ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাগজে কলমে ১৮৩৭, চট্টগ্রামে সিলিন্ডার উধাও: সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা

  • আপডেট সময় : ১১:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • 40

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে。 কিন্তু এই ঘোষণার পর চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আকাশচুম্বী। কারণ, সরকারি খাতায় দাম যা-ই বাড়ুক না কেন, বন্দরনগরীর খুচরা বাজারে একে তো গ্যাস মিলছে না, আর মিললেও গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত! বিইআরসি দাম বাড়ানোর পর সিন্ডিকেট চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।

 

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী শাহনাজ বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টিভিতে দেখলাম দাম ২৫২ টাকা বাড়ছে। দোকানে গিয়ে শুনি সিলিন্ডার নাই। পরে পরিচিত এক দোকানদার চুপিচুপি বলল, ২ হাজার ৪০০ টাকা দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে বাসায় পৌঁছায় দেবে। এই দেশে কোনো আইন-কানুন আছে বলে মনে হয় না। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পকেট কাটার একটা উৎসব চলছে।”

 

চকবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, “এমনিতেই সব জিনিসপত্রের দাম চড়া। তার ওপর মাসের শুরুতেই গ্যাসের এই ধাক্কা। সরকারি রেট তো শুধু কাগজেই থাকে, বাজারে আমরা কোনোদিন সেই দামে কিনতে পারি না।”

 

চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা এলপিজি বিক্রেতা মো. ইলিয়াছ জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “কোম্পানির ডিলাররা আমাদের বলছে যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জাহাজ সময়মতো আসেনি, তাই সরবরাহে ঘাটতি আছে। আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই বাধ্য হয়েই খুচরা পর্যায়ে একটু বেশি নিতে হচ্ছে। সিলিন্ডারপ্রতি আমাদের লাভ সীমিত।”

 

চট্টগ্রামের কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর স্থানীয় এক কর্মকর্তা এই কৃত্রিম সংকটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের জাহাজ ভাড়া বা কাঁচামালের কথা বলে বিইআরসি দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের কিছু অসাধু আমদানিকারক ও বড় অপারেটর কাস্টমস খালাস ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে বঙ্গোপসাগরে জাহাজ ভাসিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিইআরসির উচিত অবিলম্বে চট্টগ্রামে যৌথ ড্রাইভ চালানো।”

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ রাত থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে প্রশাসনের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠে নামবে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

কাগজে কলমে ১৮৩৭, চট্টগ্রামে সিলিন্ডার উধাও: সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১১:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে。 কিন্তু এই ঘোষণার পর চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আকাশচুম্বী। কারণ, সরকারি খাতায় দাম যা-ই বাড়ুক না কেন, বন্দরনগরীর খুচরা বাজারে একে তো গ্যাস মিলছে না, আর মিললেও গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত! বিইআরসি দাম বাড়ানোর পর সিন্ডিকেট চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।

 

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী শাহনাজ বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টিভিতে দেখলাম দাম ২৫২ টাকা বাড়ছে। দোকানে গিয়ে শুনি সিলিন্ডার নাই। পরে পরিচিত এক দোকানদার চুপিচুপি বলল, ২ হাজার ৪০০ টাকা দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে বাসায় পৌঁছায় দেবে। এই দেশে কোনো আইন-কানুন আছে বলে মনে হয় না। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পকেট কাটার একটা উৎসব চলছে।”

 

চকবাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, “এমনিতেই সব জিনিসপত্রের দাম চড়া। তার ওপর মাসের শুরুতেই গ্যাসের এই ধাক্কা। সরকারি রেট তো শুধু কাগজেই থাকে, বাজারে আমরা কোনোদিন সেই দামে কিনতে পারি না।”

 

চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা এলপিজি বিক্রেতা মো. ইলিয়াছ জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “কোম্পানির ডিলাররা আমাদের বলছে যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জাহাজ সময়মতো আসেনি, তাই সরবরাহে ঘাটতি আছে। আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই বাধ্য হয়েই খুচরা পর্যায়ে একটু বেশি নিতে হচ্ছে। সিলিন্ডারপ্রতি আমাদের লাভ সীমিত।”

 

চট্টগ্রামের কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর স্থানীয় এক কর্মকর্তা এই কৃত্রিম সংকটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের জাহাজ ভাড়া বা কাঁচামালের কথা বলে বিইআরসি দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের কিছু অসাধু আমদানিকারক ও বড় অপারেটর কাস্টমস খালাস ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে বঙ্গোপসাগরে জাহাজ ভাসিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিইআরসির উচিত অবিলম্বে চট্টগ্রামে যৌথ ড্রাইভ চালানো।”

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কোনো ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ রাত থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে প্রশাসনের বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠে নামবে।