মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে থলের বিড়াল উধাও; ফুটপাত, গণপরিবহন ও ব্যবসায়ী সমাজের মুখে শুধুই ‘ক্লিন ইমেজ’ আকাশের প্রশংসা; আইনি অ্যাকশনে যাচ্ছে চ্যানেল ২০
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণমাধ্যমের লোগো ডিজিটাল জালিয়াতি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভুয়া ও বানোয়াট ভিডিও রিপোর্টের নেপথ্য কাহিনী উন্মোচিত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারির লড়াকু সৈনিক এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির অন্যতম শীর্ষনেতা ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও ‘ক্লিন ইমেজ’ ধ্বংস করতেই এই সুগভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। চট্টগ্রামের খুলশী, পলিটেকনিক্যাল মোড়, সাউদার্ন মেডিকেলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা মূলত ৫ আগস্টের পর ওই এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়তে চেয়েছিল এবং যাদের বিরুদ্ধে আকাশ নিজে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে গণপ্রতিরোধ গড়েছিলেন, তারাই এই কাপুরুষোচিত ফেক নিউজের মাস্টারমাইন্ড।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘চ্যানেল ২০ এর লোগো অবৈধভাবে কাট-পেস্ট করে একটি ডামি ভয়েস ওভার দিয়ে ইন্টারনেটে এই অপপ্রচার চালানো হয়। তবে চ্যানেল ২০ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সম্পূর্ণ ‘ফেক নিউজ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং লোগো চুরির দায়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

খুলশী কলোনি, মোজাফফর কলোনি, রূপনগর আবাসিক, পলিটেকনিক্যাল মোড়, আনসার ক্যাম্প ও সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় গতকয়েকদিন সরেজমিনে ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী, ভাসমান দোকানি এবং গণপরিবহন চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।
ষড়যন্ত্রকারীরা যে পলিটেকনিক্যাল মোড় ও খুলশী এলাকাকে চাঁদাবাজির স্পট হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেখানে গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ বিপরীত ও স্বস্তিদায়ক চিত্র। এখানকার ভাসমান ও স্থায়ী ব্যবসায়ীদের কাছে ছাত্রনেতা আকাশ এক আতঙ্কের নাম নয়, বরং এক পরম আশ্রয়ের নাম।
পলিটেকনিক্যাল মোড়ে চটপটি ও ফুচকার ভ্যান চালানো এক ব্যবসায়ী বলেন, “ভাই, আমরা গরিব মানুষ। আগে প্রতিদিন দোকান খুললেই লাইনম্যান আর পাতিনেতাদের ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা দেওয়া লাগতো। না দিলে ভ্যান উল্টায় দিতো। ৫ আগস্টের পর আকাশ ভাই নিজে এই মোড়ে এসে আমাদের বলে গেছেন—‘তোরা স্বাধীনভাবে ব্যবসা করবি, একটা টাকাও কাউকে চাঁদা দিবি না।’ ওনার কঠোর অবস্থানের কারণে আজ আমরা শান্তিতে ব্যবসা করছি। ওনার নামে যারা চাঁদাবাজির বদনাম ছড়ায়, আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে।
ফুটপাতে ভ্যানে জুতা বিক্রি করা খোরশেদ মিয়া বলেন, “আকাশ ভাইয়ের বিরুদ্ধে যে পেপারে বা ভিডিওতে কথা বলা হইছে, তা এক্কেবারে দুই নম্বরি ও সাজানো। আকাশ ভাই এই এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। উনি আসার পর পলিটেকনিক্যাল মোড় চাঁদাবাজমুক্ত হইছে। কোনো হকার ওনার নামে এই মিথ্যা কথা বিশ্বাস করবে না। উনি আমাদের মতো ছোট হকারদের ঢাল।
মোড়ের এক ডিম বিক্রি এক মহিলা নলেন আগে মস্তানরা উল্টা চাঁদা চাইতো। আকাশ ভাইয়ের ছেলেরা এখন আমাগো পাহারা দেয়। কোনোদিন আকাশ ভাই বা ওনার কোনো লোক একটা ডিমও ওনাগা না বলে নেয় নাই। উল্টা কোনো সমস্যা হইলে ওনারা সাহায্য করে। ওনার মতো ভালো মানুষের নামে যারা এই নোংরামি করতেছে, তারা মানুষ না, শয়তান।
পলিটেকনিক্যাল মোড়ের স্থায়ী এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, “রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে গেলে আগে রাজনৈতিক বড় ভাইদের ফ্রি খাওয়ানো আর মাসোহারা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশ ভাই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুরো চিত্র বদলে গেছে। উনি ব্যবসায়ী সমিতিকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন—ব্যবসায়ীরা শুধু সরকারকে ট্যাক্স দেবে, কোনো চাঁদাবাজকে এক পয়সাও দেবে না। ওনার এই ক্লিন ইমেজের কারণেই আজ আমরা শান্তিতে ব্যবসা করছি। ওনার সুনাম নষ্ট করতে একটা চিহ্নিত অপরাধী চক্র উঠেপড়ে লেগেছে, কারণ ওনার কারণে তাদের পকেট মারা গেছে।
পলিটেকনিক্যাল মোড়ের ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ী মো. সোলেমান (৪৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫ আগস্টের পর কিছু লোক এসে আমাদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদা দাবি করেছিল। আমরা ছাত্রনেতা আকাশ ভাইকে জানাই। তিনি নিজে এসে হুংকার দিয়ে গেছেন—যদি একটা টাকাও কেউ ফুটপাত থেকে নেয়, তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে দেওয়া হবে। এরপর থেকে আমরা শান্তিতে ব্যবসা করছি। সেই আকাশ ভাইয়ের নামে চাঁদাবাজির কথা শুনলে পশুপাখিও হাসবে। এটা উনাকে রাজনীতি থেকে সরানোর চাল।”
খুলশী কলোনি এলাকার অস্থায়ী মুদির দোকানদার রহিমা খাতুন (৩৮) বলেন, “আকাশ ভাই আমাদের এলাকার সন্তান। উনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদী। ওনার বা ওনার কোনো অনুসারীর নামে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা একবিন্দুও সত্য নয়। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা ওনার সাথে আছি।
সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও আনসার ক্যাম্প এলাকার সিএনজি-অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ লাইনম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “এই রুটে আগে প্রতি ট্রিপে চাঁদা দিতে হতো। আকাশ ভাই ছাত্র আন্দোলনের পর এখানে এসে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, ড্রাইভারদের রক্ত চোষা কোনো চাঁদা চট্টগ্রামে চলবে না। উনার কড়া নজরদারির কারণে আজ খুলশী এলাকায় সিএনজি ও হিউম্যান হলারগুলো কোনো চাঁদা ছাড়াই চলছে। উনার সুনাম নষ্ট করতে কোনো একটা বড় চক্র পেছনে লেগেছে, যারা আবার চাঁদাবাজি চালু করতে চায়।
রূপনগর আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন প্রবাসী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন। তিনি মুঠোফোনে জানান, “নির্মাণকাজ শুরু করার পর স্থানীয় কিছু পাতি নেতা ইট-বালু সাপ্লাইয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেছিল। আমি ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাৎক্ষণিক তাঁর টিম পাঠিয়ে ওই চাঁদাবাজদের তাড়িয়ে দেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেন। আকাশ একজন শতভাগ সৎ ও আদর্শবান ছাত্রনেতা।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের খুলশী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যখন একশ্রেণীর সুবিধাবাদী চক্র ফুটপাত ও পরিবহন সেক্টর দখলের পাঁয়তারা করছিল, তখন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশ। চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর এই আপসহীন অবস্থানের কারণে কোটি টাকার চাঁদাবাজি বাণিজ্যে ধস নামে একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্রের। সেই চক্রটিই রাজনৈতিকভাবে আকাশকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এই সস্তা ডিজিটাল জালিয়াতি ও চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছে।
এই জঘন্য জালিয়াতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চ্যানেল ২০ -কতৃপক্ষ । তারা জানান, “আমাদের চ্যানেলের লোগো ব্যবহার করে তৈরি করা এই কনটেন্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া। চ্যানেল ২০-এর পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন করা এবং একজন ছাত্রনেতার সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার এই নোংরা প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা আইটি অ্যাক্ট ও প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এই জঘন্য ও বানোয়াট অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির লড়াকু কন্ঠস্বর ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশ এই প্রতিবেদককে বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ মেনে ৫ আগস্টের পর থেকেই আমরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে খুলশীসহ চট্টগ্রামের সর্বত্র চাঁদাবাজ, দখলদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছি। এতে একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্রের অবৈধ আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে গণমাধ্যমের লোগো চুরির মতো জঘন্য ও সস্তা ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। দুঃসময়ে রাজপথ কাঁপানো ছাত্রদলের সৈনিক আমরা, এসব বানোয়াট প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আমাদের সততা ও মনোবল ভাঙা যাবে না। এই নোংরা জালিয়াতির সাথে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করতে আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মানহানি ও জালিয়াতির অপরাধে জড়িত কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই কঠোর আইনি ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে।
এদিকে এই ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল ও সাধারণ ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির ছাত্ররা জানিয়েছেন, এ ধরনের নোংরা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আকাশের মতো একজন পরীক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ও সর্বজন সমাদৃত নেতাকে সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না, বরং এই ঘটনার পর তাঁর প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাস আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।













