ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অচলাবস্থার চতুর্থ দিনেও উত্তাল চুয়েট, রবিবারে পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক

  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 56

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সর্বাত্মক শাটডাউনে স্থবির হয়ে আছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই আন্দোলনে এখন পুরোপুরি শামিল হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরে গতকাল নতুন উপাচার্যের অনলাইনে কার্যভার গ্রহণের ঘটনাটি আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের আগুনে যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ সোজাসুজি জানিয়ে দিয়েছেন, “নতুন উপাচার্যকে আমরা চুয়েটে চাই না”। এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

 

আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় “সায়েম স্যারের অন্যায় অপসারণ মানি না”, “ক্যাম্পাসে বহিরাগত ভিসি চলবে না” সংবলিত স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। সমাবেশ শেষে বিকেল থেকে চুয়েটের প্রধান ফটক, শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবনের দেয়ালে দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

 

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুয়েটের আবাসিক হলগুলো থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক মশাল মিছিল বের করা হয়। শত শত শিক্ষার্থীর হাতের মশাল আঁধারে এক সুদৃঢ় ঐক্যের বার্তা দেয়। আন্দোলনকারীরা জানান, মাত্র ৫৬ দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত সৎ ও শিক্ষার্থীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় একজন উপাচার্যকে কেন কোনো নোটিশ ছাড়া হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হলো, তার যৌক্তিক জবাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে।

 

আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতায় চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। শিক্ষক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করার কোনো বিকল্প নেই।

 

একই সাথে তাঁরা ঘোষণা দেন, আগামী রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতীকী ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সমাধান না এলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির দিকে যাবেন তাঁরা।

 

এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদানের খবর চুয়েট পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আরও বেশি একাত্ম করেছে। চুয়েটকে সেশনজট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক জটিলতা থেকে রক্ষা করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও বাস্তবসম্মত জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন চুয়েটের শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

অচলাবস্থার চতুর্থ দিনেও উত্তাল চুয়েট, রবিবারে পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সর্বাত্মক শাটডাউনে স্থবির হয়ে আছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই আন্দোলনে এখন পুরোপুরি শামিল হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরে গতকাল নতুন উপাচার্যের অনলাইনে কার্যভার গ্রহণের ঘটনাটি আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের আগুনে যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ সোজাসুজি জানিয়ে দিয়েছেন, “নতুন উপাচার্যকে আমরা চুয়েটে চাই না”। এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

 

আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বরে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় “সায়েম স্যারের অন্যায় অপসারণ মানি না”, “ক্যাম্পাসে বহিরাগত ভিসি চলবে না” সংবলিত স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। সমাবেশ শেষে বিকেল থেকে চুয়েটের প্রধান ফটক, শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবনের দেয়ালে দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

 

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুয়েটের আবাসিক হলগুলো থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক মশাল মিছিল বের করা হয়। শত শত শিক্ষার্থীর হাতের মশাল আঁধারে এক সুদৃঢ় ঐক্যের বার্তা দেয়। আন্দোলনকারীরা জানান, মাত্র ৫৬ দিন আগে দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত সৎ ও শিক্ষার্থীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় একজন উপাচার্যকে কেন কোনো নোটিশ ছাড়া হঠাৎ সরিয়ে দেওয়া হলো, তার যৌক্তিক জবাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে।

 

আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতায় চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। শিক্ষক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করার কোনো বিকল্প নেই।

 

একই সাথে তাঁরা ঘোষণা দেন, আগামী রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতীকী ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সমাধান না এলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির দিকে যাবেন তাঁরা।

 

এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদানের খবর চুয়েট পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আরও বেশি একাত্ম করেছে। চুয়েটকে সেশনজট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক জটিলতা থেকে রক্ষা করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও বাস্তবসম্মত জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন চুয়েটের শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।