ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তির ফাঁদ: থার্মাল ক্যামেরায় ধরা পড়ল সাঁতারু চোরাকারবারিরা, নাফ নদে রুদ্ধশ্বাস অভিযান

  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • 90

ধরা পড়ল সাঁতারুরা, অতর্কিত ঘেরাওয়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে গভীর রাতে নাফ নদ সাঁতরে বাংলাদেশে ঢুকছিল একদল মাদক কারবারি। নদের কুয়াশা আর অন্ধকারের মাঝে তারা ভেবেছিল পার পেয়ে যাবে সহজেই। কিন্তু সীমান্তরক্ষীদের ‘থার্মাল ইমেজার’ (উন্নত নাইট-ভিশন প্রযুক্তি) ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারেনি তারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর যৌথ বিশেষ অভিযানে টেকনাফের জালিয়াপাড়া সীমান্ত থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামের এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপির জালিয়াপাড়া ৪ নম্বর ব্রিজের সুইচগেট এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত ইদ্রিস টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

 

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল—মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদ পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও এসআরবি-এর একটি বিশেষ যৌথ আভিযানিক দল কৌশলগত অবস্থান নেয় জালিয়াপাড়ার নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায়।

 

মধ্যরাত পেরিয়ে ভোররাতের দিকে দায়িত্বরত জওয়ানরা থার্মাল ইমেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখতে পান, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কয়েকজন ব্যক্তি প্লাস্টিকের বস্তা মাথায় নিয়ে সাঁতরে নাফ নদ পার হচ্ছে।

 

তারা নদীর পাড়ে কেওড়াবাগানের অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় পা রাখা মাত্রই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা বস্তাগুলো ফেলে বাগানের গহীনে পালানোর চেষ্টা করে। জওয়ানরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকেই তিনটি বড় প্যাকেটসহ ইদ্রিসকে জাপটে ধরে। তবে তার সাথে থাকা অন্য সহযোগীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কেওড়াবাগানের ভেতরে নিখোঁজ হয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে জব্দকৃত প্যাকেটগুলো গণনা করে দেখা যায়, তার ভেতর অত্যন্ত নিখুঁত ও বিশেষভাবে মোড়কজাত করা ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ধারকৃত এই চালানের বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।

 

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিকটিকে জানান, “প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বিজিবি-এসআরবি’র যৌথ তৎপরতার কারণেই চোরাকারবারিদের এই বড় অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

 

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দকৃত ইয়াবাসহ তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রযুক্তির ফাঁদ: থার্মাল ক্যামেরায় ধরা পড়ল সাঁতারু চোরাকারবারিরা, নাফ নদে রুদ্ধশ্বাস অভিযান

আপডেট সময় : ০৯:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ধরা পড়ল সাঁতারুরা, অতর্কিত ঘেরাওয়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে গভীর রাতে নাফ নদ সাঁতরে বাংলাদেশে ঢুকছিল একদল মাদক কারবারি। নদের কুয়াশা আর অন্ধকারের মাঝে তারা ভেবেছিল পার পেয়ে যাবে সহজেই। কিন্তু সীমান্তরক্ষীদের ‘থার্মাল ইমেজার’ (উন্নত নাইট-ভিশন প্রযুক্তি) ক্যামেরার চোখ এড়াতে পারেনি তারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এর যৌথ বিশেষ অভিযানে টেকনাফের জালিয়াপাড়া সীমান্ত থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামের এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাতে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপির জালিয়াপাড়া ৪ নম্বর ব্রিজের সুইচগেট এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত ইদ্রিস টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

 

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল—মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদ পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি ও এসআরবি-এর একটি বিশেষ যৌথ আভিযানিক দল কৌশলগত অবস্থান নেয় জালিয়াপাড়ার নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায়।

 

মধ্যরাত পেরিয়ে ভোররাতের দিকে দায়িত্বরত জওয়ানরা থার্মাল ইমেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখতে পান, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কয়েকজন ব্যক্তি প্লাস্টিকের বস্তা মাথায় নিয়ে সাঁতরে নাফ নদ পার হচ্ছে।

 

তারা নদীর পাড়ে কেওড়াবাগানের অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় পা রাখা মাত্রই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা বস্তাগুলো ফেলে বাগানের গহীনে পালানোর চেষ্টা করে। জওয়ানরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকেই তিনটি বড় প্যাকেটসহ ইদ্রিসকে জাপটে ধরে। তবে তার সাথে থাকা অন্য সহযোগীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কেওড়াবাগানের ভেতরে নিখোঁজ হয়ে যায়।

 

পরবর্তীতে জব্দকৃত প্যাকেটগুলো গণনা করে দেখা যায়, তার ভেতর অত্যন্ত নিখুঁত ও বিশেষভাবে মোড়কজাত করা ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ধারকৃত এই চালানের বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।

 

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিকটিকে জানান, “প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বিজিবি-এসআরবি’র যৌথ তৎপরতার কারণেই চোরাকারবারিদের এই বড় অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

 

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দকৃত ইয়াবাসহ তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।