ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুলাইনে হযরত ইয়াছিন আউলিয়া (রহ.) ও আব্দুল হামিদ শাহ (রহ.)-এর স্মরণে আজিমুশশান ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিল সম্পন্ন

  • আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • 11

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

‎
‎আশেক ও ভক্তদের হৃদয়ের আকুতি, সালাতু-সালামের সুমধুর ধ্বনি আর নূরের জোয়ারে ভাসল চট্টগ্রামের পটিয়া। ছরতাজুল আউলিয়া, হযরত সৈয়দ এয়াছিন আউলিয়া (রহ.) ও হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল হামিদ শাহ (রহ.)-এর আশেক ভক্তবৃন্দ সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় পটিয়াস্থ ঐতিহ্যবাহী হুলাইন হযরত ইয়াছিন আউলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে আজিমুশশান ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও জশনে জুলুস মাহফিল।
‎
গত ৩০ অক্টোবর বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ সুন্নি জনতার অভূতপূর্ব উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক স্বর্গীয় পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়।
‎
‎বাদ মাগরিব পবিত্র কুরআনুল কারিমের সুমধুর তিলাওয়াতের মাধ্যমে মাহফিলের রূহানী সূচনা হয়। এরপরই সিলসিলার ঐতিহ্য অনুযায়ী আশেকদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণে পবিত্র খতমে গাউসিয়া শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। খতমে গাউসিয়ার পঠন শেষে এক অলৌকিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ এশা থেকেই মাদ্রাসা ময়দান ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা জিকির আর সালাতু-সালামের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
‎
‎এন্তেজামিয়া কমিটির সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, উস্তাজুল ওলামা হযরতুল আল্লামা মাওলানা ক্বারী তৈয়ব।
‎
‎মাহফিলে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন দ্বীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা, ঢাকা মোহাম্মদপুর কাদেরীয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সুযোগ্য অধ্যক্ষ হযরতুল আল্লামা মাওলানা জসিম উদ্দিন আল-আজহারী। তিনি অকাট্য দলিল উপস্থাপন করে আশেকদের হৃদয় জয় করেন।
‎
‎প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের আধ্যাত্মিক আইডল, জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সুমিষ্টভাষী বক্তা হযরতুল আল্লামা মাওলানা হাসান আল-আজহারী। তাঁর জাদুকরী ও হৃদয়গ্রাহী বয়ানে মাদ্রাসা ময়দানে উপস্থিত হাজারো আশেক অশ্রুসিক্ত নয়নে দরূদ শরিফ পাঠ করেন।
‎
‎মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রূহানী পরিবেশকে আরও বর্ণিল করে তোলেন তরুণ সমাজসেবক, সদালাপী ব্যক্তিত্ব ও ৫নং হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব কায়সার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নুরুল হাকিম মাস্টার। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনা পেশ করেন হুলাইন হযরত ইয়াছিন আউলিয়া জামে মসজিদের খতিব, হযরতুল আল্লামা ইউনুস আল-কাদেরীসহ দেশের বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখগণ।
‎
‎বক্তাগণ তাঁদের নুরানি তাকরিরে বলেন, “আউলিয়ায়ে কেরামের জীবন ও দর্শন হলো রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর সুন্নাতের বাস্তব প্রতিফলন। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্ধকার দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ওলী-আল্লাহদের পথ আঁকড়ে ধরতে হবে।”
‎
‎মধ্যরাতে যখন রাসুল পাক (দ.)-এর শানে দাঁড়িয়ে সালাতু-সালাম ও মিলাদ-কিয়ামের সুর লহরী ভেসে আসে, তখন উপস্থিত হাজারো ভক্তের চোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে আসে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় মাহফিলের মূল আকর্ষণ—আখেরী মোনাজাত। আখেরী মোনাজাতে দেশ, সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি ও চিরকল্যাণ কামনা করে আল্লাহর দরবারে মিনতি করা হয়। মোনাজাত শেষে তবাররুক বিতরণের মাধ্যমে এই বর্ণিল ও সফল ধর্মীয় মহাসমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।
‎
‎এদিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত চমৎকার ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মাহফিল সফল করায় সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও আশেক ভক্তবৃন্দ এন্তেজামিয়া কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
‎
‎

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

হুলাইনে হযরত ইয়াছিন আউলিয়া (রহ.) ও আব্দুল হামিদ শাহ (রহ.)-এর স্মরণে আজিমুশশান ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিল সম্পন্ন

আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

‎
‎আশেক ও ভক্তদের হৃদয়ের আকুতি, সালাতু-সালামের সুমধুর ধ্বনি আর নূরের জোয়ারে ভাসল চট্টগ্রামের পটিয়া। ছরতাজুল আউলিয়া, হযরত সৈয়দ এয়াছিন আউলিয়া (রহ.) ও হযরত সৈয়দ মাওলানা আব্দুল হামিদ শাহ (রহ.)-এর আশেক ভক্তবৃন্দ সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় পটিয়াস্থ ঐতিহ্যবাহী হুলাইন হযরত ইয়াছিন আউলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে আজিমুশশান ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও জশনে জুলুস মাহফিল।
‎
গত ৩০ অক্টোবর বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ সুন্নি জনতার অভূতপূর্ব উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক স্বর্গীয় পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়।
‎
‎বাদ মাগরিব পবিত্র কুরআনুল কারিমের সুমধুর তিলাওয়াতের মাধ্যমে মাহফিলের রূহানী সূচনা হয়। এরপরই সিলসিলার ঐতিহ্য অনুযায়ী আশেকদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণে পবিত্র খতমে গাউসিয়া শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। খতমে গাউসিয়ার পঠন শেষে এক অলৌকিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ এশা থেকেই মাদ্রাসা ময়দান ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা জিকির আর সালাতু-সালামের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
‎
‎এন্তেজামিয়া কমিটির সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, উস্তাজুল ওলামা হযরতুল আল্লামা মাওলানা ক্বারী তৈয়ব।
‎
‎মাহফিলে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন দ্বীনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা, ঢাকা মোহাম্মদপুর কাদেরীয়া তৈয়্যবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সুযোগ্য অধ্যক্ষ হযরতুল আল্লামা মাওলানা জসিম উদ্দিন আল-আজহারী। তিনি অকাট্য দলিল উপস্থাপন করে আশেকদের হৃদয় জয় করেন।
‎
‎প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ প্রজন্মের আধ্যাত্মিক আইডল, জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সুমিষ্টভাষী বক্তা হযরতুল আল্লামা মাওলানা হাসান আল-আজহারী। তাঁর জাদুকরী ও হৃদয়গ্রাহী বয়ানে মাদ্রাসা ময়দানে উপস্থিত হাজারো আশেক অশ্রুসিক্ত নয়নে দরূদ শরিফ পাঠ করেন।
‎
‎মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রূহানী পরিবেশকে আরও বর্ণিল করে তোলেন তরুণ সমাজসেবক, সদালাপী ব্যক্তিত্ব ও ৫নং হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব কায়সার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নুরুল হাকিম মাস্টার। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনা পেশ করেন হুলাইন হযরত ইয়াছিন আউলিয়া জামে মসজিদের খতিব, হযরতুল আল্লামা ইউনুস আল-কাদেরীসহ দেশের বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখগণ।
‎
‎বক্তাগণ তাঁদের নুরানি তাকরিরে বলেন, “আউলিয়ায়ে কেরামের জীবন ও দর্শন হলো রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর সুন্নাতের বাস্তব প্রতিফলন। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও অন্ধকার দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ওলী-আল্লাহদের পথ আঁকড়ে ধরতে হবে।”
‎
‎মধ্যরাতে যখন রাসুল পাক (দ.)-এর শানে দাঁড়িয়ে সালাতু-সালাম ও মিলাদ-কিয়ামের সুর লহরী ভেসে আসে, তখন উপস্থিত হাজারো ভক্তের চোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে আসে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় মাহফিলের মূল আকর্ষণ—আখেরী মোনাজাত। আখেরী মোনাজাতে দেশ, সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, সমৃদ্ধি ও চিরকল্যাণ কামনা করে আল্লাহর দরবারে মিনতি করা হয়। মোনাজাত শেষে তবাররুক বিতরণের মাধ্যমে এই বর্ণিল ও সফল ধর্মীয় মহাসমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।
‎
‎এদিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত চমৎকার ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মাহফিল সফল করায় সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও আশেক ভক্তবৃন্দ এন্তেজামিয়া কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
‎
‎