প্রশাসন-গণমাধ্যম সমন্বয়ে জোর ইউএনও পান্না আক্তারের; মাদক নিরাময়ে সাশ্রয়ী কেন্দ্রের তাগিদ
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সমন্বয় বাড়লে জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মন্তব্য করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার । তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ নিরসন, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উখিয়া প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উখিয়ার পর্যটন উন্নয়ন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, “প্রশাসনের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং কাজের মান উন্নয়নে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা সহায়ক হতে পারে। আমাদেরও কাজে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব। উখিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ইউএনও।
তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি উদ্যোগে উখিয়ায় পাঁচতারকা হোটেলসহ বিভিন্ন আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এ খাতকে আরও সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সরকারি রাজস্ব আয় বাড়বে। পর্যটন উন্নয়নে বর্তমানে কয়েকটি পার্কের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ প্রদর্শনীর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উখিয়ায় মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পান্না আক্তার বলেন, চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে থাকায় অনেকে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন না ।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুরুতেই অপরাধী হিসেবে শাস্তির মুখোমুখি না করে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন । এরপরও কেউ অপরাধে জড়ালে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এই নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত এনজিও এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ।
উখিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিস্তৃতি এবং মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো নিরলস কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ক্যাম্পে গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে । পাশাপাশি সন্ধ্যার পর কিছু রোহিঙ্গার ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত এবং স্থানীয় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থানের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে। ক্যাম্পের সীমানা ব্যবস্থাপনা ও প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করার পাশাপাশি এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে পান্না আক্তার বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের সমস্যা ও সম্ভাবনা গণমাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবাদানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সাংবাদিকদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে জনস্বার্থে নিয়মিত এই মতবিনিময় অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
উখিয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার বদরুল আলম, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুর রহিম শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।













