সৈয়দ গোলাম মোরশেদ আল হাসানী মাইজভান্ডারী
বিশুদ্ধ হওয়া, পবিত্র হওয়া, পরিস্কার হওয়া, সাফ হওয়া, নির্মল হওয়া, স্বচ্ছ হওয়া, এই গুলি তাকেই মানায় যিনি তার সব কিছু মুর্শিদ এর কদম এ দিয়ে নিজেকে শুন্য করে মহান আল্লারে সন্তুষ্টি অর্জন। অর্থাৎ, যে সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা সব সৃষ্টিজগত ও জীবসত্তার ধমনীতে স্পন্দিত, কোরআনের বাণী মোতাবেক যে প্রেমের কারণে এই সৃষ্টিজগতের উৎপত্তি এবং জগৎ সৃষ্টির উদ্দেশ্য আল্লাহকে জানা, আর মাধ্যম হলো প্রেম। সেই প্রেমের এই আদর্শকে ধারণ করেই শাহ সুফি আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী (র) নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করেছেন। হয়েছেন ফানাফিস শাইখ।
শুধু ধর্ম পালন নয়, ধর্ম ছিল তাঁর কাছে সাধনা এবং তাঁর জ্ঞান, ভক্তি, প্রেম ও কর্মের সঙ্গে যুক্ত করে ইসলামের আদর্শকে নতুন রূপে চেনার পথ উন্মোচন করা। গুরু বা মুর্শিদ প্রতি গভীর প্রেম ও ভক্তির মধ্যদিয়ে জীবনকে গড়েছেন ও অধ্যাত্ম জগৎকেই সমৃদ্ধ করেছেন। অন্তর আত্মাকে প্রসারিত করে সৃষ্টিকর্তার অসীমতাকে অবিনশ্বর সত্যের প্রকাশরূপে অনুধাবন করেছেন। জীবাত্মা থেকে পরমাত্মার পথে যাত্রায় নিজেকে বিলীন করে দেয়া। তিনি মনে করতেন মুর্শিদ এর প্রতি প্রেম না থাকলে সৃষ্টিকর্তাকে নিজের ভিতর অনুভব করা যায় না।
ফানাফিশ্ শাইখ হযরত শাহ সুফি আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী (র) এমন এক জন আল্লাহর ওলি ছিলেন যিনি মুর্শিদ প্রেমে দেওয়ানা, দরবার মুহব্বতে ফানা যিনি রাজার হালত ( অর্থ ধন সম্পদ)কে তুচ্ছ মনে করে আপন মুর্শিদ প্রেমে মজে নিজের শৈশব থেকেই আমৃত্যু অতিবাহিত করেছেন ।যেখান থেকৈ তিনি এই উচ্চ মাকাম এ পৌচেছেন সেই প্রেমের দরবার মাইজভান্ডার দরবার শরীফ। যার ধ্যান-জ্ঞান, নিদ্রা-জাগরন সব কিছুর সর্বাগ্রে ছিল মাইজভান্ডার দরবার শরীফ।
নিজ এলাকাতে আজিম ফকির হিসাবে পরিচিত এই মহান সাধক এর জন্ম ১৮ শতকের শেষ দিকে পটিয়া থানার বডলিয়া ইউনিয়নের ওক্যানার গ্রামের খাঁর পাড়ায় তিনি বাব মা এল ২য় সন্তান , তার বাবা ছিলেন আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ লাতু কবিরাজ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ও প্রসৃদ্ধ চিকিৎসক। যোগ্য পিতার আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়ায় সদ্য শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখা ফানাফিশ্ শাইখ হযরত শাহ সুফি আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী (র) পাড়া লেখার পাঠ না চুকিয়ে প্রেমের টানে অত্যন্ত বিপদজনক প্রতিকূল পরিবেশে সমতল, পাহাড় নদী পায়ে হেঁটে ছুটে ষান মাইজভান্ডার দরবার শরীফে। প্রথম যাওয়ায় মাওলার দরবারের প্রেম ভালোবাসায় মজে থিতু হয়ে উঠেন।এবং মাইজভান্ডার দর্শনের পূর্ণতা দানকারী, আওলাদে রাসুল ( দরুদ) ইউচুফে সানি, জামালে মোস্তফা গাউসুল আজম হষরত সৈয়দ গোলাম রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারী (ক: ) ও তার ভ্রতাগণের শৈশব থেকে খাদেম ও সহচর, হিসেবে ফানাফিশ্ শাইখ হযরত শাহ সুফি আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী (র) নিজেকে বিলীন করে দেন। সেই যে দরবারে যাওয়া এর পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত এই মহান সাধককে কেউ দরবার থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বাবার বৃত্ত বৈভবের পরোয়া না করে সদ্য কিশোর হযরত শাহ সুফি আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী (র) সখ্যতা গড়ে তুলেন মাইজভান্ডার দর্শনের পূর্ণতা দানকারী, ইউচুফে সানি, গাউসুল আজম হষরত সৈয়দ মওলানা গোলাম রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারী (ক) পরিবারের সাথে। একসময় হয়ে উঠেন বাবা ভান্ডারী (ক) আপন ছোট ভাই ও প্রধান সাহাবা খ্যাত হযরত শাহ সুফি আব্দুল ওহাব মাইজভান্ডারী ( ক) এর পাশে থেকে খেদমত করতে থাকেন বাবা ভান্ডারী ও ভ্রতাগণের।
আব্দুল আজিম ফকির মাইজভান্ডারী এটাই বুজাতেন তরীকতের মূলে মহব্বত, আবার মহব্বত খাঁটি হয় না, যে পর্যন্ত নফছ বশীভূত না হয়, খোদী না মেটে, সম্পদে বিপদে ধৈর্য না জন্মে। খোদার উপর পূর্ণ নির্ভরতা না আসে। জ্ঞানের দ্বারা খোদাকে পাওয়া যায় না। প্রেম দ্বারা পাওয়া যায়।’ মুর্শিদের প্রতি প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা ও ঐশী প্রেমেই সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার মূলকথা।
আধ্যাত্মিকতার ওয়াহদানিয়াত স্তরে উত্তীর্ণ ছালেক বা আরেফ সব কিছু বিলীন করে দিয়ে, নিজেকে ভুলে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার সত্তায় স্থিতি লাভ করে থাকেন। আজিম ফকির মাইজভান্ডারী (র) তাঁর জীবনে সংসারের মধ্যে থেকেও সংসার ত্যাগী হয়ে সব কিছু বিলীন করেছেন মুর্শিদ এর কদমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি রজন্য।
সৃষ্টিকর্তার অনন্ত শক্তি, অনন্ত ঐশ্বর্য, অনন্ত লীলা অনুধাবন করতে গেলে তা শুধুমাত্র ব্যক্তির জ্ঞানের পরিধির মধ্য থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এর জন্য সাধনা গোলামী ও ত্যাগের প্রয়োজন। তাই তিনি সৃষ্টিকর্তা প্রেমের স্বরূপ, তাঁকে ভালো না বাসলে তাঁকে বোঝাও দুষ্কর। সৃষ্টিকর্তা ও রাসুল ও মুর্শিদ এর দর্শন আজিম ফকির মাইজভান্ডারী নিজে পালন করে দেখিয়েছেন। প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নিজ মুর্শিদ ও মুর্শিদ পরিবার এর গোলমীর মাধ্যেমে আল্লাহর ও সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে উপলব্ধি করেছেন এবং ঐশী প্রেমের মধ্যদিয়ে আল্লাহকে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
আজিম ফকির এর মতে তাঁর মতে ‘প্রেমিকের মৃত্যু নেই। সে ইহজীবনে প্রভুর মিলন উপভোগ করে। প্রেমিকের মৃত্যু স্বর্গ ও মর্ত্ত্যরে সিঁড়িস্বরূপ। সে দেহ ত্যাগ করিয়া পর জীবনের প্রাসাদ ভোগ করিতে থাকে। তিনি মনে করতেন, ঐশী প্রেমের মধ্যে অহমিকা, রিয়া, হিংসা, বিদ্বেষ ইত্যাদির কোনো স্থান নেই।
যখন কারো মনে আল্লাহর প্রতি প্রেম সৃষ্টি হয়, নবী মুহাম্মদ (সা.) ও গাউছুল আজম বাবা ভান্ডারীর এর জন্য যার অন্তরে প্রেম, মহব্বত বা ইশ্ক সৃষ্টি হয়, তখুনি তিনি বুঝতে বা অনুধাবন করতে পারেন ঐশী প্রেমের মহিমা। মাওলার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের পরিসমাপ্তি কখনো ঘটে না। এ প্রেমের শুরু আছে, শেষ নেই।
আজিম ফকির মাইজভান্ডারী প্রেমের আকর্ষণে অক্লান্ত পথিকের মতো আজীবন গোলামীতে ছিলেন , ঠিক তেমনি তাঁর অনুসারী ও ভক্তকুলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। নিজেকে ছোট জ্ঞান করা, অমিত্ব বর্জন করা, অন্যের দোষ তালাশ না করে, নিজের দোষ তালাশ করা, সৃষ্টার সৃষ্টির প্রতি দয়া করা,
এই ঐশী প্রেমের মাধ্যমেই ফকিম আজিম মাইজভান্ডারী এই ভাবে আধ্যাত্মিকতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন এবং সবার মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছিলেন।তিনি সারা জীবন নিজেকে উৎসর্গ করেই অন্তরে ঐশী প্রেমের দ্বার উন্মুক্ত করেছেন। এর সবকিছুর মুলে হল গাউছূল আজম বাবা ভান্ডারী (ক) নিজ মুর্শিদ এরকদম এ নিজেকে বিলিন করা । তাই তো তিনি ফানাফিশ্ শাইখ এর মাকাম এ পৌছে গেলেন।
মহাকবি ইকবাল বলেছেন,
প্রেম হচ্ছে আপাদমস্তক সান্নিধ্য
প্রেম দমনই সৃষ্টির কোলাহল।
প্রেম সত্তারলীলা,শান্ত ও স্থীত,জীবন ও মৃত্যু, প্রেম হচ্ছে গোপন সমাধান।
ঐশী প্রেমের জন্যেই মনসুর,হাল্লাজ ‘আনাল হক’ বাণী উচ্চারণ করে শূলে চড়ে এবং শ্রী কৃষ্ণের ‘মোহন বাঁশী রাধার সুরে গান করে। ঐশী প্রেমই পরম সত্তার প্রেম বা আল্লাহর প্রেম। এ প্রেমই সবকিছুর উৎস-সৃষ্টির মূল।প্রেমই প্রেমিক ও প্রেমাস্পদ তথা মানবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন ঘটায়। প্রেম সকল ব্যাধির মহৌষধ। প্রেম মনকে মলিনতা ও পাপাসক্তি হতে মুক্ত করে নির্মল,পবিত্র ও উন্নত করে। প্রেমের বলেই মাটির দেহ আকাশে উন্নীত হয়েছিল।প্রেমের স্পর্শে পর্বত্য সচল হয়েছিল।প্রেমই পরম সৌন্দর্য এবং সৌন্দর্য প্রেম। প্রেমের আবেগে পরম সৌন্দর্যের সন্ধান পাওয়া যায়। তাতে পরম সৌন্দর্যের সাথে এক মহামিলন ঘটে। এটা সাধারণভাবেই বলা হয়ে থাকে যে, অবুঝের প্রেম পাাগলামি মাত্র। প্রেমিক হতে হলে জ্ঞানী হতে হয়। জ্ঞানীর প্রেমের গভীরতা প্রগাঢ়। স্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কে কোন চিন্তাশীল ধারণা না থাকলে প্রেমের উদ্দীপনা জম্মায় না। জ্ঞানীর প্রেম তার আত্মাকে শক্তিশালী করে ক্রমাগত উর্ধ্ব দিকে নিয়ে যায় এবং পরিশেষে প্রেমাস্পাদের সাথে মিলন ঘটায়।
আমি আমার মুর্শিদ কেবলা ইউছুপ মাওলা বাবাজান এর কাছে শুনেছি আজিম ফকির ওহাব মনজিলের বায়াত হলেও দরাবর বাবা ভান্ডারীর সকল ভাইদের প্রতি ছিল অসীম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । এবং সফর সংগি হতেন ও হুকুম তামিল করতেন।। একদিন ওহাব বাবাজান ময়মনসিংহ সফর এ গেলে আজিম ফকির কে দরবার এ রেখে যান উল্লেখ্য যে ওহাব বাবাজান এর আর এক জন ফয়েজ প্রাপ্ত খলিফা পটিয়া নলান্দার সুরমা ফকির নামের একজন আশেক ও ওহাব বাবার খেদমত এ নিয়োজিত ছিলেন। হজরত বাবা ভান্ডারী কেবলা বাবার বড় ভাই সৈয়দেনা গোলাম সোবহান ( ক) (প্রকাশ জেঠাজি বাবাজান) এক মাত্র শাহাজাদা সৈয়দ আব্দুল মাবুদ খেদমতে হুকুম করলে সন্ধার মাগরিব দিকে আজিম ফকির মাইজভান্ডারী সব কিছূ ছেড়ে দাদাজান এর খেদমত নিয়োজিত ছিলেন এবং হাত পাকা দিয়ে বাতাস করেতে ছিলেন ওই সময় সুরমা ফকির দেখলেন আজিম ফকির সন্ধা থেকে এক নাগাড়ে বাতাস করেই যাচ্চেন সুরমা ফকির সুরমা বিক্রি বন্ধ করে যখন মনজিল ফিরছেন তখন রাত ৯টা তখন ও আজিম ফকির বাতাস করতে করতে হাত বেথা হয়ে কাতরাচ্ছেন সেই সুরমা ফকির বলল আমাকে দাও আমি বাতাস করি তুমি একটু বিশ্রাম কর খেয়ে নাও । তখন আজিম ফকির মাইজ ভান্ডারী বলল বাবাজান আমাকে হুকুম করেছে বাতাস করতে, উনার হুকুম ছাড়া হাত পাখা কেউ নিতে পারবে না ও হুকুম না হওয়া পর্যন্ত খানা খাবেন না। হাত বেথা হোক ও ফুলে যাক আমি বাতাস করতে থাকবো। এটা সৈয়দেনা আবদুল মাবুদ বাবাজান খেয়াল করে মুছকি হাসছিলেন অতপর আমার দাদাজান আজিম ফকির ও সুরমা ফকির সহ আরো কয়েক জন ভক্ত খানা খেতে বসলেন , দেখলেন সবাই খেয়ৈ উঠে গেলেও আজিম ফকির হাতে বেথার জন্য খানা খেতে পারছেন না এবং চোখ বিজে যাছ্ছে। তখন মাবুদ বাবাজান নিজ মোবারক হাতে আজিম ফকির কে সম্পূর্ন খানা খাইয়ে দিলেন এবং হাতে হাত বুলিয়ে দিলেন নিমিষে বেথা চলে গেল এবং বললেন বাবা আমাকে তো বলেতে পারতি হাতে বেথা করছে একটু পর আবার বাতাস করি। তখন আজিম ফকির বলল গোলাম এর কাজ মনিব এর খেদমত করা এবং হুকুম না হওয়া পযর্ন্ত প্রান চলে গেলেও কাজ থেকে বিরত না থাকা । এটা থেকে উপস্থিত ভক্ত দের বুজিয়ে দিল কেমন গোলামী করলে খেদমতে খালক ও খেদমতে হক্বে কিভাবে অর্জন করতে হয়। কিভাবে ফানা করে দিতে হয় মনিবের কদম এ।
আরো একটা কাজ করত আজিম ফকির পকেটে এ চকেলেট রাখতো দরবার ছোট ছোট নুরানী আওলাদ পাক গন খেলেতে যেতেন তখন আজিম ফকির এর কাছে বায়না ধরত চকোলেট এর জন্য আজিম ফকির নিজের জন্য রাখা টাকা দিয়ে দোকানের সব চকোলেট কিনে নিতেন এবং ছোট শিশু আওলাদ গনের কাছে বিলিয়ে দিতেন নিজের জন্য কিছু রাখতেন না। জানতে চাইলে বলতেন রাসুল এর নাতীদের আনন্দ এ রাখা খুশি রাখা আমার এবাদত । কি রকম ফানা ছিলেন দরবার এর প্রতি ও তার আওলাদ গনের প্রতি আজিম ফকির এর এই দুইটা উদাহারন থেকে বুজা যায়। এই আর্দশ খেদমত আর গোলমী এখন আর নাই ও খুব একটা চোখে পড়ে না।
এই মহান সাধক সম্পর্কে তাহার নাতনী কবি নুর মুহাম্মদ চৌধুরী সাহিত্যরত্নের সহধর্মিণী নুর জাহানের বর্ণনা মতে ওনি (নানা) সারাজীবন দরবারে থাকতেন শুরু দরবারের ওরশ আসলে আমাদের দরবারে নিয়ে যেতে আসতেন। নানার সাথে দরবারে গিয়ে রাজার হালতে একেকবার মাস দুয়েক করে কাসেম এর বাবার বাড়ি তথা হযরত শাহ সুফি আব্দুল ওহাব মাইজভান্ডারী (ক) বাড়িতে থাকতাম। আমি যতবার দরবার শরীফে গিয়েছিম নানাকে বাবা ভান্ডারীর (ক) হুজরা মুবারকে ওনার খেদমতে থাকতেন আর বাবা জানের ওফাতের পর হযরত শাহ সুফি আব্দুল ওহাব মাইজভান্ডারী (ক) এর ডান পাশে অবস্থান করতেন ও সব সময় ওনার সাথে থাকতেন।
মুর্শিদ ও শীর্ষের প্রেম এতটা গভীর ছিল যে এই সাধকের বয়স ৬০ বছর হলেও সংসার ধর্মে জড়াননি। আবার সাধকের ৬০ বছর বয়সে বিয়েও গুরু শিষ্যের এক লিলা। ৬০ বছর বয়সে মুর্শিদ নিজে এই সাধককে বিয়ে দেন আরেক আমৃত্যু দরবারের খেদমতগার সাতকানিয়ার আলমাস খাতুন মাইজভান্ডারীর সাথে দরবারে। এখানে কি শেষ! ষে বয়সে বিয়ে করলে কারো সন্তান হওয়ার সম্ভবনা শূন্যের কোটায় সেই বয়সে বিয়ে করে শিষ্যের ঘর আলো করে জন্ম নেন তাদের একমাত্র সন্তান আব্দুর রশীদ। সন্তান জন্মের পর আলমাস খাতুন মাইজভান্ডারী বেঁচে ছিলেন দেড় বছর ও এই সাধক ছয় বছর।
১৯৬০ সালের এই মহান সাধক ফানাফিশ্ শাইখ হযরত শাহ সুফি আব্দুল আজিম মাইজভান্ডারী (ক) আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ঐশি প্রেমের সুধা পান করেন। এই মহান সাধককে পটিয়া থানার বডলিয়া ইউনিয়নের ওক্যানার গ্রামে খান মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়। প্রতি বছর ২২ ফাল্গুন এই মহান সধকের বর্ষিক ওরশ শরীফ ইতিমধ্যে পটিয়া থানার হুলাইন গ্রামে এই মহান সাধকের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার মহান দরবার এর নাম আজিম ভান্ডার দরবার শরীফ।
লেখক :
সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম এ দরবার
গাউছিয়া বাবে সোবহান মনজিল
মাইজভান্ডার দরবার শরীফ চট্টগ্রাম।















