ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের হালিশহরে গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং বিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত

  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 338

১৫০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেড় কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত রাজপথ; অপরাধীদের দমনে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক স্কুল সভাপতি মো. নাজিম উদ্দীনের।

বিশেষ প্রতিনিধি

সকালটা আর দশটা সাধারণ দিনের মতো ছিল না। হালিশহরের আকাশ-বাতাস তখন মুখরিত তরুণদের দীপ্ত স্লোগানে। একদিকে মাদকের নীল দংশন ও কিশোর গ্যাংয়ের সামাজিক আতঙ্ক, অন্যদিকে পাড়া-মহল্লায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা বা ইভটিজিংয়ের মতো ব্যাধি— এই ত্রিমুখী অন্ধকারের বিরুদ্ধে এবার বুক টানটান করে রাজপথে নামল চট্টগ্রামের হালিশহর আই ব্লকের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ‘গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়’।

 

আজ ০৬ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়টির প্রায় ১৫০০ এর অধিক শিক্ষার্থীর সম্মিলিত বজ্রকণ্ঠ ও পদযাত্রায় হালিশহরের রাজপথ রূপ নিয়েছিল সামাজিক প্রতিরোধের এক জীবন্ত দেয়ালে।

 

সকাল গড়াতেই বর্ণিল ব্যানার, সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড আর বখাটেপনা-বিরোধী ফেস্টুন হাতে স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হন দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। আই ব্লকের ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল পদযাত্রা ‘হল সেভেন’ মোড় হয়ে বিডিআর মাঠ স্পর্শ করে। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ গেট, সেনানিবাসের সম্মুখভাগ এবং রাবেয়া বসরী স্কুলের রাস্তা ধরে জি-ব্লক হয়ে পুনরায় স্কুল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। বিশাল এই মিছিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসীকে হাত তালি দিয়ে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে দেখা যায়।

 

এই ব্যতিক্রমী ও বিশাল র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. নাজিম উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের সন্তানদের আমরা শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যন্ত্র বানাতে চাই না। তাদের মানবিক ও সুস্থ নাগরিক হতে হবে। হালিশহরের মাটিতে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং বা ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকারী বখাটেদের অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইভটিজিং মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সাহস জোগান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা বখাটে ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

 

এত বড় র‍্যালিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর অভাবনীয় শৃঙ্খলা। সামনের সারিতে থেকে পুরো ব্যানারকে নেতৃত্ব দেন মোঃ কামাল উদ্দিন, শরাফত আলী এবং অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি কিবরিয়া। আর পুরো রুটজুড়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নেওয়া হয়েছিল এক অভিনব কৌশল। প্রতি ৩০ ফুট পরপর লাইনের মাঝখানে একজন করে শিক্ষকের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাহারায় ছিল স্কুল স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের ৪ জন করে চৌকস সদস্য। তন্বী দাশ, মোঃ রফিকুল ইসলাম, নূর নাহার বেগম, মোঃ হোসেন এবং মোঃ আজিজুল হকের সুচারু তদারকিতে এত বড় মিছিল সত্ত্বেও পুরো এলাকায় কোনো ধরনের ট্রাফিক জ্যাম বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

 

র‍্যালি চলাকালীন সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং মাদক, কিশোর অপরাধ ও ইভটিজিংয়ের কুফল তুলে ধরে মাইকে অনবরত ঘোষণা ও স্লোগান দিয়ে যান প্রশান্ত পাল ও সরোয়ার আজাদ। এছাড়াও পুরো আয়োজনটি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে অবিরাম পরিশ্রম করেন মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ নিজাম উদ্দিন সুমন, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মীর মোহাম্মদ উযাইর, সাদ্দাম হোসেন বাবু ও কামরুলসহ স্কুলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

হালিশহরের বাসিন্দারা বলছেন, ছাত্রীদের যাতায়াতের পথ নিরাপদ করতে এবং এলাকাকে কিশোর অপরাধমুক্ত রাখতে একটি স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থীর এমন সাহসী ও সুশৃঙ্খল উদ্যোগ দেখে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এখন এগিয়ে আসা উচিত। তবেই সমাজ থেকে এই ব্যাধিগুলো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রামের হালিশহরে গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং বিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

১৫০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেড় কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত রাজপথ; অপরাধীদের দমনে সামাজিক প্রতিরোধের ডাক স্কুল সভাপতি মো. নাজিম উদ্দীনের।

বিশেষ প্রতিনিধি

সকালটা আর দশটা সাধারণ দিনের মতো ছিল না। হালিশহরের আকাশ-বাতাস তখন মুখরিত তরুণদের দীপ্ত স্লোগানে। একদিকে মাদকের নীল দংশন ও কিশোর গ্যাংয়ের সামাজিক আতঙ্ক, অন্যদিকে পাড়া-মহল্লায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা বা ইভটিজিংয়ের মতো ব্যাধি— এই ত্রিমুখী অন্ধকারের বিরুদ্ধে এবার বুক টানটান করে রাজপথে নামল চট্টগ্রামের হালিশহর আই ব্লকের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ‘গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়’।

 

আজ ০৬ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়টির প্রায় ১৫০০ এর অধিক শিক্ষার্থীর সম্মিলিত বজ্রকণ্ঠ ও পদযাত্রায় হালিশহরের রাজপথ রূপ নিয়েছিল সামাজিক প্রতিরোধের এক জীবন্ত দেয়ালে।

 

সকাল গড়াতেই বর্ণিল ব্যানার, সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড আর বখাটেপনা-বিরোধী ফেস্টুন হাতে স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হন দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। আই ব্লকের ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল পদযাত্রা ‘হল সেভেন’ মোড় হয়ে বিডিআর মাঠ স্পর্শ করে। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ গেট, সেনানিবাসের সম্মুখভাগ এবং রাবেয়া বসরী স্কুলের রাস্তা ধরে জি-ব্লক হয়ে পুনরায় স্কুল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। বিশাল এই মিছিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসীকে হাত তালি দিয়ে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে দেখা যায়।

 

এই ব্যতিক্রমী ও বিশাল র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. নাজিম উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের সন্তানদের আমরা শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যন্ত্র বানাতে চাই না। তাদের মানবিক ও সুস্থ নাগরিক হতে হবে। হালিশহরের মাটিতে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং বা ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকারী বখাটেদের অপসংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইভটিজিং মুক্ত নিরাপদ পরিবেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সাহস জোগান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা বখাটে ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

 

এত বড় র‍্যালিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর অভাবনীয় শৃঙ্খলা। সামনের সারিতে থেকে পুরো ব্যানারকে নেতৃত্ব দেন মোঃ কামাল উদ্দিন, শরাফত আলী এবং অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি কিবরিয়া। আর পুরো রুটজুড়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নেওয়া হয়েছিল এক অভিনব কৌশল। প্রতি ৩০ ফুট পরপর লাইনের মাঝখানে একজন করে শিক্ষকের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাহারায় ছিল স্কুল স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের ৪ জন করে চৌকস সদস্য। তন্বী দাশ, মোঃ রফিকুল ইসলাম, নূর নাহার বেগম, মোঃ হোসেন এবং মোঃ আজিজুল হকের সুচারু তদারকিতে এত বড় মিছিল সত্ত্বেও পুরো এলাকায় কোনো ধরনের ট্রাফিক জ্যাম বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি।

 

র‍্যালি চলাকালীন সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং মাদক, কিশোর অপরাধ ও ইভটিজিংয়ের কুফল তুলে ধরে মাইকে অনবরত ঘোষণা ও স্লোগান দিয়ে যান প্রশান্ত পাল ও সরোয়ার আজাদ। এছাড়াও পুরো আয়োজনটি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে অবিরাম পরিশ্রম করেন মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ নিজাম উদ্দিন সুমন, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মীর মোহাম্মদ উযাইর, সাদ্দাম হোসেন বাবু ও কামরুলসহ স্কুলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

হালিশহরের বাসিন্দারা বলছেন, ছাত্রীদের যাতায়াতের পথ নিরাপদ করতে এবং এলাকাকে কিশোর অপরাধমুক্ত রাখতে একটি স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থীর এমন সাহসী ও সুশৃঙ্খল উদ্যোগ দেখে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এখন এগিয়ে আসা উচিত। তবেই সমাজ থেকে এই ব্যাধিগুলো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।