ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাতক আওয়ামী লীগের হাতে এখনো বিপুল অবৈধ অস্ত্র, দ্রুত উদ্ধারের দাবি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাতের’

  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • 37

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

স্বৈরাচার পতনের পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা দেশ ছেড়ে পালালেও তাদের রেখে যাওয়া নেতাকর্মীদের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র রয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পূর্বে যারা গণহত্যা, গুম এবং বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের কাছে থাকা এই মারণাস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

 

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নগরের লালদিঘীর পাড়ে জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে কোতোয়ালি থানা বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আপনারা ভালো করেই জানেন আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা কোথায় অবস্থান করছে। তারা ৫ আগস্টের আগে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে, গুম করেছে এবং থানা থেকে সরকারি অস্ত্র লুট করেছে। সেই অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আমরা খবর পেয়েছি, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিলেই নাকি এখন বোমাবাজি করানো যাচ্ছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে হবে।”

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে ডা. শাহাদাত বলেন, “শেখ হাসিনা দেশের সাধারণ নেতাকর্মীদের এতিম করে নিজে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। এখন বিদেশ থেকে বসে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি, তার জন্য ফাঁসির রশি প্রস্তুত আছে। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হয়ে আসামি হিসেবেই আসতে হবে।”

 

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাজা বা দণ্ড নির্ধারিত হওয়ার পরেই কেবল তাদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্ন উঠতে পারে, অন্যথা তাদের কোনো সুযোগ নেই। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করে আন্দোলন করার পর এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। দলে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন কিংবা পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা করা হলে তা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশে যারা মানুষ হত্যা ও নাশকতার সাথে জড়িত, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।” একই সাথে চাঁদাবাজি ও ব্যাংক দখলসহ যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বোমাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোরশেদুল আলম, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. কামরুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন লিপুসহ বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

সমাবেশ শেষে জেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরের লালদিঘীর পাড়, বক্সিরহাট ও আন্দরকিল্লা মোড়সহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

পলাতক আওয়ামী লীগের হাতে এখনো বিপুল অবৈধ অস্ত্র, দ্রুত উদ্ধারের দাবি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাতের’

আপডেট সময় : ০৩:১৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

স্বৈরাচার পতনের পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা দেশ ছেড়ে পালালেও তাদের রেখে যাওয়া নেতাকর্মীদের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র রয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পূর্বে যারা গণহত্যা, গুম এবং বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের কাছে থাকা এই মারণাস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

 

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নগরের লালদিঘীর পাড়ে জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে কোতোয়ালি থানা বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আপনারা ভালো করেই জানেন আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা কোথায় অবস্থান করছে। তারা ৫ আগস্টের আগে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছে, গুম করেছে এবং থানা থেকে সরকারি অস্ত্র লুট করেছে। সেই অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আমরা খবর পেয়েছি, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিলেই নাকি এখন বোমাবাজি করানো যাচ্ছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে হবে।”

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে ডা. শাহাদাত বলেন, “শেখ হাসিনা দেশের সাধারণ নেতাকর্মীদের এতিম করে নিজে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। এখন বিদেশ থেকে বসে তিনি তৃণমূলের কর্মীদের উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি, তার জন্য ফাঁসির রশি প্রস্তুত আছে। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হয়ে আসামি হিসেবেই আসতে হবে।”

 

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাজা বা দণ্ড নির্ধারিত হওয়ার পরেই কেবল তাদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্ন উঠতে পারে, অন্যথা তাদের কোনো সুযোগ নেই। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে জেল-জুলুম সহ্য করে আন্দোলন করার পর এখন এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। দলে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন কিংবা পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা করা হলে তা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশে যারা মানুষ হত্যা ও নাশকতার সাথে জড়িত, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।” একই সাথে চাঁদাবাজি ও ব্যাংক দখলসহ যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

 

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, বোমাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মুবিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোরশেদুল আলম, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. কামরুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন লিপুসহ বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

সমাবেশ শেষে জেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরের লালদিঘীর পাড়, বক্সিরহাট ও আন্দরকিল্লা মোড়সহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।