তৈয়ব চৌধুরী
চট্টগ্রামে আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতাদের মতে, চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মহালয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ আয়োজিত ‘শুভ মহালয়া ২০২৬’ অনুষ্ঠানের মঙ্গলপ্রদীপ জ্বেলে উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এই আন্তরিক অংশগ্রহণকে চট্টগ্রামের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে জেলা প্রশাসক বলেন, “দীর্ঘ ২১ বছর মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করলেও এত বড় পরিসরে মহালয়ার আয়োজন সরাসরি দেখার সুযোগ আমার আগে হয়নি। চট্টগ্রামের এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য আজ আমাকে নতুনভাবে মুগ্ধ করেছে।
চট্টগ্রামের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রশংসা করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানই এই অঞ্চলের মূল শক্তি। এই বৈচিত্র্য পুরো বাংলাদেশের গর্ব। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্যকে যেকোনো মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
তবে শুধু উৎসবের জাঁকজমক নয়, বরং উৎসবে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর বিশেষ জোর দেন জেলা প্রশাসক। বিশেষ করে নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল যাতায়াত এবং মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান ও সক্রিয় উপস্থিতির তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, “উৎসবের আনন্দময় স্মৃতি মানুষের মনে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়। তাই আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা আয়োজকদের পবিত্র দায়িত্ব।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছে। সরকার এবার উৎসবের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীদের বাড়তি উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবারই হাটহাজারীর একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করার কথা উল্লেখ করে ডিসি বলেন, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মণ্ডপের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী নটু চৌধুরীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকেরা জেলা প্রশাসকের এই উপস্থিতি ও আন্তরিক আচরণে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আসন্ন দুর্গাপূজাকে আরও উৎসবমুখর ও নিরাপদ করে তুলবে।













