রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রেলওয়ে স্টেশনে একটি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত, যা এখন পালটাপালটি হুমকি এবং এলাকাছাড়া করার প্রকাশ্য হুশিয়ারিতে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ঘটনার সূত্রপাত রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টেশনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ওই সময় উপস্থিত একদল শিক্ষার্থী বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করে। বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই ঘটনার নেপথ্যে উসকানি দিয়েছে ছাত্রশিবির।
এই ঘটনার পর রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির এক সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রাজশাহীছাড়া করার হুঁশিয়ারি দেন। শিবিরের এই আলটিমেটাম রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
শিবিরের এমন বক্তব্যের জবাবে মাঠে নেমেছে মহানগর ছাত্রদল। তারা এই হুঁশিয়ারির তীব্র নিন্দা জানিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ মাঠেই কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াত-শিবির শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তারা রাজশাহীর শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী স্টেশনের তাণ্ডবে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে শিবিরের নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ছাত্রশিবিরের সভাপতির বক্তব্যের ভাষা আরও মার্জিত ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর এই পালটাপালটি অবস্থানের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।













