রাসেল চৌধুরী
চট্টগ্রাম বন্দরে তথ্য, ছবি ও অপারেশনাল ভিডিও প্রকাশের ওপর বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা বিতর্কিত বিধিনিষেধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনটি এই নির্দেশনাকে ‘নজিরবিহীন, বেআইনি ও স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এই আলটিমেটাম দেন। সাংবাদিক নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিরাপত্তার অজুহাত তুলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থের খবর আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।
সেখানে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা মূলধারার গণমাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং যেকোনো ধরনের ‘অপারেশনাল তথ্য’ বা ছবি প্রকাশ করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’ এবং ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নির্দেশনার টাইমিং বা সময় অত্যন্ত রহস্যজনক। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উইং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে ইজারা দেওয়া নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন ও জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঠিক এই সময়ে এমন অস্পষ্ট ও ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
সিইউজের বিবৃতিতে বলা হয়, “বন্দর পরিচালনা, বিদেশি সংস্থাকে ইজারা, বিনিয়োগ এবং শ্রমিকস্বার্থের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যুতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। জনস্বার্থের তথ্য যত গোপন করার চেষ্টা হবে, তত বেশি দুর্নীতি ও বিভ্রান্তি ডালপালা মেলবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে না। এই ধরনের বিধিনিষেধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জনগণের তথ্য অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ না ভেবে, তথ্য আদান-প্রদানের একটি স্বচ্ছ ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অন্যথায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর স্থানীয় প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ১৯২৩ সালের ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমের হাত বেঁধে ফেলার এই চেষ্টা বন্দরের অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও জবাবদিহিতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।













