ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর চোখে নিরাপদ সড়ক: চট্টগ্রামের ট্রাফিক পুলিশের অভিনব পাঠশালা

  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 35

Oplus_16908288

  • হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে ট্রাফিক পুলিশের ব্যতিক্রমী সচেতনতা কর্মসূচি; মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের

তৈয়ব চৌধুরী, চট্টগ্রাম

 

রাস্তা পার হতে হলে ডানে-বামে দেখতে হবে, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হাঁটতে হবে’—ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার মুখে এমন সহজ পাঠ শুনে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছোট্ট মারুফ। ট্রাফিক আইন মানেই যে শুধু মামলা বা জরিমানা নয়, বরং এটি যে জীবন বাঁচানোর এক সহজ নিয়ম—তা আজ হাতেনাতে শিখল চট্টগ্রামের দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিশু।

 

শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি এবং নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ে এই শিশুবান্ধব ও প্রাণবন্ত সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আজকের এই আয়োজনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), টি.আই (প্রশাসন) এবং হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি জোনের ট্রাফিক সদস্যরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে শিশুদের মুখোমুখি হন। ইউনিফর্ম পরা পুলিশ অফিসারদের এত কাছে পেয়ে প্রথমে কিছুটা সংকুচিত হলেও, তাদের আন্তরিক আচরণে দ্রুতই সহজ হয়ে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

 

কর্মসূচিতে কোনো আনুষ্ঠানিক বা গুরুগম্ভীর বক্তব্য ছিল না। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা শিশুদের বয়স উপযোগী সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় গল্পে গল্পে সড়ক নিরাপত্তার নানা দিক তুলে ধরেন। কীভাবে ফুটপাত ব্যবহার করতে হয়, ট্রাফিক সিগন্যাল কীভাবে কাজ করে এবং জেব্রা ক্রসিং কেন ব্যবহার করা জরুরি—তা প্র্যাক্টিক্যালি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সচেতনতামূলক রঙিন লিফলেট, যাতে তারা এই বার্তা নিজেদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছেও পৌঁছে দিতে পারে।

কেবল সড়কের নিয়মই নয়, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে নৈতিকতার পাঠও দেওয়া হয় এই কর্মসূচিতে। ট্রাফিক কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের বড় সংকট—অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনের ব্যবহার পরিহার করে মাঠের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে মন দেওয়ার জন্য শিশুদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।

 

পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সাধারণত ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তায় ডিউটি করতেই দেখি। কিন্তু তারা যে আমাদের সন্তানদের সুরক্ষায় স্কুলে এসে এভাবে শেখাবেন, তা ভাবিনি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ছোটবেলা থেকে এই ধরনের শিক্ষা পেলে শিশুরা বড় হয়ে আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সাথে পুলিশের এই আন্তরিকতা সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মনে সচেতনতার বীজ বপন করে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠন করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জেলা পুলিশের এই জনকল্যাণমূলক ও ব্যতিক্রমী কার্যক্রম আগামীতেও জেলার প্রতিটি অঞ্চলে অব্যাহত থাকবে।

৫০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শিশুর চোখে নিরাপদ সড়ক: চট্টগ্রামের ট্রাফিক পুলিশের অভিনব পাঠশালা

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

  • হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে ট্রাফিক পুলিশের ব্যতিক্রমী সচেতনতা কর্মসূচি; মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের

তৈয়ব চৌধুরী, চট্টগ্রাম

 

রাস্তা পার হতে হলে ডানে-বামে দেখতে হবে, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হাঁটতে হবে’—ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার মুখে এমন সহজ পাঠ শুনে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছোট্ট মারুফ। ট্রাফিক আইন মানেই যে শুধু মামলা বা জরিমানা নয়, বরং এটি যে জীবন বাঁচানোর এক সহজ নিয়ম—তা আজ হাতেনাতে শিখল চট্টগ্রামের দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিশু।

 

শিশুদের নিরাপদ সড়ক চলাচল নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি এবং নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাফিক পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী হাটহাজারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ে এই শিশুবান্ধব ও প্রাণবন্ত সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আজকের এই আয়োজনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক), টি.আই (প্রশাসন) এবং হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি জোনের ট্রাফিক সদস্যরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে শিশুদের মুখোমুখি হন। ইউনিফর্ম পরা পুলিশ অফিসারদের এত কাছে পেয়ে প্রথমে কিছুটা সংকুচিত হলেও, তাদের আন্তরিক আচরণে দ্রুতই সহজ হয়ে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

 

কর্মসূচিতে কোনো আনুষ্ঠানিক বা গুরুগম্ভীর বক্তব্য ছিল না। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা শিশুদের বয়স উপযোগী সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় গল্পে গল্পে সড়ক নিরাপত্তার নানা দিক তুলে ধরেন। কীভাবে ফুটপাত ব্যবহার করতে হয়, ট্রাফিক সিগন্যাল কীভাবে কাজ করে এবং জেব্রা ক্রসিং কেন ব্যবহার করা জরুরি—তা প্র্যাক্টিক্যালি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সচেতনতামূলক রঙিন লিফলেট, যাতে তারা এই বার্তা নিজেদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছেও পৌঁছে দিতে পারে।

কেবল সড়কের নিয়মই নয়, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে নৈতিকতার পাঠও দেওয়া হয় এই কর্মসূচিতে। ট্রাফিক কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের বড় সংকট—অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনের ব্যবহার পরিহার করে মাঠের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে মন দেওয়ার জন্য শিশুদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।

 

পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। ধুরং খুলশী লায়নস উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সাধারণত ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তায় ডিউটি করতেই দেখি। কিন্তু তারা যে আমাদের সন্তানদের সুরক্ষায় স্কুলে এসে এভাবে শেখাবেন, তা ভাবিনি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ছোটবেলা থেকে এই ধরনের শিক্ষা পেলে শিশুরা বড় হয়ে আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সাথে পুলিশের এই আন্তরিকতা সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মনে সচেতনতার বীজ বপন করে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক সমাজ গঠন করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জেলা পুলিশের এই জনকল্যাণমূলক ও ব্যতিক্রমী কার্যক্রম আগামীতেও জেলার প্রতিটি অঞ্চলে অব্যাহত থাকবে।