ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ থেকে কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই: সিইসি

  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
  • 752

আজ থেকে কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক,
শপথ নেয়ার দিন থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে আস্থায় এনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এসে এ কথা বলেন নতুন সিইসি। বুধবার বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার‌্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এর আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সিইসিসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনারকে (ইসি) শপথবাক্য পাঠ করান।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। কিন্তু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে বিএনপি নতুন সিইসি এ কে এম নুরুল হুদার ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করে। বিএনপির অভিযোগ, নতুন সিইসি ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনী বোর্ডে ছিলাম না। এমন কোনো বোর্ড আমাদের করা হয়নি। আজকের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য শপথ নিয়েছি।সেই অনুযায়ী কাজ করব।’

জনতার মঞ্চ হলো তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মেয়র হানিফের নেতৃত্বে গড়ে তোলা সমাবেশ মঞ্চ। বিএনপির সরকারের পদত্যাগ পর‌্যন্ত ওই মঞ্চ ঘিরে সমাবেশ হয়। তাতে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কিছু কর্মকর্তা অংশ নেন।

তবে সিইসি কে এম নুরুল হুদা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তখন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলেন। তাই জনতার মঞ্চে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।

আজ শপথ নেয়ার পর অন্য কমিশনারদের নিয়ে নিজ কার‌্যালয়ে যান নতুন সিইসি। পরে সেখানে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

শুরুতে নিজেদের সাংবিধানিক দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন কে এম নুরুল হুদা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন কি না- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করা। সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা। কোথায় কী সমস্যা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানে পরিকল্পনা করা।’

সিইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কবে বসব তা নিয়ে সহকর্মীদের আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। এখন এ নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই।’

গত নির্বাচন কমিশন নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী? উত্তরে সিইসি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ তো একটাই। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। এ জন্য আমরা আলাপ-আলোচনা করে পরিকল্পনা ঠিক করব। কীভাবে কী পরিকল্পনা করব, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।’

প্রভাবমুক্ত ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে নতুন সিইসি তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করব। সে ক্ষেত্রে শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগসহ সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে আস্থায় আনব। আমরা এটা করতে পারব, আমাদের এই বিশ্বাস আছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হুদা বলেন, ‘আমরা সংবিধান ও আইনকানুনের বাইরে কোনো প্রভাবকে প্রশ্রয় দেব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করব।’

সিইসি জনতার মঞ্চের সংগঠন ছিলেন- বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের এমন দাবির বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এ কথা সত্যি নয়।এটা মিথ্যা কথা।’

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আজ থেকে কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই: সিইসি

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আজ থেকে কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক,
শপথ নেয়ার দিন থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে আস্থায় এনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ নেয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে এসে এ কথা বলেন নতুন সিইসি। বুধবার বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার‌্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এর আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সিইসিসহ অন্য চার নির্বাচন কমিশনারকে (ইসি) শপথবাক্য পাঠ করান।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। কিন্তু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে বিএনপি নতুন সিইসি এ কে এম নুরুল হুদার ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করে। বিএনপির অভিযোগ, নতুন সিইসি ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনী বোর্ডে ছিলাম না। এমন কোনো বোর্ড আমাদের করা হয়নি। আজকের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য শপথ নিয়েছি।সেই অনুযায়ী কাজ করব।’

জনতার মঞ্চ হলো তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মেয়র হানিফের নেতৃত্বে গড়ে তোলা সমাবেশ মঞ্চ। বিএনপির সরকারের পদত্যাগ পর‌্যন্ত ওই মঞ্চ ঘিরে সমাবেশ হয়। তাতে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কিছু কর্মকর্তা অংশ নেন।

তবে সিইসি কে এম নুরুল হুদা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তখন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলেন। তাই জনতার মঞ্চে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।

আজ শপথ নেয়ার পর অন্য কমিশনারদের নিয়ে নিজ কার‌্যালয়ে যান নতুন সিইসি। পরে সেখানে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি।

শুরুতে নিজেদের সাংবিধানিক দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন কে এম নুরুল হুদা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন কি না- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করা। সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা। কোথায় কী সমস্যা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানে পরিকল্পনা করা।’

সিইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কবে বসব তা নিয়ে সহকর্মীদের আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। এখন এ নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই।’

গত নির্বাচন কমিশন নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী? উত্তরে সিইসি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ তো একটাই। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া। এ জন্য আমরা আলাপ-আলোচনা করে পরিকল্পনা ঠিক করব। কীভাবে কী পরিকল্পনা করব, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না।’

প্রভাবমুক্ত ও সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে নতুন সিইসি তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করব। সে ক্ষেত্রে শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগসহ সব ছোট-বড় রাজনৈতিক দলকে আস্থায় আনব। আমরা এটা করতে পারব, আমাদের এই বিশ্বাস আছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হুদা বলেন, ‘আমরা সংবিধান ও আইনকানুনের বাইরে কোনো প্রভাবকে প্রশ্রয় দেব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করব।’

সিইসি জনতার মঞ্চের সংগঠন ছিলেন- বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দলের এমন দাবির বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এ কথা সত্যি নয়।এটা মিথ্যা কথা।’