বিশেষ প্রতিবেদক
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়াল দেওয়া কার্গো বিমানটি কাজাখস্তান ও আফগানিস্তানের আকাশসীমা পেরিয়ে যখনই উপমহাদেশীয় আকাশসীমায় প্রবেশের মুখে, ঠিক তখনই থমকে যায় সব আয়োজন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ‘গ্রিন করিডোর’ প্রস্তুত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানা গেল, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্লিয়ারেন্স মেলেনি। ফলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত প্রথম দফার ইউরেনিয়াম চালানটি যথাসময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে যখন নানা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন ডালপালা মেলছিল, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ঢাকাঞ্ছিত পাকিস্তান হাইকমিশন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে হাইকমিশন থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় জানানো হয়, এই ঘটনা কোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েন বা কূটনৈতিক শীতলতার বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি একান্তই একটি ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ বিষয়।
পাকিস্তানের দাবি, পারমাণবিক জ্বালানির মতো সংবেদনশীল কূটনৈতিক ওভারফ্লাইট ও বিশেষ কার্গো ফ্লাইটগুলোর রুট অনুমোদনের জন্য তাদের নিজস্ব সিভিল এভিয়েশন প্রোটোকল ও নির্দিষ্ট রেগুলেটরি নির্দেশিকা রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রমিত নীতিমালা ও অভ্যন্তরীণ প্রসেসিং সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়, যা কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আনে। বিষয়টিকে কোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে না দেখে খাঁটি যান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। তারা আরও স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে জানান, “কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে এই জ্বালানি আসার রুটটি নির্ধারিত। এর আগে যেহেতু পাকিস্তান নিয়মিত ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে, তাই এবারও তারা অনুমোদন দেবে। হয়তো মাঝে কোনো প্রক্রিয়াগত ঘাটতি ছিল।
সরকার এই সাময়িক বিলম্ব নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগের কারণ দেখছে না বলে আশ্বস্ত করেছে।
এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের মতো দ্বিতীয় ইউনিটের জন্যও মোট সাতটি চালানে এই পারমাণবিক জ্বালানি আসার কথা রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি বিবেচনায় রুট পুনর্নির্ধারণ ও নতুন সময়সূচি প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পর্যায়ক্রমে ইউরেনিয়ামের চালানগুলো দেশে পৌঁছাতে শুরু করবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ সবকটি চালান সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
২৪ শত মেগাওয়াটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এই সাময়িক আকাশসীমা জটিলতার কারণে ব্যাহত হবে না এবং মূল লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই প্রকল্প এগিয়ে চলেছে বলে রসাটম ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের যৌথ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।













