নিজস্ব প্রতিবেদক, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রাকে করে পাচার হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ মা ইলিশ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট এলাকায় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্টে ধরা পড়েছে ৩৯৫ কেজি ওজনের ইলিশের একটি বড় চালান। এই ঘটনায় ইলিশ পরিবহনের দায়ে আবু তাহের নামের এক চালককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জব্দ করা বিপুল পরিমাণ এই মাছ কোনো কোল্ড স্টোরেজে না পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই স্থানীয় ২৮টি এতিমখানা, অসহায় ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে এতিম শিশু ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মনে।
মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনানুযায়ী মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে চলছে ২২ দিনের বিশেষ নিষেধাজ্ঞা।
এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মহাসড়কের বারইয়ারহাট এলাকায় ওত পেতে থাকে প্রশাসন।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চট্টগ্রামমুখী একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানকে সন্দেহ হলে সেটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে স্কচটেপ ও বরফ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৩৯৫ কেজি মা ইলিশ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান মিরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীরুল কাদের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইলিশ বহনের দায়ে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী চালক আবু তাহেরকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন। একই সাথে জব্দ করা ইলিশগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, জব্দকৃত ইলিশের একটি বড় অংশ উপজেলার ২৮টি এতিমখানার শিশুদের জন্য পাঠানো হয়। এছাড়া উপস্থিত ২৭ জন দুস্থ ব্যক্তি এবং পশ্চিম কিসমত জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯১টি ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে এই মাছ সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীরুল কাদের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারাই মাছ শিকার, পরিবহন বা বিক্রি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দিন-রাত সমানতালে চলবে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকার নির্ধারিত এই ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।













