ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বর্ণিল আয়োজনে ১৮০তম বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস উদযাপন, ছিল সেমিনার ও ফ্যামিলি নাইট

  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 18

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে জাদুকরী ও যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘অ্যানেস্থেশিয়া’র ১৮০ বছর পূর্তিতে আজ বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস ২০২৬। বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস (বিএসএসিপিপিপি) চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য র‍্যালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বৈজ্ঞানিক সেমিনার এবং চিকিৎসকদের পরিবার নিয়ে জমকালো ‘ফ্যামিলি নাইট’-এর আয়োজন করা হয়।

আজ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান উদ্বোধক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

উদ্বোধনের পর চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে একটি সুসজ্জিত ও আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি চমেক হাসপাতালের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সকালের এই উদ্বোধনী র‍্যালিতে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিকিৎসকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা হলেন ওটি এবং আইসিইউর নেপথ্যের আসল নায়ক। একজন রোগী যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন, তখন পরম মমতায় ও দক্ষতায় তাকে সুরক্ষিত রাখেন এই চিকিৎসকরাই। চট্টগ্রামের চিকিৎসাসেবা এবং এর অবকাঠামোগত আধুনিকায়নে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চিকিৎসকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত সংকট দূর করা জরুরি।

 

অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের অবদানকে সামনের সারিতে এনে মূল্যায়ন করতে হবে এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংসদ ও রাষ্ট্র সর্বদা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে”। র‍্যালিতে আরও অংশ নেন চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন।

 

 

দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার। এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য অস্ত্রোপচারের আগে, চলাকালীন এবং পরে – রোগীর পুরো চিকিৎসাপথে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টগণ -কে সামনে রেখে সেমিনারে আলোচনা করা হয়। চমেক হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান ও বিএসএসিপিপিপি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মো. কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং ডা. এম. এন. জায়েদ বাশরীর সঞ্চালনায় এতে বিশেষজ্ঞরা আধুনিক চিকিৎসায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ক্যানসার রোগীদের ব্যথা নিরাময়ে অ্যানেস্থেসিওলজির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে বিশদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

 

বিকেলের পর পুরো আয়োজন রূপ নেয় এক উৎসবমুখর পারিবারিক মিলনমেলায়। কর্মব্যস্ততার গণ্ডি পেরিয়ে চিকিৎসকরা মেতে ওঠেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ ‘ফ্যামিলি নাইট’-এ। রাতের এই সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এমপি।

 

রাতের প্রোগ্রামে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, অপারেশন থিয়েটার কিংবা আইসিইউ—প্রত্যেকটি সংকটাপন্ন মুহূর্তে আপনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা হলেন ওটির নেপথ্যের আসল নায়ক। আমাদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, তার মূল ভিত্তি হবে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা। চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্র সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

 

দীর্ঘদিনের সহকর্মী আর তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল যেন এক চিলতে আনন্দদ্বীপে পরিণত হয়। চিকিৎসকদের সন্তানদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজের মাধ্যমে এই বর্ণিল উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রামে বর্ণিল আয়োজনে ১৮০তম বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস উদযাপন, ছিল সেমিনার ও ফ্যামিলি নাইট

আপডেট সময় : ০৫:১৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে জাদুকরী ও যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘অ্যানেস্থেশিয়া’র ১৮০ বছর পূর্তিতে আজ বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস ২০২৬। বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস (বিএসএসিপিপিপি) চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য র‍্যালি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বৈজ্ঞানিক সেমিনার এবং চিকিৎসকদের পরিবার নিয়ে জমকালো ‘ফ্যামিলি নাইট’-এর আয়োজন করা হয়।

আজ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান উদ্বোধক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

উদ্বোধনের পর চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে একটি সুসজ্জিত ও আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি চমেক হাসপাতালের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সকালের এই উদ্বোধনী র‍্যালিতে সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিকিৎসকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা হলেন ওটি এবং আইসিইউর নেপথ্যের আসল নায়ক। একজন রোগী যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন, তখন পরম মমতায় ও দক্ষতায় তাকে সুরক্ষিত রাখেন এই চিকিৎসকরাই। চট্টগ্রামের চিকিৎসাসেবা এবং এর অবকাঠামোগত আধুনিকায়নে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “চিকিৎসকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত সংকট দূর করা জরুরি।

 

অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের অবদানকে সামনের সারিতে এনে মূল্যায়ন করতে হবে এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংসদ ও রাষ্ট্র সর্বদা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে”। র‍্যালিতে আরও অংশ নেন চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন।

 

 

দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার। এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য অস্ত্রোপচারের আগে, চলাকালীন এবং পরে – রোগীর পুরো চিকিৎসাপথে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টগণ -কে সামনে রেখে সেমিনারে আলোচনা করা হয়। চমেক হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান ও বিএসএসিপিপিপি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মো. কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং ডা. এম. এন. জায়েদ বাশরীর সঞ্চালনায় এতে বিশেষজ্ঞরা আধুনিক চিকিৎসায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ক্যানসার রোগীদের ব্যথা নিরাময়ে অ্যানেস্থেসিওলজির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে বিশদ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

 

বিকেলের পর পুরো আয়োজন রূপ নেয় এক উৎসবমুখর পারিবারিক মিলনমেলায়। কর্মব্যস্ততার গণ্ডি পেরিয়ে চিকিৎসকরা মেতে ওঠেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ ‘ফ্যামিলি নাইট’-এ। রাতের এই সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এমপি।

 

রাতের প্রোগ্রামে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, অপারেশন থিয়েটার কিংবা আইসিইউ—প্রত্যেকটি সংকটাপন্ন মুহূর্তে আপনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা হলেন ওটির নেপথ্যের আসল নায়ক। আমাদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমরা নিয়েছি, তার মূল ভিত্তি হবে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা। চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্র সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

 

দীর্ঘদিনের সহকর্মী আর তাদের পরিবারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল যেন এক চিলতে আনন্দদ্বীপে পরিণত হয়। চিকিৎসকদের সন্তানদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজের মাধ্যমে এই বর্ণিল উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।