নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের মানুষ আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের স্থান বাংলার মাটিতে দেবে না। অতীতে যারা ক্ষমতার দাপটে নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, জনগণ তাদের চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন আমাদের মূল কাজ হিংসা বা প্রতিহিংসা নয়, বরং কাজের মাধ্যমে মানুষের ঘরে ঘরে শান্তি ও স্বস্তি পৌঁছে দেওয়া।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হালিশহর নয়াবাজার মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান । ‘আওয়ামী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এই সমাবেশের আয়োজন করে ।
সমাবেশে প্রধান বক্তা ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান । সমাবেশটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্য মোশাররফ হোসেন ডিপ্টি।
বক্তব্য দিতে গিয়ে সাঈদ আল নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নয়াবাজার মোড়েই একদিন ফ্যাসিস্টরা আমার বাবা, চট্টগ্রামের জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম কণ্ডারী আবদুল্লাহ আল নোমানের ওপর বর্বর আক্রমণ চালিয়েছিল । কিন্তু আমরা সেই অন্যায়ের জবাব প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ দিয়ে দিতে চাই না । আমাদের লড়াই হবে কাজের মাধ্যমে, মানুষের সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
দেশের বর্তমান নাজুক ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন ঘরে ঘরে মানুষ অসুস্থ। রাজনীতি মানেই মানুষের সেবা করা, এটি একটি ইবাদত। তাই কোনো কোন্দলে না জড়িয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের এখনই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মানবিক কাজে নেমে পড়তে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম এবং আহমদুল আলম রাসেল ]। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জনগণের বিশাল সমর্থন নিয়ে গঠিত সরকারের প্রধান দায়িত্বই হচ্ছে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা ]। এছাড়া বিভাগীয় শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস ও সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন, সদস্য আবুল হাশেম, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, পাহাড়তলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী বাবুল হক, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জিয়া এবং হালিশহর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নয়াবাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে সাগরিকা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।













