বিশেষ প্রতিবেদক
বৈশ্বিক সংসদীয় কূটনীতির সর্বোচ্চ মঞ্চে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনল বাংলাদেশ। পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার আরুশায় চলমান ইন্টার-পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন আইপিইউতে বিশ্বমঞ্চের দুটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ও শীর্ষ পদে আসীন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিশ্বের ৩৭টি প্রভাবশালী দেশের সমন্বয়ে গঠিত আইপিইউর অন্যতম শক্তিশালী জোট ‘এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ’ এর চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সাথে মঙ্গোলিয়ার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আইপিইউর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা নির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই দ্বিমুখী বিজয়কে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংসদীয় কূটনীতির এক অভূতপূর্ব মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“অন্তর্ভুক্তি, আস্থা ও সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন”। এই মূল সুরকে ধারণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দূরদর্শী নেতৃত্বে যোগ দেওয়া বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধি দলটিতে লক্ষ্য করা গেছে এক ঝাঁক তরুণ ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল উপস্থিতি।
বিশেষ করে, প্রতিনিধিদলের অন্যতম শীর্ষ চালিকাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজর কেড়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত ও জনপ্রিয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান । বিশ্বমঞ্চের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের টেকসই সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশের মূলধারার নীতিনির্ধারণে সম্পৃক্ত করার এক যুগান্তকারী ও আধুনিক রূপরেখা অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। তাঁর এই প্রাজ্ঞ ও সাবলীল বক্তব্য বিশ্বজুড়ে আগত বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতাদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাঈদ আল নোমান এমপির এই সক্রিয় এবং বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিত্বকে যেমন এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তেমনি বিশ্বদরবারে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকার ও কণ্ঠস্বরকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর এই ঐতিহাসিক জয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক মেলবন্ধন ও সমন্বয় চোখে পড়ার মতো ছিল। আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এই প্রার্থীতাকে অত্যন্ত জোরালো ও প্রকাশ্য সমর্থন জানানো হয়।
বাংলাদেশের এই গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অর্জনে প্রতিনিধিদলকে সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি। তিনি বাংলাদেশের এই অনন্য কূটনৈতিক বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ব সংসদীয় নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে তিনি আগামী দিনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংসদীয় সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সাথে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শীর্ষ পদ এবং আইপিইউর নির্বাহী কমিটির সর্বোচ্চ আসনে বাংলাদেশের এই আসীন হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে দেশের ভাবমূর্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক অর্জন আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় অত্যন্ত প্রভাবশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।













