ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালুরঘাট শিল্পনগরীতে স্বস্তি: আতঙ্ক ছড়ানো সেই ‘মূল হোতা’ রুবেল গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 47

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক জোন কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চোর, ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের নেতৃত্ব দেওয়া ‘মূল হোতা’ মো. রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শিল্প এলাকার সাধারণ শ্রমিক ও কারখানা মালিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় শিল্পকারখানা সূত্রে জানা যায়, কালুরঘাট শিল্প এলাকায় রুবেলের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী সিন্ডিকেট। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতে ও ভোরে যাতায়াতকারী সাধারণ পোশাক শ্রমিক ও বিভিন্ন কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করে আসছিল। বিশেষ করে বেতন ও বোনাসের দিনগুলোতে শ্রমিকদের পথরোধ করে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই করা এবং গভীর রাতে কলকারখানার মূল্যবান কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি চুরি ও লুটপাট করাই ছিল তাদের মূল কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

 

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমরা বেশ কিছুদিন ধরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করছিলাম। গণমাধ্যম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগের পর আমরা একটি বিশেষ টিম গঠন করি। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে চোর ও ছিনতাই চক্রের মূল হোতা রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল একজন পেশাদার এবং চিহ্নিত অপরাধী। সিএমপির বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক চুরি, ছিনতাই এবং মাদক চোরাচালানের মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল শিল্প এলাকায় তার অপরাধ চক্র পরিচালনার কথা স্বীকার করেছে এবং তার চক্রের অন্য সহযোগীদের ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, রুবেলের সিন্ডিকেটে আরও বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা মূলত শিল্প এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ছিনতাই ও চুরির কাজগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করত। মূল হোতা গ্রেপ্তার হলেও চক্রের বাকি সদস্যরা এখনো পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে কালুরঘাট ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।

 

এই ঘটনার পর কালুরঘাট শিল্পনগরীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতে ও ভোরবেলায় যখন শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তন হয়, তখন শিল্প এলাকার প্রবেশপথ ও অন্ধকার গলিগুলোতে পুলিশের বিশেষ টহল (মোবাইল টিম) জোরদার করা হবে। একই সাথে বিসিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

 

শিল্পনগরীতে চুরির ঘটনার সূত্র ধরে রুবেলের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় একটি নতুন নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এদিকে রুবেলের গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। তারা অনতিবিলম্বে এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিসিক শিল্পনগরীকে স্থায়ীভাবে অপরাধমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

কালুরঘাট শিল্পনগরীতে স্বস্তি: আতঙ্ক ছড়ানো সেই ‘মূল হোতা’ রুবেল গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক জোন কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে চোর, ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের নেতৃত্ব দেওয়া ‘মূল হোতা’ মো. রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শিল্প এলাকার সাধারণ শ্রমিক ও কারখানা মালিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় শিল্পকারখানা সূত্রে জানা যায়, কালুরঘাট শিল্প এলাকায় রুবেলের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী সিন্ডিকেট। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতে ও ভোরে যাতায়াতকারী সাধারণ পোশাক শ্রমিক ও বিভিন্ন কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করে আসছিল। বিশেষ করে বেতন ও বোনাসের দিনগুলোতে শ্রমিকদের পথরোধ করে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই করা এবং গভীর রাতে কলকারখানার মূল্যবান কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি চুরি ও লুটপাট করাই ছিল তাদের মূল কাজ। সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

 

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমরা বেশ কিছুদিন ধরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করছিলাম। গণমাধ্যম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগের পর আমরা একটি বিশেষ টিম গঠন করি। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে চোর ও ছিনতাই চক্রের মূল হোতা রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল একজন পেশাদার এবং চিহ্নিত অপরাধী। সিএমপির বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক চুরি, ছিনতাই এবং মাদক চোরাচালানের মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল শিল্প এলাকায় তার অপরাধ চক্র পরিচালনার কথা স্বীকার করেছে এবং তার চক্রের অন্য সহযোগীদের ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, রুবেলের সিন্ডিকেটে আরও বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যারা মূলত শিল্প এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ছিনতাই ও চুরির কাজগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করত। মূল হোতা গ্রেপ্তার হলেও চক্রের বাকি সদস্যরা এখনো পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে কালুরঘাট ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।

 

এই ঘটনার পর কালুরঘাট শিল্পনগরীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতে ও ভোরবেলায় যখন শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তন হয়, তখন শিল্প এলাকার প্রবেশপথ ও অন্ধকার গলিগুলোতে পুলিশের বিশেষ টহল (মোবাইল টিম) জোরদার করা হবে। একই সাথে বিসিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

 

শিল্পনগরীতে চুরির ঘটনার সূত্র ধরে রুবেলের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় একটি নতুন নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এদিকে রুবেলের গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। তারা অনতিবিলম্বে এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিসিক শিল্পনগরীকে স্থায়ীভাবে অপরাধমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।