ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে নতুন পথের দাগ কেটে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 55
  • ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাষ্ট্র মেরামতের ‘থ্রি-আর’ রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন

  • ৪ দিনের ঝটিকা সফরে ১১ দেশের শীর্ষনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও ৩১টি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচি সম্পন্ন

  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত চুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগীদের বড় আশ্বাসে ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই আর দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের নতুন অগ্রযাত্রার বারতা বিশ্বমঞ্চে খোদাই করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ঐতিহাসিক পর্ব শেষ করে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের নিয়মিত দূরপাল্লার ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে ফেরা সরকারপ্রধানকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এক উষ্ণ ও প্রটোকলভিত্তিক অভ্যর্থনা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই নিউইয়র্ক সফর কেবল একটি চিরাচরিত বৈশ্বিক অধিবেশনে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা ছিল চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণের এক মহাপরীক্ষা। মাত্র ৪ দিনের এক নিশ্ছিদ্র ও নিবিড় কর্মসূচির ভেতর দিয়ে তিনি বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুনর্বিন্যাস করেছেন।

 

সফরকালে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের সাইডলাইনে উচ্চপর্যায়ের ৪টি অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে সব মিলিয়ে প্রায় ৩১টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

 

এই সফরের সবচেয়ে বড় মাইলফলক ছিল গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (১৯৮০) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯৩) পর এই প্রথম জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর অংশীদারিত্ব কামনা করেন তিনি।

 

একই সাথে, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘টাইম বোম্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে এর স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁর সোচ্চার কণ্ঠ বিশ্বনেতাদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও এই সফর বাংলাদেশকে বড় ধরনের চালকের আসনে বসিয়েছে। ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে বড় ধরনের বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে সফর চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মহাকাশ ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলগত সহযোগিতা এবং বোয়িং থেকে নতুন বিমান ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো ঢাকার নতুন কূটনীতির বহুমাত্রিকতারই প্রমাণ দেয়।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম জাতিসংঘ সফর বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বৈধতা, স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের সপক্ষে এক বিশাল প্রত্যয়নপত্র হিসেবে কাজ করবে। ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে তিনি যেভাবে বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও সাহায্য সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জন করেছেন, তা আগামী দিনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বমঞ্চে নতুন পথের দাগ কেটে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৮:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাষ্ট্র মেরামতের ‘থ্রি-আর’ রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন

  • ৪ দিনের ঝটিকা সফরে ১১ দেশের শীর্ষনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও ৩১টি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কর্মসূচি সম্পন্ন

  • যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত চুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগীদের বড় আশ্বাসে ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই আর দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের নতুন অগ্রযাত্রার বারতা বিশ্বমঞ্চে খোদাই করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ঐতিহাসিক পর্ব শেষ করে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের নিয়মিত দূরপাল্লার ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে ফেরা সরকারপ্রধানকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এক উষ্ণ ও প্রটোকলভিত্তিক অভ্যর্থনা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই নিউইয়র্ক সফর কেবল একটি চিরাচরিত বৈশ্বিক অধিবেশনে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং তা ছিল চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণের এক মহাপরীক্ষা। মাত্র ৪ দিনের এক নিশ্ছিদ্র ও নিবিড় কর্মসূচির ভেতর দিয়ে তিনি বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুনর্বিন্যাস করেছেন।

 

সফরকালে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের সাইডলাইনে উচ্চপর্যায়ের ৪টি অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে সব মিলিয়ে প্রায় ৩১টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

 

এই সফরের সবচেয়ে বড় মাইলফলক ছিল গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল মঞ্চে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (১৯৮০) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯৩) পর এই প্রথম জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কার্যকর অংশীদারিত্ব কামনা করেন তিনি।

 

একই সাথে, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘টাইম বোম্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে এর স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁর সোচ্চার কণ্ঠ বিশ্বনেতাদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও এই সফর বাংলাদেশকে বড় ধরনের চালকের আসনে বসিয়েছে। ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে বড় ধরনের বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে সফর চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মহাকাশ ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কৌশলগত সহযোগিতা এবং বোয়িং থেকে নতুন বিমান ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো ঢাকার নতুন কূটনীতির বহুমাত্রিকতারই প্রমাণ দেয়।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম জাতিসংঘ সফর বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বৈধতা, স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের সপক্ষে এক বিশাল প্রত্যয়নপত্র হিসেবে কাজ করবে। ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে তিনি যেভাবে বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও সাহায্য সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জন করেছেন, তা আগামী দিনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।