ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • 33

আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগসাজশে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা, দাবি ডিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া।

 

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ডিবির একাধিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের হেফাজতে নেয়।

 

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছিল।

 

ডিবি কর্মকর্তাদের দাবি, দেশে একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছিল। এই লক্ষে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতার সঙ্গে কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার নিয়মিত যোগাযোগ ও গোপন যোগসাজশ ছিল। ডিবির একটি সূত্র জানায়, প্রথমে গুলশান আরাকে আটকের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাতেই কর্নেল দেবাশীষের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় ব্যবহৃত একাধিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এই ডিভাইসগুলো থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও উসকানিমূলক কনটেন্ট, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কুশীলবদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের স্ক্রিনশট এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনার খসড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বর্তমানে সাইবার ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বর্তমানে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই দেশবিরোধী চক্রের পেছনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে আর কারা জড়িত এবং এর অর্থায়নের প্রধান প্রধান উৎসগুলো কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

ডিবি সূত্রে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দুপুরের পরই আসামিদের ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করা এবং বাকি আলামত উদ্ধারের স্বার্থে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানাবে। এই ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বিশেষ করে কূটনৈতিক এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীতে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন যোগসাজশে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা, দাবি ডিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া।

 

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ডিবির একাধিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের হেফাজতে নেয়।

 

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছিল।

 

ডিবি কর্মকর্তাদের দাবি, দেশে একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছিল। এই লক্ষে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু নেতার সঙ্গে কাজী গুলশান আরা ও দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার নিয়মিত যোগাযোগ ও গোপন যোগসাজশ ছিল। ডিবির একটি সূত্র জানায়, প্রথমে গুলশান আরাকে আটকের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাতেই কর্নেল দেবাশীষের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় ব্যবহৃত একাধিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এই ডিভাইসগুলো থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও উসকানিমূলক কনটেন্ট, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কুশীলবদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের স্ক্রিনশট এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনার খসড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বর্তমানে সাইবার ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বর্তমানে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই দেশবিরোধী চক্রের পেছনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে আর কারা জড়িত এবং এর অর্থায়নের প্রধান প্রধান উৎসগুলো কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

ডিবি সূত্রে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দুপুরের পরই আসামিদের ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করা এবং বাকি আলামত উদ্ধারের স্বার্থে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানাবে। এই ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বিশেষ করে কূটনৈতিক এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।