জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর এবার ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; একই অধিবেশনে সভাপতির আসনেও অন্য এক বাংলাদেশি
বিশেষ প্রতিনিধি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একই পরিবারের ৩ জন সদস্যের বা তিন প্রজন্মের ভাষণ দেওয়ার এক বিরল ও ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশের জিয়া পরিবার ।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে ৪৬ বছরের এই অনন্য রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো । বিশ্বনেতাদের ইতিহাসে একই পরিবারের এভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনা অত্যন্ত গৌরবের ও বিরল।
১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জিয়া পরিবারের প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল । এরপর তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিক অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। চার দশক পর, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূলমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁর ঐতিহাসিক প্রথম ভাষণ দিতে যাচ্ছেন, যা একই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের অনন্য নজির ।
বজাতিসংঘে বাংলাদেশের ইতিহাস ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথা অনুযায়ী সম্পূর্ণ বাংলায় তাঁর রাষ্ট্রীয় বক্তব্য প্রদান করবেন । এবারের ৮১তম session বা অধিবেশনটি বাংলাদেশের কূটনীতির ইতিহাসে দ্বিগুণ গৌরবের। কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন স্বয়ং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনটির সভাপতির আসনে রয়েছেন আরেকজন বাংলাদেশি—বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ।
একই সময়ে একজন বাংলাদেশির সভাপতিত্বে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার ঘটনা বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের ভাষণে বাংলাদেশের নতুন ভিশন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং সমসাময়িক বহুমাত্রিক বৈশ্বিক সংকটগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। তিনি মূলত জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।
বিশেষ করে, বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই, নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাবেন এবং সুনির্দিষ্ট জরুরি প্রস্তাবনা পেশ করবেন। এর পাশাপাশি নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্পন্ন করেছেন।
জিয়া পরিবারের এই তিন প্রজন্মের বিশ্বমঞ্চে আরোহণের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার এক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।













