ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫: জারি ও প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা

  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • 23

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে আজ শনিবার (১৫ আগস্ট, ২০২৬) ভোররাতে আঘাত হেনেছে ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে এই তীব্র ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। শক্তিশালী এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উৎপত্তিস্থল ও তীব্রতা:
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের নাগেওকেও এলাকার মবায়ে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। অগভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ার কারণে এর কম্পনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি, যা মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকাকে কাঁপিয়েছে।

হঠাৎ এই তীব্র কম্পনে ঘুমন্ত মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, সরকারি দফতর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েই মূলত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। প্রাণভয়ে ও আতঙ্কে প্রায় ২,০০০ বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠে ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
সুনামি আতঙ্ক ও পরাঘাত:
ভূমিকম্পের পরপরই ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (BMKG) পূর্ব নুসা তেঙ্গারা, পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসিসহ চারটি প্রদেশে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করে। উপকূলীয় কিছু এলাকায় ১ মিটারের কম উচ্চতার ঢেউয়ের জোয়ার দেখা যায়। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি বড় ধরনের রূপ না নেওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মূল ধাক্কার পর অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ একটির মাত্রা ছিল ৬.১।
জরুরি উদ্ধার তৎপরতা:
ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের হাসপাতালগুলো থেকে রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ও খোলা মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্প করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কম্পনের তীব্রতায় বেশ কিছু এলাকায় ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ফেটে যাওয়ায় অনেক অঞ্চলের সাথে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়শই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫: জারি ও প্রত্যাহার সুনামি সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে আজ শনিবার (১৫ আগস্ট, ২০২৬) ভোররাতে আঘাত হেনেছে ৭.৭ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে এই তীব্র ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। শক্তিশালী এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
উৎপত্তিস্থল ও তীব্রতা:
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের নাগেওকেও এলাকার মবায়ে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। অগভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ার কারণে এর কম্পনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি, যা মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকাকে কাঁপিয়েছে।

হঠাৎ এই তীব্র কম্পনে ঘুমন্ত মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, সরকারি দফতর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েই মূলত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। প্রাণভয়ে ও আতঙ্কে প্রায় ২,০০০ বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠে ও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
সুনামি আতঙ্ক ও পরাঘাত:
ভূমিকম্পের পরপরই ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (BMKG) পূর্ব নুসা তেঙ্গারা, পশ্চিম নুসা তেঙ্গারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও দক্ষিণ-পূর্ব সুলাওয়েসিসহ চারটি প্রদেশে জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করে। উপকূলীয় কিছু এলাকায় ১ মিটারের কম উচ্চতার ঢেউয়ের জোয়ার দেখা যায়। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি বড় ধরনের রূপ না নেওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মূল ধাক্কার পর অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ একটির মাত্রা ছিল ৬.১।
জরুরি উদ্ধার তৎপরতা:
ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের হাসপাতালগুলো থেকে রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ও খোলা মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্প করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কম্পনের তীব্রতায় বেশ কিছু এলাকায় ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ফেটে যাওয়ায় অনেক অঞ্চলের সাথে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়শই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে।