শ্রম আইনকে বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোরালো ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি মেহনতি শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও মেহনতি মানুষকে তাঁদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের মতো মৌলিক অধিকারের জন্য রাজপথে লড়াই করতে হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চট্টগ্রামের স্টেশন রোডস্থ হোটেল এশিয়ান এসআর-এর মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণ এই সংসদ সদস্য দেশের শিল্প খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের অর্থনীতি টিকে আছে শ্রমিকের ঘামে। কোনো একক পক্ষকে বাদ দিয়ে বা শ্রমিকদের বঞ্চিত করে শিল্পের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপরেই একটি দেশের টেকসই অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকে।
কনভেনশনে উপস্থিত শ্রমিক প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে সাঈদ আল নোমান প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং প্রচলিত শ্রম আইনকে পুরোপুরি যুগোপযোগী ও বৈষম্যহীন করতে আমি জাতীয় সংসদ ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি কথা বলব। স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে আসা শ্রমিকদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি যেন আইনি কাঠামোতে রূপ নেয়, তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে জোরালো ভূমিকা রাখব।
কনভেনশনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও কারখানা থেকে আসা শ্রমিক নেতারা দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকর ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাকবলিত শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (আইএলও কনভেনশন ১২১) অনুযায়ী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন পূর্ণ সুবিধা এবং স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়।
সাঈদ আল নোমানের এই বলিষ্ঠ সংহতি প্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, নীতিনির্ধারকেরা যদি এভাবে মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ান, তবে দেশের শিল্প খাতে বৈষম্য দূর করা সম্ভব। দিনব্যাপী চলা এই কনভেনশন আগামী দিনের শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের একগুচ্ছ আঞ্চলিক সুপারিশমালা ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।













