ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতে দীপু মনির কান্নায় থমকে গেল এজলাস

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 8

প্রয়োজন ফুরিয়েছে, এখন আর জামিন চাই না’

নিজস্ব প্রতিবেদক


‎কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি জীবন কেটেছে প্রায় দুই বছর। যে মানুষটির সেবার জন্য একসময় ব্যাকুল হয়ে জামিন চেয়েছিলেন, আজ তিনি আর নেই। তাই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি যখন বললেন, “আমার আর বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই”, তখন পুরো এজলাসকক্ষে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

‎গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজিরা দিতে এসে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেত্রী।

‎বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানির শুরুতেই কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। অনুমতি পেয়ে মাইক্রোফন হাতে নিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “গত এপ্রিলে যখন আমার স্বামী অসুস্থ ছিলেন, তখন জামিন চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকব। কিন্তু ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ নিশ্বাসের সময় আমি পাশে থাকতে পারিনি। এখন আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর জামিন চাই না।”

‎তিনি আরও বলেন, “এর আগের শুনানিতে আদালত জানতে চেয়েছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করব? এখন আর আমার বাসায় যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমার স্বামী তৌফিক নাওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। বাকশক্তি হারিয়ে শুধু চোখের পলকে কথা বলতেন। তাঁকে তো আর পাব না। এখন বাসায় যাওয়ার আর কোনো তাড়া নেই আমার।”

‎দীপু মনির জামিন প্রত্যাহার আবেদনের পর আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “মানবিক কারণে আমরা জামিন চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজেই তা প্রত্যাহার করছেন।”

‎অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মাসুদুল আলম দোহা জামিনের কড়া বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “আবেগ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গুরুতর অপরাধের মামলায় ব্যক্তিগত শোক জামিনের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না।

‎আদালত মন্তব্য করেন, “আমরা আপনার ব্যথায় ব্যথিত। আপনার আবেদনের মানবিক দিক আছে, তবে আইনের অনেক বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়।”

‎পরে দীপু মনির জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য অপেক্ষমান রেখে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

আদালতে দীপু মনির কান্নায় থমকে গেল এজলাস

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রয়োজন ফুরিয়েছে, এখন আর জামিন চাই না’

নিজস্ব প্রতিবেদক


‎কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি জীবন কেটেছে প্রায় দুই বছর। যে মানুষটির সেবার জন্য একসময় ব্যাকুল হয়ে জামিন চেয়েছিলেন, আজ তিনি আর নেই। তাই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি যখন বললেন, “আমার আর বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই”, তখন পুরো এজলাসকক্ষে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

‎গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজিরা দিতে এসে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেত্রী।

‎বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানির শুরুতেই কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। অনুমতি পেয়ে মাইক্রোফন হাতে নিয়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “গত এপ্রিলে যখন আমার স্বামী অসুস্থ ছিলেন, তখন জামিন চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকব। কিন্তু ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ নিশ্বাসের সময় আমি পাশে থাকতে পারিনি। এখন আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর জামিন চাই না।”

‎তিনি আরও বলেন, “এর আগের শুনানিতে আদালত জানতে চেয়েছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করব? এখন আর আমার বাসায় যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমার স্বামী তৌফিক নাওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। বাকশক্তি হারিয়ে শুধু চোখের পলকে কথা বলতেন। তাঁকে তো আর পাব না। এখন বাসায় যাওয়ার আর কোনো তাড়া নেই আমার।”

‎দীপু মনির জামিন প্রত্যাহার আবেদনের পর আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, “মানবিক কারণে আমরা জামিন চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজেই তা প্রত্যাহার করছেন।”

‎অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মাসুদুল আলম দোহা জামিনের কড়া বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “আবেগ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গুরুতর অপরাধের মামলায় ব্যক্তিগত শোক জামিনের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না।

‎আদালত মন্তব্য করেন, “আমরা আপনার ব্যথায় ব্যথিত। আপনার আবেদনের মানবিক দিক আছে, তবে আইনের অনেক বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়।”

‎পরে দীপু মনির জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য অপেক্ষমান রেখে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।