শরীরে দিতে হয়েছিল দীর্ঘ ৩৫টি সেলাই! চিকিৎসকেরা যেখানে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেখান থেকে যেন অলৌকিকভাবে এক নতুন জীবন ফিরে পান নাজিম উদ্দীন। কিন্তু নির্মমতার এখানেই শেষ ছিল না। একদিকে স্বামীর নিথর রক্তাক্ত দেহ, অন্যদিকে কোলে এক দুগ্ধপোষ্য অবুঝ সন্তান—এমন এক চরম মানবিক ও মানসিক সংকটের মুহূর্তেও তৎকালীন প্রশাসন এই ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কোনো মামলা নেয়নি। উল্টো স্বৈরাচারের দোসরদের হুমকি-ধমকির মুখে সেই অবুঝ সন্তানকে কোলে নিয়ে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীকে এক হাতে আগলে রেখে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল শিরিন আক্তারকে। সেই বছর পরিবারটির কপালে জোটেনি কোনো ঈদ, আনন্দের বদলে চারপাশ জুড়ে ছিল শুধু বেঁচে থাকার আকুতি আর স্বৈরাচারের আতঙ্ক।

‎কিন্তু একজন সাধারণ নারী যেখানে এই পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়তেন, সেখানে রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী বুনেদী পরিবারের রক্তে গড়া শিরিন আক্তার হয়ে উঠেছিলেন আরও বেশি ইস্পাতকঠিন। তিনি দমে যাননি, বরং স্বামীর এই রক্ত আর নিজের চোখের জলকে শক্তির উৎস বানিয়ে রাজপথে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সংসার, ৪ সন্তান (২ ছেলে, ২ মেয়ে) ও পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি সফলভাবে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হিসেবে নিজের উপার্জিত সমস্ত অর্থ বিলিয়ে দিতে শুরু করেন দল ও অসহায় নেতা-কর্মীদের কল্যাণে।

‎শিরিন আক্তারের এই রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতার শিকড় অনেক গভীরে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উত্তর পদুয়া ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আলহাজ খায়ের আহমদ তালুকদারের (যিনি এলাকায় ‘ইংলিশ খায়ের’ নামে সুপরিচিত ছিলেন) সুযোগ্য কন্যা। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন রাঙ্গুনিয়ার ‘গাগরা খাল’ উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, তখন নিজ হাতের ব্যবহৃত কোদালটি উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলেন শিরিন আক্তারের পিতার হাতে। মায়ের দিক থেকেও তিনি পেয়েছেন রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা; তাঁর মা জাহান আরা বেগম ছিলেন মহিলা দলের নেত্রী ও তিন মেয়াদের সফল কাউন্সিলর। এছাড়া চট্টগ্রামের প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী সাংবাদিক, একুশে পত্রিকার প্রয়াত দূরদর্শী সম্পাদক আজাদ তালুকদার তাঁরই আপন ছোট ভাই। ১৯৮৭ সালে মাত্র ১২-১৩ বছর বয়সে ছাত্রদল করা চাচাতো ভাইকে ছাত্রলীগের হাত থেকে লাঠি নিয়ে একা উদ্ধার করার পর থেকেই তাঁর নাম হয়ে যায় রাজপথের ‘বাঘিনী কন্যা’।

‎বিগত চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি চট্টগ্রামের রাজপথে বুলেটের তোয়াক্কা না করে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যে পরিবারটি নিজেদের রক্ত এবং যৌবন দলের জন্য বাজি রেখেছে, আদর্শিক জায়গায় শতভাগ অবিচল থাকার পরও সেই শিরিন আক্তারকে দমাতে মাঝেমধ্যে ‘আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক’ থাকার মতো নোংরা ও সস্তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু কাদা ছুড়ে যার গায়ে দাগ লাগানো যায় না, তিনি শিরিন আক্তার।

‎আজ সময় এসেছে রাজপথের এই পরীক্ষিত ও নির্যাতিত নেতৃত্বকে তাঁর যোগ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ (সাধারণ ওয়ার্ড ৪, ৫ ও ৬ – চান্দগাঁও এলাকা) থেকে কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশী তিনি। একই সাথে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের মূল কমিটির শীর্ষ পদের অন্যতম প্রধান ও যৌক্তিক দাবিদার তিনি।

‎তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, ২০১৬ সালের সেই ২০শে রমজানের রক্তাক্ত স্মৃতি আর ৩৬টি সেলাইয়ের দাগ যারা ভুলে যাননি, তারা জানেন শিরিন আক্তার ও তাঁর পরিবারের ত্যাগ কতখানি। চসিক নির্বাচনে চান্দগাঁও এলাকার সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলকে আরও সুসংগঠিত করতে শিরিন আক্তারের মতো একজন শিক্ষিত, ঐতিহ্যবাহী এবং সর্বোচ্চ ত্যাগী নারী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।