ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলের ঈশ্বরও ক্লান্ত হন: বিদায়ের মঞ্চে মেটলাইফের ‘অভিশপ্ত’ ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • 51

রাসেল  চৌধুরী

বুয়েনস আইরেস মঞ্চটা সেজেছিল এক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার জন্য। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ৮৫ হাজার দর্শকের চোখ তখন জলে ভেজা। কিন্তু সব আবেগ ছাপিয়ে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যখন লিওনেল মেসি মাইক্রোফোনটা হাতে নিলেন, তখন যেন থমকে গেল পুরো বুয়েনস আইরেস। দীর্ঘদিনের এক গুমোট নীরবতা ভেঙে, বুকের ভেতর চেপে রাখা সেই চরম সত্যটা অবশেষে বের করে আনলেন বিদায়ী মহাতারকা। কোটি ভক্তের মনে গত আড়াই মাস ধরে যে প্রশ্নটি তীরের মতো বিঁধছিল—মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই অভিশপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে আসলে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনার? ১২০ মিনিট লড়াইয়ের পরও কেন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ট্রফিটা খোয়াতে হলো? কেন চেনা ছন্দের বিন্দুমাত্র দেখাতে পারল না বিশ্বজয়ীরা? সেই ড্রেসিংরুমের গোপন দেয়াল ভেঙে সব রহস্য উন্মোচন করলেন জাদুকর।

 

 

স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে ফুটবল দুনিয়ায় নানা মুখরোচক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলেছিল । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন দাবি করছিল, ফাইনালে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে নাকি বড় কোনো ফাটল ধরেছিল।

 

নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সমাপ্তি টেনে এই সব তত্ত্ব এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেন মেসি। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর বাইরে কত রকমের মুখরোচক আর মনগড়া গল্প ছড়িয়েছে । কিন্তু ভেতরের সত্যটা খুব সাধারণ—সেদিন অলৌকিক বা অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি । আমাদের ভেতর কোনো কোন্দল ছিল না।

 

তাহলে কেন ফাইনালে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা? মেসি আঙুল তুলেছেন টুর্নামেন্টের সেই অবিশ্বাস্য মানসিক ও শারীরিক চাপের দিকে। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধ তাদের করতে হয়েছিল, তাতেই নিংড়ে গিয়েছিল দলের সবটুকু জীবনীশক্তি ।

 

মেসি অকপটে স্বীকার করেন, ফাইনালে পৌঁছানোর আগেই তাদের শরীর ও মন ক্লান্তির শেষ সীমায় গিয়ে ঠেকেছিল। মহাতারকার ভাষায়, “সর্বশেষ বিশ্বকাপে আমাদের ওপর অনেক বড় শারীরিক ও মানসিক ধকল গেছে]। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটা আমাদের জন্য ছিল প্রচণ্ড চাপের ।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানসিক ও শারীরিকভাবে আমরা আমাদের সীমার একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা আবারও পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম —কিন্তু শরীর আর সায় দেয়নি। ফুটবলের ঈশ্বরও যে রক্ত-মাংসের মানুষ, সেদিন সেটাই প্রমাণিত হয়েছিল।

 

দলের নিবেদন নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিদায়বেলায় তাদের কড়া জবাব দিয়ে সতীর্থদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই দূরদর্শী অধিনায়ক । তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রফি হাতছাড়া হলেও দলের নিবেদনে কোনো ঘাটতি ছিল না। মেসি বলেন, “আমি আমার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আমরা আমাদের ভেতরের সমস্ত শক্তি দিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি।

 

দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটানোর রাতে মেসি ভক্তদের অনুরোধ করেন, কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে যেন তারা এই তরুণ দলটির পাশে একতাবদ্ধ থাকেন । বিশ্বকাপ হারানোর সেই যন্ত্রণার ক্ষতে নিজের শেষ রাতে সত্যের প্রলেপ দিয়ে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে মাথা উঁচু করেই রাজকীয় প্রস্থান করলেন ফুটবল রাজপুত্র।

 

মেসির এই বিদায়কে ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ হিসেবে আখ্যা দিলেও, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি । ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেন পুরো ফুটবল বিশ্বের হয়েই এক আবেগঘন আত্মসমর্পণ করলেন। স্কালোনি বলেন, “যদি সব ঠিকঠাক থাকে, আমি কোচিং করিয়ে যাব। কিন্তু লিও যে উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছে, তা অবিশ্বাস্য। ফুটবল মাঠে ওর মতো আর কেউ কোনোদিন আসবে না, আমরা ওর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ ।” তবে কোচের কণ্ঠে ছিল এক বাস্তববাদী সতর্কবার্তা, “লিও ছাড়া পথ চলা ভীষণ কঠিন হতে যাচ্ছে। ও আমাদের যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, সেটা স্বাভাবিক ছিল না। সামনে কঠিন সময় আসতে পারে, তবে আমরা প্রস্তুত।

 

 

ফুটবল রাজপুত্রের প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনা ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয় ঘটল । বিদায়ের রাতেই মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতের আর্মব্যান্ডটি তুলে দিলেন দলের নতুন সেনাপতি ক্রিস্টিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোর হাতে । কোচ স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন, আগামী বিশ্বকাপ সাইকেলের জন্য আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডারই হবেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান নেতা। রোমেরোর ডেপুটি বা সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেস এবং তৃতীয় পছন্দ হিসেবে থাকবেন লাউতারো মার্টিনেস। দায়িত্ব পেয়ে রোমেরো বলেন, “মেসির জায়গা কেউ নিতে পারবে না, তবে আমাদের এই দলটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

 

 

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে রেকর্ড ২০৮টি ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি । দেশের হয়ে সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৬টি গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি । শুধু গোল করাই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৭০টি অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ডও তাঁর দখলে । সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪টি প্রধান শিরোপা জিতেছেন—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা। এছাড়াও অনূর্ধ্ব-২০ ও অলিম্পিক দলের হয়ে ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালে অলিম্পিক গোল্ড মেডেল জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী; বিশ্বকাপে দুইবার (২০১৪ ও ২০২২) গোল্ডেন বল পাওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে সিলভার বল জয়ের এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ফুটবলের ঈশ্বরও ক্লান্ত হন: বিদায়ের মঞ্চে মেটলাইফের ‘অভিশপ্ত’ ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন মেসি

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাসেল  চৌধুরী

বুয়েনস আইরেস মঞ্চটা সেজেছিল এক রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার জন্য। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ৮৫ হাজার দর্শকের চোখ তখন জলে ভেজা। কিন্তু সব আবেগ ছাপিয়ে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যখন লিওনেল মেসি মাইক্রোফোনটা হাতে নিলেন, তখন যেন থমকে গেল পুরো বুয়েনস আইরেস। দীর্ঘদিনের এক গুমোট নীরবতা ভেঙে, বুকের ভেতর চেপে রাখা সেই চরম সত্যটা অবশেষে বের করে আনলেন বিদায়ী মহাতারকা। কোটি ভক্তের মনে গত আড়াই মাস ধরে যে প্রশ্নটি তীরের মতো বিঁধছিল—মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই অভিশপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে আসলে কী হয়েছিল আর্জেন্টিনার? ১২০ মিনিট লড়াইয়ের পরও কেন স্পেনের কাছে ১-০ গোলে ট্রফিটা খোয়াতে হলো? কেন চেনা ছন্দের বিন্দুমাত্র দেখাতে পারল না বিশ্বজয়ীরা? সেই ড্রেসিংরুমের গোপন দেয়াল ভেঙে সব রহস্য উন্মোচন করলেন জাদুকর।

 

 

স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে ফুটবল দুনিয়ায় নানা মুখরোচক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলেছিল । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন দাবি করছিল, ফাইনালে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে নাকি বড় কোনো ফাটল ধরেছিল।

 

নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সমাপ্তি টেনে এই সব তত্ত্ব এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেন মেসি। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর বাইরে কত রকমের মুখরোচক আর মনগড়া গল্প ছড়িয়েছে । কিন্তু ভেতরের সত্যটা খুব সাধারণ—সেদিন অলৌকিক বা অদ্ভুত কিছুই ঘটেনি । আমাদের ভেতর কোনো কোন্দল ছিল না।

 

তাহলে কেন ফাইনালে একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা? মেসি আঙুল তুলেছেন টুর্নামেন্টের সেই অবিশ্বাস্য মানসিক ও শারীরিক চাপের দিকে। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধ তাদের করতে হয়েছিল, তাতেই নিংড়ে গিয়েছিল দলের সবটুকু জীবনীশক্তি ।

 

মেসি অকপটে স্বীকার করেন, ফাইনালে পৌঁছানোর আগেই তাদের শরীর ও মন ক্লান্তির শেষ সীমায় গিয়ে ঠেকেছিল। মহাতারকার ভাষায়, “সর্বশেষ বিশ্বকাপে আমাদের ওপর অনেক বড় শারীরিক ও মানসিক ধকল গেছে]। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটা আমাদের জন্য ছিল প্রচণ্ড চাপের ।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানসিক ও শারীরিকভাবে আমরা আমাদের সীমার একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা আবারও পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে চলে গিয়েছিলাম —কিন্তু শরীর আর সায় দেয়নি। ফুটবলের ঈশ্বরও যে রক্ত-মাংসের মানুষ, সেদিন সেটাই প্রমাণিত হয়েছিল।

 

দলের নিবেদন নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিদায়বেলায় তাদের কড়া জবাব দিয়ে সতীর্থদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই দূরদর্শী অধিনায়ক । তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রফি হাতছাড়া হলেও দলের নিবেদনে কোনো ঘাটতি ছিল না। মেসি বলেন, “আমি আমার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আমরা আমাদের ভেতরের সমস্ত শক্তি দিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি।

 

দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটানোর রাতে মেসি ভক্তদের অনুরোধ করেন, কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে যেন তারা এই তরুণ দলটির পাশে একতাবদ্ধ থাকেন । বিশ্বকাপ হারানোর সেই যন্ত্রণার ক্ষতে নিজের শেষ রাতে সত্যের প্রলেপ দিয়ে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যের চিরতরে অবসান ঘটিয়ে মাথা উঁচু করেই রাজকীয় প্রস্থান করলেন ফুটবল রাজপুত্র।

 

মেসির এই বিদায়কে ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ হিসেবে আখ্যা দিলেও, ডাগআউটে দাঁড়িয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি । ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেন পুরো ফুটবল বিশ্বের হয়েই এক আবেগঘন আত্মসমর্পণ করলেন। স্কালোনি বলেন, “যদি সব ঠিকঠাক থাকে, আমি কোচিং করিয়ে যাব। কিন্তু লিও যে উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছে, তা অবিশ্বাস্য। ফুটবল মাঠে ওর মতো আর কেউ কোনোদিন আসবে না, আমরা ওর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ ।” তবে কোচের কণ্ঠে ছিল এক বাস্তববাদী সতর্কবার্তা, “লিও ছাড়া পথ চলা ভীষণ কঠিন হতে যাচ্ছে। ও আমাদের যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, সেটা স্বাভাবিক ছিল না। সামনে কঠিন সময় আসতে পারে, তবে আমরা প্রস্তুত।

 

 

ফুটবল রাজপুত্রের প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনা ফুটবলে এক নতুন সূর্যোদয় ঘটল । বিদায়ের রাতেই মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতের আর্মব্যান্ডটি তুলে দিলেন দলের নতুন সেনাপতি ক্রিস্টিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোর হাতে । কোচ স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন, আগামী বিশ্বকাপ সাইকেলের জন্য আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডারই হবেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান নেতা। রোমেরোর ডেপুটি বা সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেস এবং তৃতীয় পছন্দ হিসেবে থাকবেন লাউতারো মার্টিনেস। দায়িত্ব পেয়ে রোমেরো বলেন, “মেসির জায়গা কেউ নিতে পারবে না, তবে আমাদের এই দলটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

 

 

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে রেকর্ড ২০৮টি ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি । দেশের হয়ে সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৬টি গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি । শুধু গোল করাই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৭০টি অ্যাসিস্ট করার অনন্য রেকর্ডও তাঁর দখলে । সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪টি প্রধান শিরোপা জিতেছেন—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা। এছাড়াও অনূর্ধ্ব-২০ ও অলিম্পিক দলের হয়ে ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ সালে অলিম্পিক গোল্ড মেডেল জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী; বিশ্বকাপে দুইবার (২০১৪ ও ২০২২) গোল্ডেন বল পাওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে সিলভার বল জয়ের এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি।