ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে দরকার জোরালো সংসদীয় কূটনীতি সাঈদ আল নোমান এমপি

  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 26

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নতুন নতুন যুদ্ধ আর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জেরে ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা তহবিল। উখিয়ার কাঁটাতারে ঘেরা শরণার্থী শিবিরগুলো যখন মানবিক সহায়তার চরম সংকটে ধুঁকছে, ঠিক তখনই মিয়ানমারের এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সম্পূর্ণ নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি এক কৌশলগত পথরেখার তাগিদ দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান কিংবা নিষ্ক্রিয় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের মূল উপড়াতে এবার বিশ্বমঞ্চে এক ‘জোরালো ও আগ্রাসী’ সংসদীয় কূটনীতি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

গতকাল ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান দেশের শীর্ষ দৈনিকের কাছে এই বিশেষ কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল দিনভর উখিয়ার ৪, ৬ ও ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা, মানবিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

 

সফর শেষে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন চিত্র ফুটিয়ে তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও বড় বড় দাতা দেশের ফান্ডের একটি বিশাল অংশ রোহিঙ্গা সংকট থেকে অন্য দেশে ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক অনুদান ও ত্রাণের পরিমাণ রেকর্ড হারে কমে আসছে।

 

সাঈদ আল নোমান সাফ জানিয়ে দেন, “বিদেশি ত্রাণ বা দাতা সংস্থার অনুদান কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রীয় সমাধান হতে পারে না। এটি একটি সাময়িক মানবিক উপশম মাত্র। দিনের পর দিন অনুদান কমতে থাকায় আমাদের স্থানীয় অর্থনীতি, বনাঞ্চল এবং সার্বিক পরিবেশের ওপর যে অসহনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে, তা দীর্ঘকাল টেনে নেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব। তাই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী এবং একমাত্র মোক্ষ সূত্র হলো—রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও পূর্ণ মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে তাদের নিজেদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো।”

 

গতকাল সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত সংসদীয় প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার বিভিন্ন ব্লকে নিবিড় পরিদর্শন চালায়।

 

প্রতিনিধিদল প্রথমে রোহাং হেরিটেজ সেন্টারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের আদি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতিগত পরিচয় সংরক্ষণের বৈশ্বিক প্রয়াসগুলো দেখেন। এরপর ক্যাম্প ৯ তুর্কী হাসপাতালে চলমান চিকিৎসা সংকট এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তার বর্তমান হালনাগাদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।ক্যাম্প-৪ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি কেন্দ্র ও দরবার হলে গিয়ে ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শনের পর ৪ নম্বর ক্যাম্পের দরবার হলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ রোহিঙ্গা যুবক, নারী ও মাঝিদের (কমিউনিটি নেতা) সাথে এক রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় বসেন আইনপ্রণেতারা।

 

মতবিনিময় সভায় রোহিঙ্গারা বুকফাটা আর্তনাদ আর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে কমিটির সদস্যদের জানান, তাঁরা আর শরণার্থী শিবিরের বন্দি জীবন চান না। কাঁটাতারের বেষ্টনীতে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। মিয়ানমারের রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দ্রুত স্বদেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলে আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিচ্ছে সংসদীয় কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেবল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কিংবা দ্বিপাক্ষিক আমলাতান্ত্রিক স্তরে আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল, যা মিয়ানমারের জান্তা বা উগ্রবাদী নীতিকে বড় কোনো চাপে ফেলতে পারেনি।

সাঈদ আল নোমান এই অচলাবস্থা ভাঙতে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন এর মতো শক্তিশালী বৈশ্বিক ফোরামগুলোকে ব্যবহারের কথা বলেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারকদের সরাসরি এই সংকটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক আইনগত চাপ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।

 

আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসার এই চ্যালেঞ্জিং সময়কে মোকাবিলা করতে প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে ভাবছে সংসদীয় কমিটি। আলোচনায় উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী মুসলিম দেশগুলোর জাকাৎ তহবিলকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্ত করার অভিনব এক প্রস্তাব।

 

সাঈদ আল নোমান মনে করেন, জাকাৎ তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে অনুদানের এই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব, যার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক লবিং।

 

উখিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

 

সংসদীয় কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এবং সাঈদ আল নোমান জানিয়েছেন, গতকালের ক্যাম্প পরিদর্শনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে—রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন, বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, টেকসই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ এবং বিকল্প অর্থায়নের উৎসগুলো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে একটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা তৈরি করা হচ্ছে। এই বিশেষ খসড়া সুপারিশমালাটি অতি দ্রুতই জাতীয় সংসদের টেবিলে পেশ করা হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নতুন গতি দেবে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে দরকার জোরালো সংসদীয় কূটনীতি সাঈদ আল নোমান এমপি

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নতুন নতুন যুদ্ধ আর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জেরে ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা তহবিল। উখিয়ার কাঁটাতারে ঘেরা শরণার্থী শিবিরগুলো যখন মানবিক সহায়তার চরম সংকটে ধুঁকছে, ঠিক তখনই মিয়ানমারের এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সম্পূর্ণ নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি এক কৌশলগত পথরেখার তাগিদ দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান কিংবা নিষ্ক্রিয় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের মূল উপড়াতে এবার বিশ্বমঞ্চে এক ‘জোরালো ও আগ্রাসী’ সংসদীয় কূটনীতি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

গতকাল ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান দেশের শীর্ষ দৈনিকের কাছে এই বিশেষ কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল দিনভর উখিয়ার ৪, ৬ ও ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা, মানবিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

 

সফর শেষে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন চিত্র ফুটিয়ে তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও বড় বড় দাতা দেশের ফান্ডের একটি বিশাল অংশ রোহিঙ্গা সংকট থেকে অন্য দেশে ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক অনুদান ও ত্রাণের পরিমাণ রেকর্ড হারে কমে আসছে।

 

সাঈদ আল নোমান সাফ জানিয়ে দেন, “বিদেশি ত্রাণ বা দাতা সংস্থার অনুদান কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রীয় সমাধান হতে পারে না। এটি একটি সাময়িক মানবিক উপশম মাত্র। দিনের পর দিন অনুদান কমতে থাকায় আমাদের স্থানীয় অর্থনীতি, বনাঞ্চল এবং সার্বিক পরিবেশের ওপর যে অসহনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে, তা দীর্ঘকাল টেনে নেওয়া বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব। তাই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী এবং একমাত্র মোক্ষ সূত্র হলো—রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও পূর্ণ মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করে তাদের নিজেদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো।”

 

গতকাল সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত সংসদীয় প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার বিভিন্ন ব্লকে নিবিড় পরিদর্শন চালায়।

 

প্রতিনিধিদল প্রথমে রোহাং হেরিটেজ সেন্টারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের আদি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতিগত পরিচয় সংরক্ষণের বৈশ্বিক প্রয়াসগুলো দেখেন। এরপর ক্যাম্প ৯ তুর্কী হাসপাতালে চলমান চিকিৎসা সংকট এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তার বর্তমান হালনাগাদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।ক্যাম্প-৪ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি কেন্দ্র ও দরবার হলে গিয়ে ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শনের পর ৪ নম্বর ক্যাম্পের দরবার হলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ রোহিঙ্গা যুবক, নারী ও মাঝিদের (কমিউনিটি নেতা) সাথে এক রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় বসেন আইনপ্রণেতারা।

 

মতবিনিময় সভায় রোহিঙ্গারা বুকফাটা আর্তনাদ আর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে কমিটির সদস্যদের জানান, তাঁরা আর শরণার্থী শিবিরের বন্দি জীবন চান না। কাঁটাতারের বেষ্টনীতে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। মিয়ানমারের রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দ্রুত স্বদেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশলে আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিচ্ছে সংসদীয় কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেবল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কিংবা দ্বিপাক্ষিক আমলাতান্ত্রিক স্তরে আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল, যা মিয়ানমারের জান্তা বা উগ্রবাদী নীতিকে বড় কোনো চাপে ফেলতে পারেনি।

সাঈদ আল নোমান এই অচলাবস্থা ভাঙতে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন এর মতো শক্তিশালী বৈশ্বিক ফোরামগুলোকে ব্যবহারের কথা বলেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারকদের সরাসরি এই সংকটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক আইনগত চাপ তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য।

 

আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসার এই চ্যালেঞ্জিং সময়কে মোকাবিলা করতে প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে ভাবছে সংসদীয় কমিটি। আলোচনায় উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী মুসলিম দেশগুলোর জাকাৎ তহবিলকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্ত করার অভিনব এক প্রস্তাব।

 

সাঈদ আল নোমান মনে করেন, জাকাৎ তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে অনুদানের এই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব, যার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক লবিং।

 

উখিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

 

সংসদীয় কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এবং সাঈদ আল নোমান জানিয়েছেন, গতকালের ক্যাম্প পরিদর্শনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে—রোহিঙ্গাদের জীবনযাপন, বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, টেকসই প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ এবং বিকল্প অর্থায়নের উৎসগুলো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে একটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা তৈরি করা হচ্ছে। এই বিশেষ খসড়া সুপারিশমালাটি অতি দ্রুতই জাতীয় সংসদের টেবিলে পেশ করা হবে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নতুন গতি দেবে।