ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর ‘কড়া ব্রেক’: তদ্বির বন্ধে শিক্ষামন্ত্রীকে নীতিমালার নির্দেশ

  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 53

বিশেষ সংবাদদাতা

 

রাজনীতি ও প্রভাবশালীদের তদ্বিরে রাতারাতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বা জাতীয়করণের চেনা রেওয়াজে এবার কড়া ব্রেক কষলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা আঞ্চলিক নেতার সুপারিশে নয়, এখন থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে একটি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে। শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের এই খামখেয়ালি দূর করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এক জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। গত ১ অক্টোবর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারপ্রধান এই স্পষ্ট বার্তা দেন, যা গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইদানীং সারা দেশ থেকে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এলোপাথাড়িভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

 

জাতীয়করণের ঢালাও প্রস্তাব আসছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পরই তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের তদবির-বাণিজ্য বা রাজনৈতিক করুণার সংস্কৃতি আর বরদাশত করা হবে না। কোন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত, ভৌগোলিক গুরুত্ব ও যোগ্যতার একটি মানদণ্ড চূড়ান্ত করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনার মূল বার্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রভাব খাটিয়ে বা তদ্বির করে কোনো অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করার চেনা পথ পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে আসা জাতীয়করণের যেকোনো প্রস্তাবের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকারপ্রধান তা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ছকে আনার নির্দেশ দেন। নতুন নীতিমালায় পরিষ্কার করা হবে পাসের হার, অবকাঠামো, শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের সুনির্দিষ্ট শর্ত। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, কেবল শতভাগ শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানই পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের তালিকায় ঢুকবে। পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোই কেবল রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায়।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো কোনো প্রত্যন্ত বা অনুন্নত প্রতিষ্ঠানকে হুট করে সরকারি করায় শিক্ষার গুণগত মানের কোনো উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো বৈষম্য তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৯২ হাজার ৩৯২টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার বড় অংশই এখনো চরম বৈষম্যের শিকার। বিশাল এই শিক্ষা খাতকে রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে মুক্ত করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি নিয়মের মধ্যে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে অত্যন্ত যুগান্তকারী বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা।

 

জাতীয়করণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও তারা যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর ‘কড়া ব্রেক’: তদ্বির বন্ধে শিক্ষামন্ত্রীকে নীতিমালার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ সংবাদদাতা

 

রাজনীতি ও প্রভাবশালীদের তদ্বিরে রাতারাতি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বা জাতীয়করণের চেনা রেওয়াজে এবার কড়া ব্রেক কষলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা আঞ্চলিক নেতার সুপারিশে নয়, এখন থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে একটি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে। শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের এই খামখেয়ালি দূর করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এক জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। গত ১ অক্টোবর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারপ্রধান এই স্পষ্ট বার্তা দেন, যা গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইদানীং সারা দেশ থেকে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এলোপাথাড়িভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

 

জাতীয়করণের ঢালাও প্রস্তাব আসছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পরই তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের তদবির-বাণিজ্য বা রাজনৈতিক করুণার সংস্কৃতি আর বরদাশত করা হবে না। কোন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হবে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত, ভৌগোলিক গুরুত্ব ও যোগ্যতার একটি মানদণ্ড চূড়ান্ত করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনার মূল বার্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রভাব খাটিয়ে বা তদ্বির করে কোনো অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করার চেনা পথ পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে আসা জাতীয়করণের যেকোনো প্রস্তাবের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সরকারপ্রধান তা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ছকে আনার নির্দেশ দেন। নতুন নীতিমালায় পরিষ্কার করা হবে পাসের হার, অবকাঠামো, শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের সুনির্দিষ্ট শর্ত। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, কেবল শতভাগ শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানই পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণের তালিকায় ঢুকবে। পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোই কেবল রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায়।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো কোনো প্রত্যন্ত বা অনুন্নত প্রতিষ্ঠানকে হুট করে সরকারি করায় শিক্ষার গুণগত মানের কোনো উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো বৈষম্য তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৯২ হাজার ৩৯২টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার বড় অংশই এখনো চরম বৈষম্যের শিকার। বিশাল এই শিক্ষা খাতকে রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে মুক্ত করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি নিয়মের মধ্যে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে অত্যন্ত যুগান্তকারী বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা।

 

জাতীয়করণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও তারা যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।