ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুমুক দিলেই বিষ: ‘সেলিম আচার’ যেন মৃত্যুর লাইসেন্স!

  • আপডেট সময় : ০৫:০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • 35

চট্টগ্রামের সিএনবি এলাকায় পাকা ঘরের ভেতর তেঁতুলের স্তূপে মাছি-তেলাপোকার রাজত্ব

• নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে খাটছে নারী ও শিশুরা

• কিনতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখে ক্যানসারের জীবাণু তুলে দিচ্ছেন না তো?

ইকবাল উদ্দিন ভুঁইয়া

চকচকে রঙিন প্যাকেট। ওপরে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘সেলিম তেঁতুল আচার’। মুখে দিলেই টক-ঝাল-মিষ্টির স্বাদ। কিন্তু এই জিভে জল আনা স্বাদের আড়ালে যে কী ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক উপায়ে বিষ তৈরি হচ্ছে, তা জানলে আপনি এই আচারে কামড় দেওয়া তো দূরের কথা, হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতেও ঘৃণা বোধ করবেন।

 

নগরীর সিএনবি এলাকার এক পাকা ভবনের ভেতর সব নিয়ম-কানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হচ্ছে এই মরণফাঁদ। আপনি বা আপনার সন্তান যে আচারটি পরম তৃপ্তিতে খাচ্ছেন, সেটি আসলে একটি পাকা ঘরের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ডাঁই করে রাখা তেঁতুলের ওপর ছড়ানো তেলাপোকার মলমূত্র আর কোনো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া কাজ করা নারী ও শিশুদের হাত দিয়ে চটকানো এক চরম বিভীষিকা।

 

সরেজমিনে সিএনবি এলাকার ওই ডেরায় গিয়ে দেখা যায় এক গা শিউরে ওঠা নরককুণ্ড। বাইরে থেকে সাধারণ একটি পাকা ঘর মনে হলেও, ভেতরে মেঝেতে কোনো সুরক্ষামূলক প্লাস্টিক বা ম্যাট ছাড়াই সরাসরি ডাঁই করে রাখা হয়েছে শত শত কেজি কাঁচা তেঁতুল। আর সেই তেঁতুলের স্তূপের ওপর অবাধে রাজত্ব করছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি, মশা ও তেলাপোকার ঝাঁক। কোনো ধরনের হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্ক কিংবা মাথার ক্যাপ ছাড়াই, খোলা চুলে কাজ করছেন একদল নারী ও অবুঝ শিশু শ্রমিক। তীব্র গরমে তাদের গা থেকে ঝরে পড়া ঘাম, মাথার চুল আর নোংরা হাতের নখের ময়লা সরাসরি মিশে যাচ্ছে আচারের মণ্ডে। অথচ এই বিষাক্ত মিশ্রণটিই কোনো ল্যাব টেস্ট বা মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সুদৃশ্য প্যাকেটে ভরে প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে আপনার বাড়ির পাশের মুদি দোকানে কিংবা স্কুলের গেটে।

 

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কারখানার এই নারকীয় পরিবেশের ভিডিও ফুটেজসহ ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি মালিক ছাড়া কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই থেকে অতীতে একটি সাধারণ মানপত্রের কাগজ সংগ্রহ করলেও, লাইসেন্স বজায় রাখার কোনো শর্তই তারা মানছে না। নিয়ম অনুযায়ী কারখানায় সার্বক্ষণিক কেমিস্ট, স্বয়ংক্রিয় হাইজেনিক প্ল্যান্ট এবং নিয়মিত ল্যাব টেস্টের বাধ্যবাকতা থাকলেও এখানে তার লেশমাত্র নেই। উল্টো কারখানার ভেতরের এই ভয়াবহ অনিয়ম ও নোংরা পরিবেশের খবর চেপে যাওয়ার জন্য কারখানা মালিক সেলিম এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে মোটা অঙ্কের ‘চা-নাস্তার টাকা’ দেওয়ার প্রকাশ্য অফার করেন এবং সংবাদ প্রকাশ করলে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন

 

পাকা ঘরের ভেতরে জ্বলন্ত গ্যাসের চুলার ঠিক পাশেই যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে প্লাস্টিকের ড্রাম ও নামহীন ঝাঁঝালো রাসায়নিকের বোতল। পুরো কারখানায় নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, বালি বা জরুরি বহির্গমন পথ। যেকোনো মুহূর্তে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে এই বন্ধ পাকা ঘরের ভেতর ঘটতে পারে পুরান ঢাকার নিমতলী বা সীতাকুণ্ডের মতো ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। সস্তা শ্রমের ফায়দা লুটতে নারী ও শিশুদের জীবনকে এমন একটি জ্যান্ত ডেথ-ট্র্যাপে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

 

মালিকের অনুমোদনের ফাঁপা দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিিউশন (BSTI)-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানকে আচারের লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা পাকা ঘরের নোংরা মেঝেতে তেলাপোকা আর মাছির সাথে খাবার বানানোর ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। বিএসটিআই-এর লাইসেন্সের প্রধান শর্তই হলো কমপ্লায়েন্স ও হাইজিন (স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যবিধি)। তারা লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে মারাত্মক অপরাধ করছে। আমরা অনতিবিলম্বে ওই অবৈধ কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করব।

 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর কর্মকর্তারা জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারখানায় শিশুশ্রম এবং কর্মপরিবেশে নিরাপত্তা না রাখা সম্পূর্ণ ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য কারখানার মালিকের জেল-জরিমানা অবধারিত।

 

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই আচারকে শিশুদের জন্য একেকটি ‘টাইম বোমা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন সিনিয়র পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পাকা ঘরের ভেতরে আলো-বাতাসহীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তেলাপোকার মলমূত্র, মাছির পা থেকে ছড়ানো জীবাণু আর মানুষের ঘাম মিশ্রিত এই আচার মূলত অনুমোদিত ধীরগতির বিষ। এগুলো নিয়মিত খেলে ফুড পয়জনিং, আমাশয় ও জন্ডিস তো খুবই সাধারণ বিষয়। আচারের ব্যবহৃত নিম্নমানের কেমিক্যাল ও নোংরা বর্জ্যের কারণে শিশুদের লিভার-কিডনি স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে তা ক্যানসারের দিকে মোড় নিতে পারে। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সচেতন হোন—এই আচার কিনে নিজের সন্তানের মুখে বিষ তুলে দেবেন না।”

 

কারখানাটির ভেতরে চলমান এই পৈশাচিক কারবারের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর চড়াও হয় কারখানার ভেতরে থাকা একদল ভাড়াটে ক্যাডার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কারখানার বর্জ্য সরাসরি ওপেন ড্রেনে ফেলায় পুরো এলাকার বাতাস ও পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামের সচেতন মহল অবিলম্বে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরএবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

চুমুক দিলেই বিষ: ‘সেলিম আচার’ যেন মৃত্যুর লাইসেন্স!

আপডেট সময় : ০৫:০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের সিএনবি এলাকায় পাকা ঘরের ভেতর তেঁতুলের স্তূপে মাছি-তেলাপোকার রাজত্ব

• নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে খাটছে নারী ও শিশুরা

• কিনতে গিয়ে নিজের সন্তানের মুখে ক্যানসারের জীবাণু তুলে দিচ্ছেন না তো?

ইকবাল উদ্দিন ভুঁইয়া

চকচকে রঙিন প্যাকেট। ওপরে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘সেলিম তেঁতুল আচার’। মুখে দিলেই টক-ঝাল-মিষ্টির স্বাদ। কিন্তু এই জিভে জল আনা স্বাদের আড়ালে যে কী ভয়ঙ্কর ও পৈশাচিক উপায়ে বিষ তৈরি হচ্ছে, তা জানলে আপনি এই আচারে কামড় দেওয়া তো দূরের কথা, হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতেও ঘৃণা বোধ করবেন।

 

নগরীর সিএনবি এলাকার এক পাকা ভবনের ভেতর সব নিয়ম-কানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হচ্ছে এই মরণফাঁদ। আপনি বা আপনার সন্তান যে আচারটি পরম তৃপ্তিতে খাচ্ছেন, সেটি আসলে একটি পাকা ঘরের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ডাঁই করে রাখা তেঁতুলের ওপর ছড়ানো তেলাপোকার মলমূত্র আর কোনো সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ছাড়া কাজ করা নারী ও শিশুদের হাত দিয়ে চটকানো এক চরম বিভীষিকা।

 

সরেজমিনে সিএনবি এলাকার ওই ডেরায় গিয়ে দেখা যায় এক গা শিউরে ওঠা নরককুণ্ড। বাইরে থেকে সাধারণ একটি পাকা ঘর মনে হলেও, ভেতরে মেঝেতে কোনো সুরক্ষামূলক প্লাস্টিক বা ম্যাট ছাড়াই সরাসরি ডাঁই করে রাখা হয়েছে শত শত কেজি কাঁচা তেঁতুল। আর সেই তেঁতুলের স্তূপের ওপর অবাধে রাজত্ব করছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি, মশা ও তেলাপোকার ঝাঁক। কোনো ধরনের হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্ক কিংবা মাথার ক্যাপ ছাড়াই, খোলা চুলে কাজ করছেন একদল নারী ও অবুঝ শিশু শ্রমিক। তীব্র গরমে তাদের গা থেকে ঝরে পড়া ঘাম, মাথার চুল আর নোংরা হাতের নখের ময়লা সরাসরি মিশে যাচ্ছে আচারের মণ্ডে। অথচ এই বিষাক্ত মিশ্রণটিই কোনো ল্যাব টেস্ট বা মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সুদৃশ্য প্যাকেটে ভরে প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে আপনার বাড়ির পাশের মুদি দোকানে কিংবা স্কুলের গেটে।

 

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কারখানার এই নারকীয় পরিবেশের ভিডিও ফুটেজসহ ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি মালিক ছাড়া কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই থেকে অতীতে একটি সাধারণ মানপত্রের কাগজ সংগ্রহ করলেও, লাইসেন্স বজায় রাখার কোনো শর্তই তারা মানছে না। নিয়ম অনুযায়ী কারখানায় সার্বক্ষণিক কেমিস্ট, স্বয়ংক্রিয় হাইজেনিক প্ল্যান্ট এবং নিয়মিত ল্যাব টেস্টের বাধ্যবাকতা থাকলেও এখানে তার লেশমাত্র নেই। উল্টো কারখানার ভেতরের এই ভয়াবহ অনিয়ম ও নোংরা পরিবেশের খবর চেপে যাওয়ার জন্য কারখানা মালিক সেলিম এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে মোটা অঙ্কের ‘চা-নাস্তার টাকা’ দেওয়ার প্রকাশ্য অফার করেন এবং সংবাদ প্রকাশ করলে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন

 

পাকা ঘরের ভেতরে জ্বলন্ত গ্যাসের চুলার ঠিক পাশেই যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে প্লাস্টিকের ড্রাম ও নামহীন ঝাঁঝালো রাসায়নিকের বোতল। পুরো কারখানায় নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার, বালি বা জরুরি বহির্গমন পথ। যেকোনো মুহূর্তে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে এই বন্ধ পাকা ঘরের ভেতর ঘটতে পারে পুরান ঢাকার নিমতলী বা সীতাকুণ্ডের মতো ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। সস্তা শ্রমের ফায়দা লুটতে নারী ও শিশুদের জীবনকে এমন একটি জ্যান্ত ডেথ-ট্র্যাপে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

 

মালিকের অনুমোদনের ফাঁপা দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিিউশন (BSTI)-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানকে আচারের লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা পাকা ঘরের নোংরা মেঝেতে তেলাপোকা আর মাছির সাথে খাবার বানানোর ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। বিএসটিআই-এর লাইসেন্সের প্রধান শর্তই হলো কমপ্লায়েন্স ও হাইজিন (স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যবিধি)। তারা লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে মারাত্মক অপরাধ করছে। আমরা অনতিবিলম্বে ওই অবৈধ কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করব।

 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর কর্মকর্তারা জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারখানায় শিশুশ্রম এবং কর্মপরিবেশে নিরাপত্তা না রাখা সম্পূর্ণ ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য কারখানার মালিকের জেল-জরিমানা অবধারিত।

 

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই আচারকে শিশুদের জন্য একেকটি ‘টাইম বোমা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন সিনিয়র পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পাকা ঘরের ভেতরে আলো-বাতাসহীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তেলাপোকার মলমূত্র, মাছির পা থেকে ছড়ানো জীবাণু আর মানুষের ঘাম মিশ্রিত এই আচার মূলত অনুমোদিত ধীরগতির বিষ। এগুলো নিয়মিত খেলে ফুড পয়জনিং, আমাশয় ও জন্ডিস তো খুবই সাধারণ বিষয়। আচারের ব্যবহৃত নিম্নমানের কেমিক্যাল ও নোংরা বর্জ্যের কারণে শিশুদের লিভার-কিডনি স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে তা ক্যানসারের দিকে মোড় নিতে পারে। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সচেতন হোন—এই আচার কিনে নিজের সন্তানের মুখে বিষ তুলে দেবেন না।”

 

কারখানাটির ভেতরে চলমান এই পৈশাচিক কারবারের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর চড়াও হয় কারখানার ভেতরে থাকা একদল ভাড়াটে ক্যাডার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কারখানার বর্জ্য সরাসরি ওপেন ড্রেনে ফেলায় পুরো এলাকার বাতাস ও পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামের সচেতন মহল অবিলম্বে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরএবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।