চট্টগ্রাম জেলায় এবার ২২৮৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, গুজব রুখতে কাজ করবে সাইবার ইউনিট
তৈয়ব চৌধুরী, চট্টগ্রাম
শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিরন্তন চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বের কাছে দেখাতে চাই, এই দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সম্প্রদায়, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী নিরাপদ। তারা নিরাপদে বসবাস করে, নিরাপদে তাদের উৎসব পালন করে।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
একই সঙ্গে দুর্গোৎসব ঘিরে যেকোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বৃহৎ উৎসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। তাই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, এবার মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের কোনো তৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং সাইবার জগতের ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে। কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোকে দ্রুত প্রকৃত ও সত্য তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা গুজবকে এবারের উৎসবের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গুজব ও অপতথ্য শনাক্তে পুলিশের বিশেষ সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
এ সময় তিনি প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবকদের রোস্টার করে দায়িত্ব দেওয়া এবং তাঁদের সহজে শনাক্ত করার জন্য আলাদা পোশাক, কটি বা আর্মব্যান্ড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার পূজা কমিটিগুলোকে স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা ও মুঠোফোন নম্বর দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার তাগিদ দেন। একই সাথে মণ্ডপের কমিটি বা জায়গা-জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা পূজার আগেই মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিমা তৈরি ও পরিবহন থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সম্ভব হলে দিনের আলোয় প্রতিমা মণ্ডপে আনা এবং সূর্যাস্তের আগেই বিসর্জন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। বিসর্জনে ব্যবহৃত যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্যও সভায় তাগিদ দেওয়া হয়।
উদারতার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আমাদের মনটা একটু বড় করতে হবে। আমরা যদি মনটাকে বড় করতে না পারি, তাহলে আমাদের পরের প্রজন্ম কী শিখবে? আমরা চাই না, এই উৎসবের আনন্দের মধ্যে কোনো বিষাদ আসুক।’ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।













