ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নভেম্বরের মাঝেই নামছে শীত, ঢাকার পারদ নামবে ১১ ডিগ্রিতে!

  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 29

হেমন্তের শেষেই হিমেল হাওয়া, আবহাওয়া অফিস জানাল শীতের দিনক্ষণ; উত্তরের সীমান্ত ছুঁয়ে শৈত্যপ্রবাহের আভাস, ডিসেম্বরে জাঁকিয়ে বসার পর জানুয়ারিতে তীব্র কাঁপন, রেশ থাকবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

রাসেল চৌধুরী

কার্তিকের চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমের দিন ফুরিয়ে আসছে। শেষ রাতের বাতাসে হালকা শিরশিরানি আর ভোরের ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশুবিন্দুই বলে দিচ্ছে—প্রকৃতিতে চাদর বদলের পালা শুরু। আলমারিতে তুলে রাখা প্রিয় সোয়েটার, জ্যাকেট কিংবা শালগুলো ধুলো ঝেড়ে নামানোর সময় চলে এসেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি, বিশেষ করে তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে পুরোদমে জেঁকে বসতে শুরু করবে শীতের আমেজ।

 

এবার প্রকৃতি যেন একটু আগেভাগেই তার রূপ বদলানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে কুয়াশার চাদর আর হিমেল হাওয়ার দেখা মিলবে। হিমালয় ছুঁয়ে আসা সেই ঠাণ্ডা হাওয়া মাসের মাঝামাঝি সময়ে ধেয়ে আসবে রাজধানী ঢাকার দিকে। ফলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই নগরবাসী স্পষ্ট শীতের পরশ পেতে শুরু করবেন।

 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নভেম্বরের এই হালকা আমেজ মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বড় কামড়ের প্রস্তুতি। এই মৌসুমে বিশেষ করে মেগাসিটি ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ কম। ফলে ইট-পাথরের এই শহরের বহুতল ভবনগুলো থেকে শুরু করে ফুটপাত—সবখানিই এবার শীতের তীব্রতা একটু বেশিই অনুভূত হতে পারে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাস থেকে সারাদেশেই শীতের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করবে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তবে আসল কাঁপনটা আসবে নতুন বছরের শুরুতে, অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে। জানুয়ারিকে ধরা হচ্ছে চলতি মৌসুমের শীতলতম মাস। অফিস-আদালত কিংবা কর্মব্যস্ত শহরের যান্ত্রিকতায় যারা একটু ওমের খোঁজে থাকেন, তাদের জন্য আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে—এই শীতের রেশ সহজে কাটছে না। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকবে শীতের এই দাপট।

 

এদিকে আবহাওয়া অফিসের এই আগাম বার্তার পর রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতের প্রস্তুতি। ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট, মিরপুর ও নিউমার্কেটের ফুটপাতগুলোতে এখনই উঁকি দিতে শুরু করেছে শীতের পোশাকের দোকান। লেপ-তোশকের কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। তবে শীতের এই আগাম বার্তায় কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে দেশের প্রান্তিক ও ছিন্নমূল মানুষের কপালে। উত্তরের জেলাগুলোর খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করা খেটে খাওয়া মানুষ এবং রাজধানীর ফুটপাতে রাত কাটানো গৃহহীনদের জন্য এই তীব্র শীত কতটা কষ্টদায়ক হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। চিকিৎসকেরা অবশ্য এই ঋতুবদলের সময়ে শিশুদের নিউমোনিয়া ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগবালাই থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতির ইশারায় এবার শীত একটু জলদিই পা রাখছে বাংলায়। তাই আর দেরি না করে ধুলোবালি ঝেড়ে শীতের গরম কাপড়গুলো হাতের কাছে গুছিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সময় এখনই।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নভেম্বরের মাঝেই নামছে শীত, ঢাকার পারদ নামবে ১১ ডিগ্রিতে!

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

হেমন্তের শেষেই হিমেল হাওয়া, আবহাওয়া অফিস জানাল শীতের দিনক্ষণ; উত্তরের সীমান্ত ছুঁয়ে শৈত্যপ্রবাহের আভাস, ডিসেম্বরে জাঁকিয়ে বসার পর জানুয়ারিতে তীব্র কাঁপন, রেশ থাকবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

রাসেল চৌধুরী

কার্তিকের চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমের দিন ফুরিয়ে আসছে। শেষ রাতের বাতাসে হালকা শিরশিরানি আর ভোরের ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশুবিন্দুই বলে দিচ্ছে—প্রকৃতিতে চাদর বদলের পালা শুরু। আলমারিতে তুলে রাখা প্রিয় সোয়েটার, জ্যাকেট কিংবা শালগুলো ধুলো ঝেড়ে নামানোর সময় চলে এসেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি, বিশেষ করে তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে পুরোদমে জেঁকে বসতে শুরু করবে শীতের আমেজ।

 

এবার প্রকৃতি যেন একটু আগেভাগেই তার রূপ বদলানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে কুয়াশার চাদর আর হিমেল হাওয়ার দেখা মিলবে। হিমালয় ছুঁয়ে আসা সেই ঠাণ্ডা হাওয়া মাসের মাঝামাঝি সময়ে ধেয়ে আসবে রাজধানী ঢাকার দিকে। ফলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই নগরবাসী স্পষ্ট শীতের পরশ পেতে শুরু করবেন।

 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নভেম্বরের এই হালকা আমেজ মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বড় কামড়ের প্রস্তুতি। এই মৌসুমে বিশেষ করে মেগাসিটি ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ কম। ফলে ইট-পাথরের এই শহরের বহুতল ভবনগুলো থেকে শুরু করে ফুটপাত—সবখানিই এবার শীতের তীব্রতা একটু বেশিই অনুভূত হতে পারে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাস থেকে সারাদেশেই শীতের তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করবে। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তবে আসল কাঁপনটা আসবে নতুন বছরের শুরুতে, অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে। জানুয়ারিকে ধরা হচ্ছে চলতি মৌসুমের শীতলতম মাস। অফিস-আদালত কিংবা কর্মব্যস্ত শহরের যান্ত্রিকতায় যারা একটু ওমের খোঁজে থাকেন, তাদের জন্য আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে—এই শীতের রেশ সহজে কাটছে না। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকবে শীতের এই দাপট।

 

এদিকে আবহাওয়া অফিসের এই আগাম বার্তার পর রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয়ে গেছে শীতের প্রস্তুতি। ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট, মিরপুর ও নিউমার্কেটের ফুটপাতগুলোতে এখনই উঁকি দিতে শুরু করেছে শীতের পোশাকের দোকান। লেপ-তোশকের কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। তবে শীতের এই আগাম বার্তায় কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে দেশের প্রান্তিক ও ছিন্নমূল মানুষের কপালে। উত্তরের জেলাগুলোর খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করা খেটে খাওয়া মানুষ এবং রাজধানীর ফুটপাতে রাত কাটানো গৃহহীনদের জন্য এই তীব্র শীত কতটা কষ্টদায়ক হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবছেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। চিকিৎসকেরা অবশ্য এই ঋতুবদলের সময়ে শিশুদের নিউমোনিয়া ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগবালাই থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতির ইশারায় এবার শীত একটু জলদিই পা রাখছে বাংলায়। তাই আর দেরি না করে ধুলোবালি ঝেড়ে শীতের গরম কাপড়গুলো হাতের কাছে গুছিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সময় এখনই।