ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে রূপপুরের পরমাণু বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 51

বিশেষ প্রতিবেদক

সব ধরনের কারিগরি জটিলতা এবং সেফটি ভালভের ত্রুটি কাটিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ এখন চূড়ান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।

 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ১৮ মেগাপ্যাসকেল পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছ।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সফল পরীক্ষার পর আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ。

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের একটি সেফটি ভালভে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির কমিশনিং প্রক্রিয়া প্রায় দুই মাস পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করে সেই ত্রুটি সংশোধন করেন এবং গত সপ্তাহে সফলভাবে প্রেশার টেস্ট সম্পন্ন করে। এই পরীক্ষাকে রূপপুর সচল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ও কারিগরি বাধা কাটার ধাপ হিসেবে দেখছেন পরমাণু বিজ্ঞানীরা।

 

এদিকে প্রথম ইউনিটের ব্যাকআপ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মেটাতে গত ২ অক্টোবর রাতে রাশিয়া থেকে বিমানযোগে ইউরেনিয়ামের আরও একটি বিশেষ চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়。 পরদিন ৩ অক্টোবর ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রহরায় এবং কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের একটি লেন সম্পূর্ণ ফাঁকা রেখে এই জ্বালানি বহরটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়。 সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি চালানে রিয়্যাক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় ২০০টিরও বেশি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

 

প্রথম ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট হলেও ডিসেম্বরের পরীক্ষামূলক ধাপে জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে。 তবে রিয়্যাক্টরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক ফিশন শুরু করার আগে ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ -এর কাছ থেকে চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে চলমান ১৮টি জটিল কারিগরি পরীক্ষার ডেটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে বিএইআরএ। তাদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই চুল্লিতে জ্বালানি লোড করে চেইন রিঅ্যাকশন চালু করা হবে।

 

প্রকল্পের কারিগরি গাইডলাইন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে গ্রিডে আংশিক বিদ্যুৎ যুক্ত হলেও সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ ক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে না। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর টানা ৭-৮ মাস বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা প্যারামিটার ও সিস্টেমের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হবে。 সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর (২০২৭) থেকে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পূর্ণ বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হবে, যা দেশের উত্তরাঞ্চলের লোডশেডিং চিরতরে দূর করতে এবং শিল্পায়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরি পরীক্ষা এবং রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান গতি যেভাবে বজায় রয়েছে, তাতে ডিসেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ যুক্ত করা শতভাগ সম্ভব।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডিসেম্বরে রূপপুরের পরমাণু বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

আপডেট সময় : ০৩:০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক

সব ধরনের কারিগরি জটিলতা এবং সেফটি ভালভের ত্রুটি কাটিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ এখন চূড়ান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে।

 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ১৮ মেগাপ্যাসকেল পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছ।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সফল পরীক্ষার পর আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নাম লেখাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ。

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের একটি সেফটি ভালভে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির কমিশনিং প্রক্রিয়া প্রায় দুই মাস পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করে সেই ত্রুটি সংশোধন করেন এবং গত সপ্তাহে সফলভাবে প্রেশার টেস্ট সম্পন্ন করে। এই পরীক্ষাকে রূপপুর সচল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ও কারিগরি বাধা কাটার ধাপ হিসেবে দেখছেন পরমাণু বিজ্ঞানীরা।

 

এদিকে প্রথম ইউনিটের ব্যাকআপ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মেটাতে গত ২ অক্টোবর রাতে রাশিয়া থেকে বিমানযোগে ইউরেনিয়ামের আরও একটি বিশেষ চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়。 পরদিন ৩ অক্টোবর ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রহরায় এবং কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের একটি লেন সম্পূর্ণ ফাঁকা রেখে এই জ্বালানি বহরটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়。 সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি চালানে রিয়্যাক্টরের জন্য প্রয়োজনীয় ২০০টিরও বেশি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

 

প্রথম ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট হলেও ডিসেম্বরের পরীক্ষামূলক ধাপে জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে。 তবে রিয়্যাক্টরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক ফিশন শুরু করার আগে ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ -এর কাছ থেকে চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে চলমান ১৮টি জটিল কারিগরি পরীক্ষার ডেটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে বিএইআরএ। তাদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই চুল্লিতে জ্বালানি লোড করে চেইন রিঅ্যাকশন চালু করা হবে।

 

প্রকল্পের কারিগরি গাইডলাইন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে গ্রিডে আংশিক বিদ্যুৎ যুক্ত হলেও সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ ক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে না। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর টানা ৭-৮ মাস বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা প্যারামিটার ও সিস্টেমের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হবে。 সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর (২০২৭) থেকে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পূর্ণ বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হবে, যা দেশের উত্তরাঞ্চলের লোডশেডিং চিরতরে দূর করতে এবং শিল্পায়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারিগরি পরীক্ষা এবং রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান গতি যেভাবে বজায় রয়েছে, তাতে ডিসেম্বরের ডেডলাইনের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ যুক্ত করা শতভাগ সম্ভব।