ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিশারীঘাটে জীবন্ত ‘বারুদের স্তূপ’: রসিদহীন বাণিজ্যে লোপাট কোটি কোটি টাকা

  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 32
  • খোলা আকাশে নিচে হাজার হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ ক্ষয়ে যাওয়া সিলিন্ডার ছুড়ে ফেলছেন শ্রমিকেরা, নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা

  • ১২ কেজির সিলিন্ডারে মিলছে ৮-৯ কেজি গ্যাস, নকল হচ্ছে ব্র্যান্ডের ‘সিকিউরিটি ক্যাপ’

৫ পর্বে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ১ম পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ফিশারীঘাট মেরিন ড্রাইভ রোড সংলগ্ন জলিল নগর এলাকাটি এখন যেন এক জীবন্ত ‘বারুদের স্তূপ’।

 

দেশের প্রচলিত বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী, এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ বা বিক্রির স্থানে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র), বালুর বালতি ও পর্যাপ্ত পানি মজুদ রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সরেজমিনে জলিল নগর এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। খোলা আকাশের নিচে এবং জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার। এগুলোর বেশিরভাগেরই নিচের অংশ বা তলা সম্পূর্ণ ক্ষয়ে গেছে এবং মরিচা ধরেছে।

 

পুরো সেইডে একটিও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এখানে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শ্রমিকেরা ওপর থেকে নিচে সিলিন্ডার ছুড়ে মারছেন। লোহার সাথে লোহার এই অনবরত সংঘর্ষে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক স্পার্ক হতে পারে। লিক হওয়া গ্যাস ও এই স্পার্কের সংযোগ ঘটলে পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সাধারণত একটি সিলিন্ডারের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১৫ বছর হলেও, এই সিন্ডিকেট স্ক্র্যাপ হিসেবে বাদ দেওয়ার যোগ্য সিলিন্ডারগুলোকে সামান্য রঙ করে আবার বাজারে ছাড়ছে, যা ঘরে ঘরে ‘টাইম বোমা’র মতো ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিশারীঘাট মেরিন ড্রাইভ রোড বর্তমানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও নদীপথের সংযোগস্থল হওয়ায় গভীর রাতে এখানে ট্রাকে ও ট্রলারে করে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার এসে খালাস হয়। অতি মুনাফালোভী এই চক্রটি এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব ও অনিরাপদ ‘লোকাল সেটআপে’ এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করছে।

 

একটি বিশেষ লোহার নজল ও পাইপের সাহায্যে দুটি ১২ কেজির সিলিন্ডার যুক্ত করে একটি থেকে ৩-৪ কেজি গ্যাস অন্য খালি সিলিন্ডারে টেনে নেওয়া হয়। ওজনে যেন ধরা না পড়ে, সে জন্য সিলিন্ডারের ভেতরে হাই-প্রেসারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ পানি। এরপর স্বনামধন্য কোম্পানির হুবহু নকল ডাইস দিয়ে তৈরি প্লাস্টিকের ‘সিকিউরিটি ক্যাপ’ ও রি-সিলিং স্টিকার লাগিয়ে বাজারে তা অক্ষত সিলিন্ডার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা ১২ কেজির দাম দিলেও বাস্তবে পাচ্ছেন মাত্র ৮ থেকে ৯ কেজি গ্যাস।

 

 

এই সিন্ডিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো—এখানে কোনো ধরনের পাকা রসিদ দেওয়া হয় না। সম্পূর্ণ ভাউচার ও রসিদহীন নগদ টাকার এই অবৈধ বাণিজ্যে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স হারাচ্ছে সরকার।

 

মেরিন ড্রাইভ রোডের এক খুচরা বিক্রেতা নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রশিদ চাইলে পাইকাররা সরাসরি বলে দেয়—‘রশিদ বা ভাউচার দিলে গ্যাসের দাম আরও ২০০ টাকা বাড়বে, নিলে নেন না নিলে চলে যান’। কোনো ভাউচার ছাড়াই আমাদের ক্যাশ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার নিতে হয়। পুলিশ বা ভোক্তা অধিকার দোকানে এসে আমাদের ধরে, কিন্তু ফিশারীঘাটের এই জলিল নগরের বড় বড় পাইকারদের আড়তে তো তারা যায় না।”

 

দাম নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জলিল নগর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী ফাতেমা জোহরা বলেন, “১২ কেজির সিলিন্ডার বিইআরসি দাম বাড়ালেও বড় জোর ১৮৩৭ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের থেকে রাখা হচ্ছে ২৪৫০ টাকা। এর ওপর সিলিন্ডার বাড়ি নিয়ে গিয়ে দেখি ২০ দিনও চলে না। গ্যাসের সাথে পানি মিশিয়ে আমাদের ওজনে ঠকানো হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ তো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।”

 

এই রসিদহীন বাণিজ্যের ফাঁকফোকর দিয়ে জালিয়াতি চলার কথা স্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “আমাদের নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান চলছে। সুনির্দিষ্ট অনিয়মের দায়ে আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করছি। তবে বড় সংকট হলো চেইন অব ডকুমেন্টস বা রসিদের অভাব। ডিলারেরা বলছেন কোম্পানি ভাউচার দিচ্ছে না, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন ডিলার ভাউচার দিচ্ছে না। এই রসিদহীন বাণিজ্যের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে আমরা কঠোর হচ্ছি।

 

তবে গ্রাহক অধিকার রক্ষা কমিটি মনে করে, শুধু খুচরা পর্যায়ে জরিমানা করে এই বিশাল সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “এলপিজি খাতের এই নৈরাজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। শুধুমাত্র নিচের দিকের খুচরা দোকানে দুই-চার হাজার টাকা জরিমানা করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না। ফিশারীঘাএ মেরিন ড্রাইভ রেডের জলিল নগরের মতো অতি সুউচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও জনাকীর্ণ এলাকায় এভাবে কোনো অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া হাজার হাজার গ্যাস সিলিন্ডার রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই মূল পাইকারি পয়েন্ট এবং পতেঙ্গার বড় বড় ডিপোগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে ভাউচার ছাড়া গ্যাস বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।”

 

সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে ভোক্তা অধিকার, জেলা প্রশাসন ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সমন্বিত কঠোর তদারকি ও যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো না হলে, ফিশারীঘাটের এই কৃত্রিম সংকটের আগুন এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকি যেকোনো সময় হাজারো নিরপরাধ প্রাণ কেড়ে নিয়ে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ফিশারীঘাটে জীবন্ত ‘বারুদের স্তূপ’: রসিদহীন বাণিজ্যে লোপাট কোটি কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • খোলা আকাশে নিচে হাজার হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ ক্ষয়ে যাওয়া সিলিন্ডার ছুড়ে ফেলছেন শ্রমিকেরা, নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা

  • ১২ কেজির সিলিন্ডারে মিলছে ৮-৯ কেজি গ্যাস, নকল হচ্ছে ব্র্যান্ডের ‘সিকিউরিটি ক্যাপ’

৫ পর্বে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ১ম পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ফিশারীঘাট মেরিন ড্রাইভ রোড সংলগ্ন জলিল নগর এলাকাটি এখন যেন এক জীবন্ত ‘বারুদের স্তূপ’।

 

দেশের প্রচলিত বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী, এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ বা বিক্রির স্থানে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র), বালুর বালতি ও পর্যাপ্ত পানি মজুদ রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সরেজমিনে জলিল নগর এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। খোলা আকাশের নিচে এবং জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরের ভেতরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার। এগুলোর বেশিরভাগেরই নিচের অংশ বা তলা সম্পূর্ণ ক্ষয়ে গেছে এবং মরিচা ধরেছে।

 

পুরো সেইডে একটিও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এখানে কোনো প্রকার নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শ্রমিকেরা ওপর থেকে নিচে সিলিন্ডার ছুড়ে মারছেন। লোহার সাথে লোহার এই অনবরত সংঘর্ষে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক স্পার্ক হতে পারে। লিক হওয়া গ্যাস ও এই স্পার্কের সংযোগ ঘটলে পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সাধারণত একটি সিলিন্ডারের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১৫ বছর হলেও, এই সিন্ডিকেট স্ক্র্যাপ হিসেবে বাদ দেওয়ার যোগ্য সিলিন্ডারগুলোকে সামান্য রঙ করে আবার বাজারে ছাড়ছে, যা ঘরে ঘরে ‘টাইম বোমা’র মতো ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফিশারীঘাট মেরিন ড্রাইভ রোড বর্তমানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও নদীপথের সংযোগস্থল হওয়ায় গভীর রাতে এখানে ট্রাকে ও ট্রলারে করে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার এসে খালাস হয়। অতি মুনাফালোভী এই চক্রটি এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব ও অনিরাপদ ‘লোকাল সেটআপে’ এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করছে।

 

একটি বিশেষ লোহার নজল ও পাইপের সাহায্যে দুটি ১২ কেজির সিলিন্ডার যুক্ত করে একটি থেকে ৩-৪ কেজি গ্যাস অন্য খালি সিলিন্ডারে টেনে নেওয়া হয়। ওজনে যেন ধরা না পড়ে, সে জন্য সিলিন্ডারের ভেতরে হাই-প্রেসারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ পানি। এরপর স্বনামধন্য কোম্পানির হুবহু নকল ডাইস দিয়ে তৈরি প্লাস্টিকের ‘সিকিউরিটি ক্যাপ’ ও রি-সিলিং স্টিকার লাগিয়ে বাজারে তা অক্ষত সিলিন্ডার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা ১২ কেজির দাম দিলেও বাস্তবে পাচ্ছেন মাত্র ৮ থেকে ৯ কেজি গ্যাস।

 

 

এই সিন্ডিকেটের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো—এখানে কোনো ধরনের পাকা রসিদ দেওয়া হয় না। সম্পূর্ণ ভাউচার ও রসিদহীন নগদ টাকার এই অবৈধ বাণিজ্যে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স হারাচ্ছে সরকার।

 

মেরিন ড্রাইভ রোডের এক খুচরা বিক্রেতা নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রশিদ চাইলে পাইকাররা সরাসরি বলে দেয়—‘রশিদ বা ভাউচার দিলে গ্যাসের দাম আরও ২০০ টাকা বাড়বে, নিলে নেন না নিলে চলে যান’। কোনো ভাউচার ছাড়াই আমাদের ক্যাশ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার নিতে হয়। পুলিশ বা ভোক্তা অধিকার দোকানে এসে আমাদের ধরে, কিন্তু ফিশারীঘাটের এই জলিল নগরের বড় বড় পাইকারদের আড়তে তো তারা যায় না।”

 

দাম নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জলিল নগর এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী ফাতেমা জোহরা বলেন, “১২ কেজির সিলিন্ডার বিইআরসি দাম বাড়ালেও বড় জোর ১৮৩৭ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের থেকে রাখা হচ্ছে ২৪৫০ টাকা। এর ওপর সিলিন্ডার বাড়ি নিয়ে গিয়ে দেখি ২০ দিনও চলে না। গ্যাসের সাথে পানি মিশিয়ে আমাদের ওজনে ঠকানো হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ তো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।”

 

এই রসিদহীন বাণিজ্যের ফাঁকফোকর দিয়ে জালিয়াতি চলার কথা স্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, “আমাদের নিয়মিত বাজার তদারকি ও অভিযান চলছে। সুনির্দিষ্ট অনিয়মের দায়ে আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করছি। তবে বড় সংকট হলো চেইন অব ডকুমেন্টস বা রসিদের অভাব। ডিলারেরা বলছেন কোম্পানি ভাউচার দিচ্ছে না, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন ডিলার ভাউচার দিচ্ছে না। এই রসিদহীন বাণিজ্যের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে আমরা কঠোর হচ্ছি।

 

তবে গ্রাহক অধিকার রক্ষা কমিটি মনে করে, শুধু খুচরা পর্যায়ে জরিমানা করে এই বিশাল সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “এলপিজি খাতের এই নৈরাজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। শুধুমাত্র নিচের দিকের খুচরা দোকানে দুই-চার হাজার টাকা জরিমানা করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না। ফিশারীঘাএ মেরিন ড্রাইভ রেডের জলিল নগরের মতো অতি সুউচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও জনাকীর্ণ এলাকায় এভাবে কোনো অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া হাজার হাজার গ্যাস সিলিন্ডার রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই মূল পাইকারি পয়েন্ট এবং পতেঙ্গার বড় বড় ডিপোগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে ভাউচার ছাড়া গ্যাস বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।”

 

সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে ভোক্তা অধিকার, জেলা প্রশাসন ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সমন্বিত কঠোর তদারকি ও যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযান চালানো না হলে, ফিশারীঘাটের এই কৃত্রিম সংকটের আগুন এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকি যেকোনো সময় হাজারো নিরপরাধ প্রাণ কেড়ে নিয়ে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।