ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মূল্যস্ফীতি বনাম বিনিয়োগের টানাপোড়েন: আজ আসছে দেশের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি

  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 61

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে পণ্যের লাগামহীন দাম আর সাধারণ মানুষের পকেটের টান—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আজ এক ঐতিহাসিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রচলিত ছয় মাস মেয়াদি প্রথা ভেঙে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রেসক্রিপশন ও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার তাগিদে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন মাস বা ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতির নতুন অধ্যায় ।

 

আজ বুধবার বিকেল ৩টায় অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এই নতুন পথনকশা উন্মোচন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

 

এবারের মুদ্রানীতির মূল চ্যালেঞ্জটা বেশ জটিল—একদিকে নিত্যপণ্যের চড়া বাজারকে শান্ত করা, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়া বেসরকারি খাতে ঋণের চাকা সচল করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকেরা এখন এমন এক সুতার ওপর হাঁটছেন, যার একপাশে মূল্যস্ফীতি কমানোর চাপ, অন্যপাশে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব দূর করার তাগিদ।

 

সাধারণ মানুষের প্রধান স্বস্তি লুকিয়ে আছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে । আগস্টে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮.২৬ শতাংশে নামলেও সাধারণ ভোক্তার জন্য তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা যেখানে সাড়ে ৭ শতাংশ, সেখানে নতুন এই তিন মাসের নীতি কীভাবে বাজারকে সাধারণের নাগালের মধ্যে আনে, সেটাই বড় দেখার বিষয়।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে কিংবা ব্যাংকিং খাতে তারল্য বা নগদ টাকার কোনো সংকট নেই। কিন্তু মুশকিল হলো, উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন না। গত জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি রেকর্ড কমে ৪.৬২ শতাংশে ঠেকেছে। উচ্চ সুদের হার আর বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগে নামতে ভয় পাচ্ছেন । উৎপাদনশীল খাতকে চাঙ্গা করতে এই নীতিতে নতুন কোনো প্রণোদনা বা কৌশল থাকে কি না, তা নিয়ে উদগ্রীব ব্যবসায়িক মহল।

 

গত আগস্টে নীতি সুদহার সামান্য কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর মুদ্রানীতি কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এটিকে আর কমানো হয়নি। আজকের ঘোষণায় কি সুদের হার এই সাড়ে ৯ শতাংশেই আটকে থাকবে, নাকি মূল্যস্ফীতি থামাতে আবারও কঠোর করা হবে—ব্যাংকারদের টেবিলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, মুদ্রানীতি ঘনঘন পরিবর্তন বা তিন মাস পর পর করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা। কারণ, কেবল কাগজের নীতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা বেসরকারি খাতে জোয়ার আনা সম্ভব নয়, যদি না দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়।

 

আজকের এই নীতি ঘোষণার পর দেশের ব্যাংকিং খাত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে এর কী প্রভাব পড়বে, তা জানতে চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মূল্যস্ফীতি বনাম বিনিয়োগের টানাপোড়েন: আজ আসছে দেশের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে পণ্যের লাগামহীন দাম আর সাধারণ মানুষের পকেটের টান—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আজ এক ঐতিহাসিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রচলিত ছয় মাস মেয়াদি প্রথা ভেঙে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রেসক্রিপশন ও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার তাগিদে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন মাস বা ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতির নতুন অধ্যায় ।

 

আজ বুধবার বিকেল ৩টায় অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য এই নতুন পথনকশা উন্মোচন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।

 

এবারের মুদ্রানীতির মূল চ্যালেঞ্জটা বেশ জটিল—একদিকে নিত্যপণ্যের চড়া বাজারকে শান্ত করা, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়া বেসরকারি খাতে ঋণের চাকা সচল করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকেরা এখন এমন এক সুতার ওপর হাঁটছেন, যার একপাশে মূল্যস্ফীতি কমানোর চাপ, অন্যপাশে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব দূর করার তাগিদ।

 

সাধারণ মানুষের প্রধান স্বস্তি লুকিয়ে আছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে । আগস্টে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮.২৬ শতাংশে নামলেও সাধারণ ভোক্তার জন্য তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা যেখানে সাড়ে ৭ শতাংশ, সেখানে নতুন এই তিন মাসের নীতি কীভাবে বাজারকে সাধারণের নাগালের মধ্যে আনে, সেটাই বড় দেখার বিষয়।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে কিংবা ব্যাংকিং খাতে তারল্য বা নগদ টাকার কোনো সংকট নেই। কিন্তু মুশকিল হলো, উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন না। গত জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি রেকর্ড কমে ৪.৬২ শতাংশে ঠেকেছে। উচ্চ সুদের হার আর বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগে নামতে ভয় পাচ্ছেন । উৎপাদনশীল খাতকে চাঙ্গা করতে এই নীতিতে নতুন কোনো প্রণোদনা বা কৌশল থাকে কি না, তা নিয়ে উদগ্রীব ব্যবসায়িক মহল।

 

গত আগস্টে নীতি সুদহার সামান্য কমিয়ে ৯.৫০ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে ২৩ সেপ্টেম্বর মুদ্রানীতি কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এটিকে আর কমানো হয়নি। আজকের ঘোষণায় কি সুদের হার এই সাড়ে ৯ শতাংশেই আটকে থাকবে, নাকি মূল্যস্ফীতি থামাতে আবারও কঠোর করা হবে—ব্যাংকারদের টেবিলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, মুদ্রানীতি ঘনঘন পরিবর্তন বা তিন মাস পর পর করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা। কারণ, কেবল কাগজের নীতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা বেসরকারি খাতে জোয়ার আনা সম্ভব নয়, যদি না দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থায় দৃশ্যমান উন্নতি হয়।

 

আজকের এই নীতি ঘোষণার পর দেশের ব্যাংকিং খাত এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে এর কী প্রভাব পড়বে, তা জানতে চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।