ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চালের ড্রামে লুকানো ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার: চট্টগ্রামে ১ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া চুরির রহস্যভেদ, গ্রেফতার ৭

  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 1

ইকবাল উদ্দিন

‎ডাক্তার দেখাতে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া। আর এই মাত্র দেড় ঘণ্টার অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরের দরজার হুক কেটে ভেতরে ঢোকে চোরের দল। আলমারি ভেঙে লুটে নেয় নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল, আইফোন ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার। একই সময়ে একই কায়দায় তারা হানা দেয় প্রতিবেশীর ঘরেও।

‎চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানা এলাকার এই চাঞ্চল্যকর জোড়া চুরির রহস্য মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই জট খুলেছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে আন্তঃজেলা চোর চক্রের সাত সদস্যকে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চোরাই সোনা বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং চুরিতে ব্যবহৃত আধুনিক সরঞ্জাম। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ এই টাকা চোরেরা অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রেখেছিল একটি চালের ড্রামের ভেতর।

‎গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।


‎মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট এলাকার বিসমিল্লাহ ফার্নিচারের মালিক মোঃ আলমগীর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে ইপিক হাসপাতালে যান। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এক প্রতিবেশী এসে দেখেন আলমগীর মিয়ার বাসার দরজার হুক কাটা এবং ভেতর ওলটপালট। খবর পেয়ে আলমগীর মিয়া বাসায় ছুটে এসে দেখেন তার আলমারিতে থাকা ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ১টি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স চুরি হয়ে গেছে। একই সময়ে তার প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসা থেকেও নগদ ৬০ হাজার টাকা, দেড় ভরি সোনা ও ১টি স্যামসাং ফোন চুরি হয়। এই ঘটনায় ৩১ জুলাই আকবরশাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।


‎মামলা দায়েরের পর আকবরশাহ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম (৪৫), মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৩৮), সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৩৬), মোহাম্মদ আলী (৩৪), মোঃ রুবেল (৩২), মোঃ সুমন (৩০) এবং মোঃ ইমরানকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়।

‎জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাসাটি রেকি করেছিল। চুরির পরপরই তারা সোনাগুলো চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই বিক্রির ১৫ লাখেরও বেশি টাকা পুলিশ জসিমের ঘরের চালের ড্রামের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করে।


‎পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা কেউ সাধারণ চোর নয়, তারা প্রত্যেকেই পেশাদার ও ভয়ংকর চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। সিএমপি’র অপরাধ ডাটাবেজ (CDMS) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চক্রের মূল হোতা জসিম ও সেতু দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। তারা জামিনে বের হয়ে বারবার একই অপরাধে লিপ্ত হয়।

‎আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে হাজারী গলির কোনো অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা অন্য কোনো গডফাদার জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চালের ড্রামে লুকানো ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার: চট্টগ্রামে ১ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া চুরির রহস্যভেদ, গ্রেফতার ৭

চালের ড্রামে লুকানো ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার: চট্টগ্রামে ১ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া চুরির রহস্যভেদ, গ্রেফতার ৭

আপডেট সময় : ০১:৫৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইকবাল উদ্দিন

‎ডাক্তার দেখাতে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া। আর এই মাত্র দেড় ঘণ্টার অনুপস্থিতির সুযোগে ঘরের দরজার হুক কেটে ভেতরে ঢোকে চোরের দল। আলমারি ভেঙে লুটে নেয় নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল, আইফোন ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার। একই সময়ে একই কায়দায় তারা হানা দেয় প্রতিবেশীর ঘরেও।

‎চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানা এলাকার এই চাঞ্চল্যকর জোড়া চুরির রহস্য মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই জট খুলেছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে আন্তঃজেলা চোর চক্রের সাত সদস্যকে। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চোরাই সোনা বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং চুরিতে ব্যবহৃত আধুনিক সরঞ্জাম। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ এই টাকা চোরেরা অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রেখেছিল একটি চালের ড্রামের ভেতর।

‎গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।


‎মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট এলাকার বিসমিল্লাহ ফার্নিচারের মালিক মোঃ আলমগীর মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে ইপিক হাসপাতালে যান। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এক প্রতিবেশী এসে দেখেন আলমগীর মিয়ার বাসার দরজার হুক কাটা এবং ভেতর ওলটপালট। খবর পেয়ে আলমগীর মিয়া বাসায় ছুটে এসে দেখেন তার আলমারিতে থাকা ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ১টি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স চুরি হয়ে গেছে। একই সময়ে তার প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসা থেকেও নগদ ৬০ হাজার টাকা, দেড় ভরি সোনা ও ১টি স্যামসাং ফোন চুরি হয়। এই ঘটনায় ৩১ জুলাই আকবরশাহ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।


‎মামলা দায়েরের পর আকবরশাহ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম (৪৫), মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৩৮), সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৩৬), মোহাম্মদ আলী (৩৪), মোঃ রুবেল (৩২), মোঃ সুমন (৩০) এবং মোঃ ইমরানকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়।

‎জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাসাটি রেকি করেছিল। চুরির পরপরই তারা সোনাগুলো চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই বিক্রির ১৫ লাখেরও বেশি টাকা পুলিশ জসিমের ঘরের চালের ড্রামের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করে।


‎পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা কেউ সাধারণ চোর নয়, তারা প্রত্যেকেই পেশাদার ও ভয়ংকর চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। সিএমপি’র অপরাধ ডাটাবেজ (CDMS) পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চক্রের মূল হোতা জসিম ও সেতু দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। তারা জামিনে বের হয়ে বারবার একই অপরাধে লিপ্ত হয়।

‎আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে হাজারী গলির কোনো অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা অন্য কোনো গডফাদার জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।