ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু রুখতে মাঠের লড়াইয়ে ডিসি জাহিদ

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 80

চট্টগ্রামের  এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় ছুটছেন জেলা প্রশাসক

তৈয়ব চৌধুরী, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ডেঙ্গু  বিস্তার রোধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার্যালয়ের ফাইল ছেড়ে তিনি এখন প্রতিনিয়ত ছুটছেন এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর পর এবার তিনি বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন হাটহাজারীতে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুধু তদারকি করাই নয়, কাঁধে ফগার মেশিন ঝুলিয়ে নিজেই মশকনিধনের ওষুধ ছিটানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে লড়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ আয়োজনে প্রথমে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসক নিজেই ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড ছিটানোর কাজের উদ্বোধন করেন।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে এবং ৩ অক্টোবর কর্ণফুলী উপজেলায় একইভাবে দিনভর অভিযানে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সীতাকুণ্ডে ১৬টি ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক নিয়ে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচির সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। সংক্রমণের হটস্পট হওয়া সত্ত্বেও সেখানে গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় যে মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও গতি পেয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি। এর আওতায় জেলার প্রায় ১,২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন জলাশয় এবং প্রায় দুই হাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা নির্ধারণ এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাটহাজারীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, মাঠপর্যায়ের সমন্বিত কাজের ফলে অক্টোবর মাসে তা অনেকটাই কমেছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হলেও বর্তমানে প্রাণহানি ও সংক্রমণ—উভয়ই নিম্নমুখী।”

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক, কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে, একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সবার সহযোগিতায় চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই চট্টগ্রাম জেলাকে সম্পূর্ণ ডেঙ্গুমুক্ত (সংক্রমণ শূন্য) করা সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।

হাটহাজারীর এই বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু রুখতে মাঠের লড়াইয়ে ডিসি জাহিদ

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের  এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় ছুটছেন জেলা প্রশাসক

তৈয়ব চৌধুরী, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ডেঙ্গু  বিস্তার রোধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কার্যালয়ের ফাইল ছেড়ে তিনি এখন প্রতিনিয়ত ছুটছেন এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায়। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর পর এবার তিনি বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন হাটহাজারীতে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুধু তদারকি করাই নয়, কাঁধে ফগার মেশিন ঝুলিয়ে নিজেই মশকনিধনের ওষুধ ছিটানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে লড়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ আয়োজনে প্রথমে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের হয়। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসক নিজেই ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড ছিটানোর কাজের উদ্বোধন করেন।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে এবং ৩ অক্টোবর কর্ণফুলী উপজেলায় একইভাবে দিনভর অভিযানে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সীতাকুণ্ডে ১৬টি ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক নিয়ে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচির সুফলও মিলেছে হাতেনাতে। সংক্রমণের হটস্পট হওয়া সত্ত্বেও সেখানে গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় যে মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও গতি পেয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি। এর আওতায় জেলার প্রায় ১,২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন জলাশয় এবং প্রায় দুই হাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা নির্ধারণ এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাটহাজারীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, মাঠপর্যায়ের সমন্বিত কাজের ফলে অক্টোবর মাসে তা অনেকটাই কমেছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হলেও বর্তমানে প্রাণহানি ও সংক্রমণ—উভয়ই নিম্নমুখী।”

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক, কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে, একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সবার সহযোগিতায় চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই চট্টগ্রাম জেলাকে সম্পূর্ণ ডেঙ্গুমুক্ত (সংক্রমণ শূন্য) করা সম্ভব হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।

হাটহাজারীর এই বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।