নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাংবাদিকতা জগতের এক অভিভাবক, দৈনিক আজাদীর সাবেক সিনিয়র সহ-সম্পাদক সুলতান আহমদ আশরাফী আর নেই।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও হৃদ্রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও সহকর্মী রেখে গেছেন।
তাঁর এই প্রয়াণে চট্টগ্রামের গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রবীণ এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব।
পেশাগত জীবনে সুলতান আহমদ আশরাফী ছিলেন অত্যন্ত নীতিবান, বিনয়ী ও দক্ষ একজন সংবাদকর্মী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের শীর্ষ দৈনিক ‘আজাদী’র বার্তা কক্ষে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
শুধু ডেস্কেই নয়, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়েও তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। তিনি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাবেক সহ-সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি ‘বাঁশখালী ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন।

এক যৌথ শোক বার্তায় সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, “সুলতান আহমদ আশরাফী ছিলেন চট্টগ্রামের সাংবাদিকতার বাতিঘর। তাঁর প্রস্থান আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি করল। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য তিনি এক অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবেন।” পৃথক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক। নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের দেবপাহাড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
এরপর দুপুর ১টায় তাঁর নিজ গ্রাম বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের মধ্যম সরল বাইতুর রহমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।













